Home | ফটো সংবাদ | সড়ক পরিবহন আইন গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফিরবে তা নিয়ে সন্দেহ রিজভীর

সড়ক পরিবহন আইন গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফিরবে তা নিয়ে সন্দেহ রিজভীর

স্টাফ রির্পোটার : মন্ত্রিসভায় অনুমোদন দেয়া সড়ক পরিবহন আইন গণপরিবহনে সুশৃঙ্খল পরিবেশ ফিরিয়ে আসবে কি না তা নিয়ে সন্দেহ করেছেন বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ‘এ আইন নিরাপদ সড়কের জন্য পর্যাপ্ত নয়।’

মন্ত্রিসভার বৈঠকে বহুল আলোচিত এই আইনটির খসড়া অনুমোদন করার পরদিন নয়াপল্টনে দলের কার্যালয়ে নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ কথা বলে রিজভী।

চালকের অবহেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় কারও মৃত্যু হলে সর্বোচ্চ সাজা পাঁচ বছরের কারাদণ্ড আর জরিমানার বিধান রেখে গতকাল সড়ক পরিবহন আইনের খসড়ায় চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা। তবে সর্বোচ্চ জরিমানা কত হবে, সে বিষয়ে কোনো কিছু বলা হয়নি।

বেপরোয়া যান চলাচল বা অবহেলায় শাস্তি হিসেবে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হলেও অনুমোদন করা খসড়ায় মৃত্যুদণ্ডেরও সুযোগ থাকছে যদি গাড়িচাপা দিয়ে ইচ্ছা করে কাউকে হত্যা করা হয়।

সড়ক পরিবহন আইনের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, ‘গতকাল তড়িঘড়ি করে মন্ত্রিপরিষদে সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ খসড়া অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। প্রস্তাবিত সড়ক পরিবহন আইন দুর্বৃত্ত ও গডফাদাররা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকবে। এটি একটি শুভঙ্করের ফাঁকি। যদিও এ আইন আদৌ সংসদে পাস হবে কি না তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন নাগরিকরা।’

বিএনপি নেতা বলেন, ‘এ আইন নিরাপদ সড়কের জন্য পর্যাপ্ত নয়। এ আইন গণপরিবহনে নিরাপত্তা ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ ফিরিয়ে আসবে কি না তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।’

নিরাপদ সড়কের দাবিতে কয়েকদিন ধরে রাজপথে আন্দোলন করা শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশ-ছাত্রলীগ-যুবলীগ ও আওয়ামী লীগ হামলা করেছে এমন দাবি করে রিজভী বলেন, ‘কয়েকদিন ধরে যেভাবে শিক্ষার্থীদের ওপর, সাংবাদিকদের ওপর পুলিশের পাশাপাশি ছাত্রলীগ-যুবলীগ সশস্ত্র অবস্থায় হামলা করেছে তা দেখে দেশের মানুষ হতভম্ব। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ওপর বর্বর ও নিষ্ঠুর হামলায় ঘটনায় আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানসহ সারা বিশ্বে নিন্দার ঝড় বইছে। পুলিশ হলো আইনের রক্ষক, তাদের পাশে এসব অস্ত্রধারীরা। পুলিশ অস্ত্রধারীদের সহযোগী হিসেবে কাজ করছে এমন দৃশ্য কি কোনো স্বাধীন দেশে চিন্তা করা যায়? এটা ভোটারবিহীন সরকারের চরমনিষ্ঠুরতার বহিঃপ্রকাশ।’

‘পুলিশের সহযোগিতায় সরকারি দলের হামলাকারীদের হিংস্রতা তীব্র রূপ ধারণ করেছে। গত পরশুও তো ধানমন্ডিতে পুলিশ ছাত্রলীগ ও যুবলীগ শিক্ষার্থীদের ওপর বর্বর হামলা ও নির্যাতন চালিয়েছে।’

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে উস্কানিদাতা হিসেবে দলের সিনিয়র নেতাদের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সরকার উস্কানির কথা বলে মামলা দিয়েছে বিএনপির মহাসচিবসহ সিনিয়র নেতাদের নামে। বিএনপি কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ন্যায্য আন্দোলনে সমর্থন দিয়েছে। সমর্থন দিয়েছে সকল রাজনৈতিক দলসহ সর্বস্তরের মানুষ। প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের মন্ত্রী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলেছেন কোমলমতি শিক্ষার্থীরা সরকারের ভুল ধরিয়ে দিয়েছে। আপনারা তাদের সাধুবাদ জানালেন- এ কথা যদি উস্কানির পর্যায়ের না পড়ে তাহলে বিএনপি কোথায় উস্কানি দিল? কিন্তু মামলা দেওয়া হলো বিএনপি নেতাদের নামে।’

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘আলোকচিত্রী ও দৃক গ্যালারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শহিদুল আলমকে তার ধানমন্ডির বাসা থেকে অপহরণ করে কয়েক ঘন্টা গুম রাখার পর গ্রেপ্তার দেখানো হয় এবং জিজ্ঞাসাবাদের নামে শারীরিক নির্যাতন করা হয়। তাকে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। ভোটারবিহীন অবৈধ সরকারের হাতে এখন আর কেউ নিরাপদ নয়।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

রানীশংকৈলে ভাঙা কালভার্টে মরণফাঁদ

ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈলে ভাঙা কালভার্টে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে পথচারীদের। এটি উপজেলার ...

সকলের সহযোগিতার পেলে মাদক নির্মুল করা সম্ভব -ওসি এসএম জাহিদ ইকবাল

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার ইএসডিও প্রকল্পের আয়োজনে মাদক হ্রাস, আইনশৃংখলা ও বিট পুলিশিং ...