ব্রেকিং নিউজ
Home | ফটো সংবাদ | স্কুল কমিটির নির্বাচনী সভায় হামলা, শিক্ষকসহ আহত ১০

স্কুল কমিটির নির্বাচনী সভায় হামলা, শিক্ষকসহ আহত ১০

স্টাফ রিপোর্টার :  মানিকগঞ্জের শিবালয়ে গোপাল চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদে নির্বাচনী সভায় হামলা করে ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষক, অভিভাবক প্রতিনিধি ও শিক্ষক প্রতিনিধিদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে মহাদেবপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি বাবুল আক্তার খাজা এবং তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে। সোমবার বেলা ১২টার দিকে বিদ্যালয়ে সভাপতি নির্বাচনী সভায় এই হামলা হয়। এতে কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়। আহতদের মধ্যে চারজনকে শিবালয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. লুৎফর রহমান বলেন, গত ২৩ আগস্ট ওই বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ১২৫৫ ভোটের মধ্যে ৯০০ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। নির্বাচনের অভিভাক প্রতিনিধি পদে বিজয়ী হয়েছেন- আব্দুল আলীম, শরিফুল ধ্বনি, একেএম ফজলুল হক ও মো. সোহরাব হোসেন। শিক্ষক প্রতিনিধি পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত হয় মো. মোন্নাফ আলী, মো. রফিকুল ইসলাম ও চিনু রাণী বসাক। দাতা সদস্য হিসেবে সাবেক সভাপতি আক্তারাজ্জামান বাবুল ও সংরক্ষিত নারী অভিভাবক প্রতিনিধি হিসেবে হোসনে আরা বেগম নির্বাচিত হয়।

সোমবার ছিল ওই বিদ্যালয়ের সভাপতি পদে নির্বাচনের পূর্ব নির্ধারিত দিন। সকাল ১১টায় শিবালয় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. খবির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন নির্বাচিত সকল প্রতিনিধি এবং প্রধান শিক্ষক। সভাপতি পদে প্রার্থী হিসেবে সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ আব্দুর রহিম খানের নাম প্রস্তাব করেন অভিভাবক প্রতিনিধি একেএম ফজলুল হক প্রস্তাব করলে আরেক অভিভাক প্রতিনিধি মো. সোহরাব হোসেন সমর্থন করে। সভাপতি পদে আর কোন প্রার্থীর নাম প্রস্তাব না করায় আব্দুর রহিম খান সভাপতি পদে নির্বাচিত হন এবং খসড়া রেজুলিশনে তা লেখা হয়। স্থানীয় সংসদ সদস্যের মতামতের ওপর ভিত্তি করে নির্বাচিত সভাপতি আব্দুর রহিম খানকে পত্র দেয়া হবে।

সভাপতি পদে নির্বাচন শেষে আলোচনার শেষ পর্যায়ে সেখানে উপস্থিত হন মহাদেবপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি বাবুল আক্তার খাজা এবং তার লোকজন। সভাপতি পদে তার নাম প্রস্তাব না করে আব্দুর রহিম খানের নাম প্রস্তাব করায় তিনি এবং তার লোকজন সোহরাব হোসেনকে মারধর করে। এসময় সোহরাবকে উদ্ধারে অন্যান্য প্রতিনিধি ও সহকারী প্রধান শিক্ষক আছির উদ্দিনসহ বেশ কয়েকজন এগিয়ে এলে তাদের ও মারধর করে বাবুল আক্তারের লোকজন। এই খবর চারিদিকে ছড়িয়ে পড়লে, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক জালাল সরকার এবং তার সমর্থকরা ঘটনাস্থলে গেলে তারা জালাল সরকার, তার ছেলে ফরিদ সরকার, আফজাল সরকারসহ বেশ কয়েকজনকে মারধর করে।

আহতদের দ্রুত শিবালয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। সেখানে জালাল সরকার, তার ছেলে ফরিদ সরকার, আব্দুর রাজ্জাক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক আছির উদ্দিন চিকিৎসাধীন আছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। শিবালয় থানার অফিসার ইনচার্জ মনিরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. খবির উদ্দিন জানান, তিনি প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে গত ২৩ আগস্টের নির্বাচনটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করেছেন। সভাপতি পদে নির্বাচনের দিনও তিনি উপস্থিত থেকে হামলার ঘটনা দেখেছেন। এ বিষয়ে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানাবেন বলেও জানিয়েছেন।

অভিযুক্ত মহাদেবপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি বাবুল আক্তার খাজা বলেন, তিনি কোন হামলা করেননি। তবে তার লোকজনের সঙ্গে স্কুল পরিচালন কমিটির নবনির্বাচিত সদস্যদের ধাক্কাধাক্কি হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

সাংসদ হারুনের হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত চেয়ে দুদকের করা আবেদন খারিজ

স্টাফ রির্পোটার : দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় পাঁচ বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত ...

বাংলাদেশে বেশি করে বিনিয়োগ করতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

স্টাফ রির্পোটার : বাংলাদেশে বেশি করে বিনিয়োগ করতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের প্রতি আহ্বান ...