ব্রেকিং নিউজ
Home | বিবিধ | আইন অপরাধ | সুনামগঞ্জে জেলে হত্যায় আদালতে অভিযোগ দায়ের

সুনামগঞ্জে জেলে হত্যায় আদালতে অভিযোগ দায়ের

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলায় সুনই জলমহলে এক জেলেকে হত্যা, ঘরে অগ্নিসংযোগ ও হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সুনামগঞ্জ-১ আসনের সাংসদ মোয়াজ্জেম হোসেন রতন, সাংসদের ছোট ভাই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হোসেন ওরফে রোকন ও তাঁর বড় ভাই উপজেলা আওয়ামীলীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক মোবারক হোসেন মাসুদসহ ৬৩ জনকে আসামি করে আদালতে মামলার আবেদন করা হয়েছে।

মামলার আবেদন করেন নিহত ব্যক্তির ছেলে সুনই মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি চন্দন বর্মণ।

এরপূর্বে গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৭টায় দিকে সুনই জলমহালে হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর শনিবার ধর্মপাশা থানায় মামলা করতে ব্যর্থ হয়ে বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার (১৪ জানুয়ারি) ধর্মপাশা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার আবেদন করেন তিনি।

জানাযায়, ঐ সংঘষে হত্যাকাণ্ডের ঘটনার রাতেই ২৩জনকে আটক করে ধর্মপাশা থানা পুলিশ। কিন্তু তাঁদের মধ্যে অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় দুজনকে ছেড়ে দিয়ে ২১জনকে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় গত রোববার রাতে থানার এসআই আরিফুল ইসলাম বাদী হয়ে ৬০-৬৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে থানায় একটি মামলা করেন। আদালতে মামলাটি দাখিল করার পর বিচারক মিছবাহ উদ্দিন আহমদ বাদীর জবানবন্দি শোনেন। এ ঘটনা নিয়ে থানায় আর কোনো মামলা হয়েছে কি না, বিচারক জানতে চান। একই ঘটনায় থানায় একটি মামলা চলমান থাকায় থানা থেকে আদালতে প্রতিবেদন না আসা পর্যন্ত আদালতে দাখিল করা মামলাটি স্থগিত এবং থানা থেকে প্রতিবেদন আসার পর এ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে মর্মে আদেশ দেওয়া হয়।

বিবাদীপক্ষের আইনজীবী আবদুল হাই তালুকদার ও আরফান আলী এ তথ্য জানিয়েছেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী মোঃ রুহুল আমিন তালুকদার জানান, আদালত থেকে আদেশের কপি হাতে না পাওয়া পর্যন্ত কিছু বলা যাবে না। আদেশ কপি পাওয়ার জন্য আবেদন করেছি।

এদিকে শ্যামাচরণ বর্মণ (৬৫) কে হত্যা, জলমহালে অগ্নিসংযোগ ও হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশের দায়ের করা মামলায় গত বুধবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে তিন জনকে আটক করে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় আদালতের মাধ্যমে তাদেরকে জেলহাজতে পাঠায় ধর্মপাশা থানা পুলিশ।

তারা হলেন-জেলার ধর্মপাশা উপজেলার পাইকরহাটি ইউনিয়নের বেখইজুরা গ্রামের মিয়াজ হোসেনের ছেলে জুয়াদ মিয়া (৫৫), একই গ্রামের সজল খানের ছেলে রনি খান (৩৫) ও শেলবরশ গ্রামের স্বপন চৌধুরীর ছেলে তানিন চৌধুরী (২৫)।

ধর্মপাশা থানার ওসি মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

জানা গেছে, উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের মনাই নদের সুনই জলমহালটি জেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনাধীন। বাংলা ১৪২২ সন থেকে ১৪২৭ সন পর্যন্ত ছয় বছরের জন্য এটি ইজারা পায় সুনই মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড। সমিতির সভাপতি চন্দন বর্মণ যথারীতি জলমহালটির খাজনা পরিশোধ করেন। তিনি তাঁদের সমিতির সদস্যদের বসবাস ও অন্যান্য কাজের জন্য জলমহালের পাড়ে খলাঘরসহ চারটি ঘর নির্মাণ করেন। একই সমিতির সভাপতি দাবি করে সুবল বর্মণ (৩০) নিজেকে সভাপতি দাবি করে ১৪২৭ সনের খাজনা সরকারি কোষাগারে জমা দেন। তিন মাস আগে তিনি তাঁর লোকজন নিয়ে জলমহালটির পাড়ে দুটি ঘর নির্মাণ করেন। জলমহালটি নিয়ে একই সমিতির দুটি পক্ষের উচ্চ আদালতে মামলা থাকায় আদালতের আদেশে এটিতে স্থিতিবস্থা রয়েছে।

আরও জানা যায়,গত বৃহস্পতিবার রাতে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে দুপক্ষের লোকজন জলমহালটিতে হামলা চালিয়ে এক পক্ষ অন্য পক্ষের খলাঘরে আগুন ধরিয়ে দেন। এ সময় সেখানে থাকা ১৫-২০ মণ জাল আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া সহ দু পক্ষের ৩০ জন আহত হয় । এসময় সুনই মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সদস্য ও সমিতির সভাপতি চন্দন বর্মণের বাবা শ্যমাচরণ বর্মণ (৬৫)নিতহ হয়। এ ঘটনায় ওই রাতে ধরমপাশা থানা–পুলিশ সন্দেহজনক ২৩ জনকে আটক করেন। পরদিন শুক্রবার সন্ধ্যায় তাঁদের ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় রোববার রাতে থানার এসআই আরিফুল ইসলাম বাদী হয়ে ৬০-৬৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে থানায় একটি মামলা করার পর থেকে চারটি গ্রামের পুরুষ সদস্যরা গ্রেফতার আতংকে এলাকা ছাড়া হয়েছে। ফলে গ্রেফতার আতঙ্কে পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে বেখইজুড়া, সুনই, কুষ্টিবাড়িসহ চারটি গ্রামের মানুষ। এসব গ্রামে বাড়িতে কোনো পুরুষ মানুষ নেই। নারীরা রয়েছেন উৎকণ্ঠায়। এর মধ্যে অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত তিনজনকে ডিবির সহায়তায় গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

সাংসদ মোয়াজ্জেম হোসেন রতন বলেন,আমি ঘটনার দিন সুনামগঞ্জে ছিলাম তা সবাই জানে। আমারও দাবি এই ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হোক। যারা এই ঘটনায় জড়িত ছিল না, তারা যেন কোনো অবস্থাতেই কোনো রকম হয়রানির শিকার না হয়। রাজনৈতিক প্রতিহিংসাবশত একটি পক্ষ ফায়দা নেওয়ার জন্য এই ঘটনার আমাকে জড়ানোর অপচেষ্টা করছে বলে জানান এই সংসদ সদস্য।

ধরমপাশা থানার ওসি মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, পুলিশের করা মামলায় আটক তিনজনকে গ্রেপ্তার দেখানো ছাড়াও শুক্রবার রাতে যে ২১জনকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে তাঁদের মধ্যে ৪জনকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

পুলিশ সুপার মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, গ্রামবাসীর আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। অহেতুক কাউকে গ্রেফতার বা হয়রানি করা হবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

তালায় জাতীয় পার্টি ও আ.লীগের কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ, আহত-৮

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : সাতক্ষীরার তালায় ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণাকে কেন্দ্র করে জাতীয় ...

অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে নেয়া হবে না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

কক্সবাজার প্রতিনিধি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, রোহিঙ্গাদের যারা আগুনে ঘর-বাড়ি হারিয়েছেন ...