Home | ব্রেকিং নিউজ | লালমনিরহাটে ভারতীয় গরু ব্যবসা ঘিরে সিন্ডিকেট, লোকসানের মুখে দেশীয় খামারীরা

লালমনিরহাটে ভারতীয় গরু ব্যবসা ঘিরে সিন্ডিকেট, লোকসানের মুখে দেশীয় খামারীরা

লালমনিরহাট প্রতিনিধি : লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা ও পাটগ্রাম উপজেলার বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিন শত শত ভারতীয় গরু চোরাই পথে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। ওই সব গরু জেলার বিভিন্ন হাটে প্রকাশ্য বিক্রি হলেও রহস্য জনক কারণে স্থানীয় প্রশাসন নিরব ভুমিকা পালন করছেন। গরু ব্যবসাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে একটি সিন্ডিকেট। অভিযোগ উঠেছে, মাসোহারার বিনিময় ওই সিন্ডিকেটকে ম্যানেজ করায় ভারতীয় গরুর চোরাই ব্যবসা দেখেও না দেখার ভান করছেন স্থানীয় প্রশাসন। এতে সীমান্ত এলাকা গুলোতে যেমন অপরাধ কর্মকান্ড বেড়ে যাচ্ছে, অন্য দিকে দেশীয় গরু খামারীরা লোকসানের মুখে পড়েছে।

জানা গেছে, ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীতকে পুজি করে জেলার পাটগ্রাম উপজেলার পাশাপাশি হাতীবান্ধা উপজেলার ফকিরপাড়া, দোলাপাড়া, বড়খাতা, সিঙ্গিমারী, কানীপাড়া, গেন্দুকুড়ি, দইখাওয়া, আমঝোল, ঘুটিয়ামঙ্গল, জাওরানীসহ বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিন শত শত ভারতীয় গরু বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)’র চোখ ফাঁিক দিয়ে কাটা তারের বেড়া কেটে এসব গরু বাংলাদেশে নিয়ে আসছে চোরাচালানকারীরা। লাইনম্যানের মাধ্যমে পাটগ্রাম হাট, হাতীবান্ধার বড়খাতাহাট, দইখাওয়াহাট, কালীগঞ্জের চামটাহাট ও চাপারহাটসহ বিভিন্ন খন্ডকালীন হাটে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পাইকারদের কাছে বিক্রি হচ্ছে। ভারতীয় গরুর ব্যবসাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে বিশাল একটি সিন্ডিকেট।

ওই সিন্ডিকেটের পক্ষে হাতীবান্ধার বড়খাতা-ফকিরপাড়া এলাকার লুৎফর রহমান ও রাবিল হোসেন, বাড়াইপাড়া এলাকার মন্টু, কালীবাড়ী এলাকার মজিদ, টংভাঙ্গা এলাকার জয়নাল হাজারী, দইখাওয়া এলাকার আনারুল, আরিফুর, এনা, সাইদার, মুকুল, রতন, মির ও ঘুটিয়ামঙ্গল এলাকার মাইদুল নিয়ন্ত্রণ করেন। এ সিন্ডিকেটের প্রধান হলেন মন্টু ও মাইদুল। তাদের মাধ্যমে গরু ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে আদায় করা টাকা চলে যায় সিন্ডিকেটের সদস্যদের কাছে। ওই সিন্ডিকেটে স্থানীয় কতিপয় জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় প্রশাসনের অসাধু দুই একজন সদস্য, রাজনৈতিক দলের কিছু নেতা, দুই একজন সাংবাদিকসহ হাট ইজারাদারের লোকজনও জড়িত এমন অভিযোগ রয়েছে।

একটি সুত্র জানায়, যখন প্রশাসনের উপর মহল থেকে চাপ আসে তখন স্থানীয় প্রশাসনের কতিপয় অসাধু সদস্য গরু ব্যবসায়ীদের সর্তক করে দেয়। পরে লোক দেখানো দুইএক দিন অভিযান করেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আগের মত চলে চোরাচালান গরু ব্যবসা।
দেশীয় গরু খামারীরা জানান, ভারত থেকে আসা গরু গুলো হাটে কম দামে বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি ওই সব ভারতীয় গরুর চাহিদাও বেশি। ফলে আমরা দেশীয় খামারীরা আমাদের গরুর ন্যায্য দাম পাচ্ছি না।

নাম না প্রকাশ শর্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)’র সদস্যরা জানান, আমরা নিয়মিত চেষ্টা করি সীমান্তে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করতে। যদিও স্বপ্ল জনবল দিয়ে যা নিয়ন্ত্রণ করা কষ্টকর হয়ে উঠে। বর্তমানে ঘন কুয়াশায় কারণে একটু দুরে পর্যন্ত দেখা না যাওয়ায় চোরাচালানকারীরা অল্প সময়ের মধ্যে নানা কৌশলের তারা ভারত থেকে গরুসহ বিভিন্ন পণ্য নিয়ে আসার চেষ্টা করেন। তবে তুলনামুলক সীমান্তে অপরাধ অনেক কমে এসেছে বলে দাবী করেন বিজিবি’র সদস্য।

লালমনিরহাট সিনিয়ন সহকারী পুলিশ সুপার (বি-সার্কেল) তাপস সরকার জানান, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ বাহিনী নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে। আমরা প্রতিদিনেই ভারতীয় গরুসহ মাদকদ্রব্য আটক করছি। পুলিশের কোনো সদস্য যদি এসব অপরাধের সাথে জড়িত থাকে এমন অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

ঠাকুরগাঁওয়ের সালন্দর ইউনিয়নে বয়স্ক – বিধবা পরিত্যক্ত ভাতা’ পেলেন ৪৩৪ জন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার স্বরূপ ঠাকুরগাঁও জেলার সদর উপজেলার ১২ নং সালন্দর ...

রাণীশংকৈলে পানিতে ডুবে ২ ভাইয়ের মৃত্যু

ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল উপজেলায় পুকুরে গোসল করতে গিয়ে রিফাত ও কাউসার নামে দুই ...