সুদর্শন আচার্য্য, মদন (নেত্রকোণা) ঃ নেত্রকোণার মদনে তিয়শ্রী ইউনিয়নের তিয়শ্রী বাজারের পাশে ডালি নদীতে বায়না দিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে চলছে মাছ শিকার।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে প্রতিবছরই এক অসাধু চক্র ডালি নদী ও মৎস্য সম্পদের বিনাশ করছে। এবছরই তার কোন ব্যতিক্রম চিত্র চোখে পড়েনি।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এ বছরও প্রথমে বায়না ও জাল দিয়ে নদীতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে এবং পরে সুবিধা মতো নদীতে বাঁধ দিয়ে পানি শুকিয়ে চলছে মাছ শিকারের প্রস্তুতি। ইতোমধ্যে পানি বরাবর মাটি দিয়ে বাঁধ তৈরির করে তার এক পাশে জাল আরেক পাশে বায়না দিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে ফেলেছে। এতে নদী হারাচ্ছে নাব্যতা এবং নদী শুকিয়ে মাছ শিকার করায় দেশীয় প্রজাতির মাছের ঘটছে বিলুপ্তি। এছাড়াও শুকনো মৌসুমে ফসলের জমিতে সেচের ক্ষেত্রে সৃষ্টি হয় পানির তীব্র সংকট।
নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক একজন বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম ভাঙ্গিয়ে একটি মহল লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব। ডালি নদীকে শুকিয়ে মাছতো মারেই, একপর্যায়ে এসে ঔষধ ব্যবহার করে মাটির নিচ থেকে দেশীয় মাছ টেনে বের করে।
এ বিষয়ে উক্ত প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক জানান, সমতা মৎসজীবী সমিতির নামে লিজ নিয়েছি। আমাদের দ্বারাতো মাছ ধরা সম্ভব না, তাই কিছু লোক দিয়ে মাছ ধরাচ্ছি।
মৎস্য শিকারী আলিম মিয়া জানান, আমি স্কুলের প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে এক লক্ষ পাঁচ হাজার টাকার বিনিময়ে এক সিজনের জন্য লিজ নিয়েছি। নদীতে বাঁধ দিয়ে শুকিয়ে মাছ শিকার করব এই শর্ত দিয়েই নদী লিজ নিয়েছি। এ বিষয়ে তিয়শ্রী এন.এইচ. খান একাডেমীর প্রধান শিক্ষক সবই জানেন।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ কামরুল হাসান বলেন, নদীতে বাঁধ দিয়ে বা শুকিয়ে মাছ শিকার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আমরা দ্রæত এর ব্যবস্থা নিচ্ছি।
উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি মোঃ শাহনূর রহমান জানান, এ বিষয়ে আমি অবগত হয়েছি। বিষয়টি দেখতে তিয়শ্রী ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তাকে পাঠিয়েছি।