ব্রেকিং নিউজ
Home | আন্তর্জাতিক | ভুটানের প্রধানমন্ত্রী প্রতি শনিবার হাসপাতালে রোগী দেখেন

ভুটানের প্রধানমন্ত্রী প্রতি শনিবার হাসপাতালে রোগী দেখেন

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : সপ্তাহের পাঁচ দিন ব্যস্ত থাকেন দেশ পরিচালনায়৷ ডাক্তারি পেশার প্রতি সীমাহীন ভালোবাসার টানে সপ্তাহের একটি দিন চলে যান হাসপাতালে৷ হ্যাঁ, প্রতি শনিবার হাসপাতালে গিয়ে ছুরি-কাঁচি হাতে তুলে নেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী লোটে শেরিং৷

প্রধানমন্ত্রী হয়েও নিজ হাতে রোগীদের সেবা দিয়ে যাওয়ার ব্রত ত্যাগ করতে পারেননি লোটে শেরিং৷ আর তাই ভাগ করে নিয়েছেন সপ্তাহের দিনগুলো৷ পাঁচ দিন প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর সামলে প্রতি শনিবার সশরীরে হাসপাতালে উপস্থিত থেকে রোগী দেখেন, নিজ হাতে করেন অস্ত্রোপচার৷ সপ্তাহের অবশিষ্ট দিন, অর্থাৎ রবিবার সারা দিন কাটান পরিবারের সাথে৷

এখনো উপভোগ করেন ডাক্তারি

‘এমনিতে কেউ ফুটবল খেলে কাটান সপ্তাহান্তের অবসর, কেউবা খেলেন গলফ৷ পুরো সপ্তাহের কর্মদিবস শেষে আমিও ক্লান্ত হয়ে পড়ি৷ আর তাই প্রতি শনিবার রোগীদের নিজ হাতে সেবা দেই৷ এতে আমি আনন্দ পাই, আমার শারীরিক ও মানসিক চাপ কমাই,’ বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন তিনি৷

‘দেশ পরিচালনা আর ডাক্তারি একই রকম’

ডাক্তারি এবং প্রধানমন্ত্রিত্ব দুটোকেই এক চোখে দেখেন শেরিং৷ এক মনে করার একটা ব্যাখ্যাও দিয়েছেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী৷ হাসপাতালে একজন ডাক্তার রোগীকে সারাতে ঔষধ দেন কিংবা শরীরের বিভিন্ন অংশ পরীক্ষা করে দেখেন৷ প্রধানমন্ত্রীর কাজও একই, কারণ, তাকে সরকারের বিভিন্ন পলিসি পরীক্ষা করে দেখতে হয়, সার্বিক অবস্থার উন্নতির চেষ্টা করতে হয়৷

বাংলাদেশে পড়াশোনা

১৯৯১ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে পড়েছেন লোটে শেরিং৷ এমবিবিএস কোর্স শেষ করার পর একটি প্রশিক্ষণও নেন ময়মনসিংহে৷ তারপর জাপান, অষ্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে উচ্চশিক্ষা নেন শেরিং৷ শুরু হয় পথ চলা৷ প্রায় এক দশক মাঠপর্যায়ে ডাক্তারি পেশায় ব্যাস্ত ছিলেন তিনি৷
রাজনীতির
শুরু

২০১৩ সালে অনেকটা আকস্মিকভাবেই দেশটির জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেন তিনি৷ কিন্তু ভাগ্য সহায় হয়নি৷ তবে নির্বাচনের হার মেনে নিয়ে আবার মনোনিবেশ করেন ডাক্তারি পেশায়৷ এসময় গ্রামে-গঞ্জে চিকিৎসা দিয়ে বেড়িয়েছেন মানুষকে৷ তারপর ২০১৮ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রধানমন্ত্রী হন তিনি৷

মনোযোগ দেন স্বাস্থ্যখাতে

প্রধানমন্ত্রী হয়ে দেশের স্বাস্থ্যখাতকে শক্তিশালী করার চেষ্টা করেন তিনি, নেন নানামুখী পদক্ষেপ৷ নাগরিকদের সুন্দর স্বাস্থ্য আর সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যকে দেশের উন্নয়নের মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা করেন লোটে শেরিং৷

আশ্বস্ত রোগীরাও

প্রধানমন্ত্রীর চিকিৎসা পেয়ে রোগীরাও খুশি৷ মূত্রাশয়ের সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে এসেছিলেন বুমথাপ৷ প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে তার অস্ত্রোপচার করেন প্রধানমন্ত্রী নিজে৷ প্রধানমন্ত্রীর এমন সেবা পেয়ে ভীষণ আনন্দিত এবং আস্বস্ত বুমথাপ৷

যদি হাসপাতালে যেতে পারতাম

প্রতিদিন নিজেই গাড়ি চালিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে যান লোটে শেরিং৷ পথিমধ্যে পড়ে হাসপাতাল৷ কিন্তু সপ্তাহের পাঁচদিন তো তাকে সামলাতে হয় দপ্তর৷আর তাই সামলে নেন নিজের আবেগ৷ বললেন, ‘হাসপাতাল দেখে আমার মনে হয় গাড়িটি ঘুরিয়ে যদি হাসপাতালে চলে যেতে পারতাম!’’ –ডয়চে ভেলে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

খালেদা জিয়ার জামিন খারিজ হওয়ার প্রতিবাদে রাজধানীতে বিক্ষোভ বিএনপির

স্টাফ রির্পোটার : দুর্নীতি মামলায় দণ্ড পেয়ে কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ...

দুর্নীতির জন্য সব অর্জন ম্লান হয়: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

স্টাফ রির্পোটার : দুর্নীতির জন্য সব অর্জন ম্লান হয় বলে মন্তব্য করেছেন ...