Home | বিবিধ | কৃষি | ব্রাহ্মণবাড়িয়া তরমুজের দাম নেই হাতের নাগালে

ব্রাহ্মণবাড়িয়া তরমুজের দাম নেই হাতের নাগালে

মাজহারুল করিম অভি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া  বৈশাখ-জৈষ্ঠ্য এই দু মাস গ্রীষ্মকাল। এই গ্রীষ্মকালকে ঘিরেই পড়েছে প্রচন্ড গরম। আর এই গরমে রোজাদার মানুষের প্রশান্তির জন্য চায় ঠান্ডা দ্রব্য। সেই ক্ষেত্রে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উজেলার বাসিন্দা শফিকুল আসলাম জেলা শহরে এসেছিলেন কেনাকাটা করতে। কিন্তু তিনি জানান যে, বড় লোকদের সম্ভব ভাল কিছু কিনে খাওয়ার। কিছু দিন আগে ধানা কাটা শেষ করলাম। ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা ধানের প্রতি মণ। যেখানে বর্তমানে বাজারের একটি মাঝারি আকারের তরমুজের দাম ৩৫০-৪০০ টাকা। আর যদি বড় তরমুজ কিনতে যাই তাহলে ৭৫০ টাকার নিচে কেনাই যায়।

সম্প্রতি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের সবকটি বড় বড় বাজারগুলো ও দোকানগুলোতে ঘুরে দেখা যায় দাম মাত্রাতিরিক্তি বেশি। যা আমাদের কৃষকের জন্য খাওয়া এক অসম্ভব ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছে। শহরের জগত বাজার, আনন্দ বাজার, সিটি সেন্টার সংলগ্ন, মসজিদ রোড সংলগ্ন দোকানগুলোতে মাত্রাতিরিক্ত বেশি দাম দেখা গেছে। কিন্ত অবাক করার কথা যে, খালপাড়ের আড়ৎগুলোতে তরমুজের কোনো ধরনের দেখা মেলেনি। আবার তরমুজ কোনো কোনো দোকানে ১০০-১৫০ টাকা প্রতি কেজি বিক্রি করতে দেখা যায়। অথচ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আগের বছরে প্রধান প্রধান সড়ক ছাড়াও শহরের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় পসরা সাজিয়ে তরমুজ বিক্রি করতো বিক্রেতারা। এ বছর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় গোনা কয়েকটি দোকান তরমুজ বিক্রি করছে, এছাড়া অন্য কোথাও পাওয়া যায় না। তারপরেও পছন্দের তরমুুজ পাওয়া যাচ্ছে না বেশি দামে। জগত বাজার সংলগ্ন একটি তরমুজের দোকানে গিয়ে দেখা যায়, তরমুজ প্রজাতির ছোট খরমুজ বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ২৫০ টাকা। আর ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকায় মাঝারি আকারের তরমুজ ও ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বড় আকারের তরমুজ। অবাক করার বিষয় যে, তরমুজ কেনার জন্য ক্রেতাদের ভিড় থাকলেও দোকানে ছিল না পর্যাপ্ত পরিমাণ তরমুজ।

দোকানি সোহেল মিয়া জানান, ভাই তরমুজের অনেকটাই সংকট। বাজারে তেমন একটা তরমুজ এ বছর আসে নাই। এবার আমাদের খুলনা থেকে পাইকারি দরে তরমুজ কিনে এনে বিক্রি করতে হচ্ছে। তাই দামটাও বেশি।

শহরের মসজিদ রোড সংলগ্ন একটি মার্কেটের দোকানে বিক্রি হচ্ছে তরমুজ। তরমুজ ব্যবসায়ী রুবেলের দোকানে ছোট ও মাঝারি আকারের তরমুজ বিক্রি করতে দেখা যায়। ছোট আকারের তরমুজ ক্রেতারা ২৫০ টাকা দরে কিনছেন। দাম বেশি তারপরেও ছোট আকারের তরমুজগুলো বেশি বিক্রি হচ্ছে।

শহরের খালপাড়েরর তরমুজের আড়ৎ বাধন এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপক ফারুকুল ইসলাম জানান, বর্তমান সময়ে খুব ভালো ফলন হয়নি তরমুজের। শিলা বৃষ্টি তরমুজের ফলন নষ্ট করে দিয়েছে। যাঁরা তরমুজ খেতে মনস্থির করে বসেছেন, তাদেরকে এ বছর বেশি দামেই কিনতে হবে। আমরা এবার তরমুজ আনিনি কারণ এ বছর ফলন কম আর দামও বেশি।

জেলা শহরের বাসিন্দা বাচ্চু মিয়া বলেন, নাতি-নাতনি কইছে তরমুজ খাইব। কিন্তু বাজারে তো আইসা তরমুজের দাম শুইননা তরমুজ কেনার সাহস করতে পারছি না। আগুণের মত দাম তরমুজ। গরীব মানুষ কি অত দামে তরমুজ খাইতে পারবো। আর বেশি দামে কিনেও তরমুজ খেয়েও কোনো তৃপ্তি আসে না।

পৌর শহরের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, খুব শখ করে ছেলে মেয়েদের জন্য বড় একটি তরমুজ ৬০০টাকায় কিনেছি। কিন্তু কেটে তরমুজের ভেতরের অংশ লাল পেলেও মিষ্টির কোনো অস্তিস্তই ছিল না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

কাশ্মীর : আবারও মধ্যস্থতার প্রস্তাব ট্রাম্পের

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : ভারত-পাকিস্তানের শত্রুতার কারণ ধর্ম, কাশ্মীর সমস্যার সমাধানে আবারও মধ্যস্থতার বার্তা দিয়ে ...

মাগুরায় নবদম্পতির আত্মহত্যা

মাগুরা প্রতিনিধি : মাগুরা সদর উপজেলার রাঘবদাইড় গ্রামে একই শাড়িতে গলায় ফাঁস দিয়ে নবদম্পতি ...