ব্রেকিং নিউজ
Home | জাতীয় | বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহ করলে কুষ্ঠরোগের চিকিৎসা অনেক সহজ হবে :প্রধানমন্ত্রী

বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহ করলে কুষ্ঠরোগের চিকিৎসা অনেক সহজ হবে :প্রধানমন্ত্রী

স্টাফ রির্পোটার : কুষ্ঠরোগের ওষুধ উৎপাদন ও বিনামূল্যে সরবরাহ করতে দেশের সব দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, দেশর ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহ করলে কুষ্ঠরোগের চিকিৎসা অনেক সহজ হবে এবং মানুষের স্বাভাবিক জীবন নিশ্চিত হবে।

বুধবার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে কুষ্ঠরোগ মুক্ত করার বিষয়ে আয়োজিত জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই আহ্বান জানান তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, প্রাথমিকভাবে কুষ্ঠ শনাক্ত করে চিকিৎসা দেয়া গেলে রোগ নিরাময় সম্ভব। এখনো প্রতিবছর সাড়ে তিন হাজারেরও বেশি মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছে বলেও জানান সরকারপ্রধান।

বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, এখনও যেসব এলাকায় কুষ্ঠরোগের প্রাদুর্ভাব রয়েছে, সেসব স্থানে বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হবে। সঠিক ব্যবস্থা নিলে ২০৩০ সালের আগেই বাংলাদেশ কুষ্ঠরোগ মুক্ত হবে বলেও আশা করেন তিনি।

দেশের কুষ্ঠরোগীদের নিয়ে যেসব বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা কাজ করছে তাদের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী এ কাজে আরও অংশগ্রহণ বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থাকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

কুষ্ঠকে শূন্য মাত্রায় নামিয়ে আনতে সরকার আন্তরিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, কুষ্ঠরোগসহ অন্যান্য রোগের হার কমিয়ে আনতে সরকার কাজ করছে। কুষ্ঠরোগে আক্রান্তদের বিষয়ে রোগী ও স্বজনদের মানসিকতা পরিবর্তনেও কাজ চলছে।

প্রধানমন্ত্রী কুষ্ঠ রোগকে প্রাথমিক পর্যায়ে চিহ্নিত করা এবং তাদের নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিতে সামাজিক সচেতনতার প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, যে সব এলাকায় কুষ্ঠরোগী বেশি, সে সব এলাকায় বিশেষ নজর দিলে ২০৩০ সাল নাগাদ এ রোগ নির্মূল করা সম্ভব হবে।

বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, কুষ্ঠরোগীদের ঘরে বাইরে আসার সুযোগ করে দিতে ও স্বাভাবিক জীবন দিতে আইনে পরিবর্তন আনা হয়েছে। আইন সংশোধনের মাধ্যমে তাদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা ও বাইরের পৃথিবী দেখার সুযোগ করে দিয়েছি। এ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতেও কাজ করছি।

দেশের জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কুষ্ঠরোগীদের দেখে দূর-দূর ছেই ছেই করবেন না। তাদের আলাদা করে রাখবেন না। এটা অভিশাপ নয়, চিকিৎসা দিলে এরাও ভালো হয় এবং সুস্থ জীবনে ফিরে যায়। এটা আমি প্রমাণ করেছি। কুষ্ঠরোগীদের সেবা দেয়া, সহায়তা করা এবং সহানুভূতির সঙ্গে তাদের দেখার জন্য অনুরোধ জানাই।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি শেখ ফজলুল করিম সেলিম, নিপপন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সাসাকাওয়া।

স্বাগত বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে কুষ্ঠরোগের ওপর একটি প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় প্রবেশপথে হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা বিসিবির

ক্রীড়া ডেস্ক : করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে বাংলাদেশে সবধরনের ক্রিকেট ইভেন্ট স্থগিত করা ...

বাংলাদেশে আরও তিনজনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত

স্টাফ রির্পোটার :বাংলাদেশে আরও তিনজনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে, যারা একই পরিবারের ...