Home | আন্তর্জাতিক | বাগেরহাটের রামপালে ইভটিজিং এর ঘটনায় লোক লজ্জার ভয়ে কলেজ ছাত্রীর আত্মহত্যা ঃ এলাকায় তোলপাড়

বাগেরহাটের রামপালে ইভটিজিং এর ঘটনায় লোক লজ্জার ভয়ে কলেজ ছাত্রীর আত্মহত্যা ঃ এলাকায় তোলপাড়

এম শিমুল খান, খুলনা  প্রতিনিধি, ২৬ মার্চ, বিডিটুডে ২৪ডটকম : উপর্যুপুরী ইভটিজিং আর শারিরীকভাবে লাঞ্চিত হওয়ার ঘটনায় ােভে দুঃখে আত্মহত্যা করেছে রামপালের গিলাতলা কলেজের ডিগ্রী প্রথম বর্ষের ছাত্রী রাবিয়া খাতুন। রাবিয়ার মা বাবা তাদের মেয়ের আত্মহত্যার ঘটনাটি সহজে মেনে নিতে পারছে না। ঘুরে ফিরে তাদের মনে বারবার একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে রাবিয়া কেন আত্মহত্যা করল? উল্লেখ্য মঙ্গলবার রামপালের বাইনতলা ইউনিয়নের কুমলাই গাববুনিয়া এলাকার আঃ হান্নান মলিকের মেয়ে গিলাতলা কলেজের ছাত্রী রাবিয়া খাতুন সকাল ১০টার সময় পরিবারের সকলের অজান্তে তাদের বসত ঘরের সামনে একটি মেগনিশ গাছের ডালে ওড়না বেঁধে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে। ওই রাতে তাকে উদ্ধার করে রামপাল থানা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হলে ডাক্তাররা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনার পর এলাকাবাসীর মনে রাবিয়ার আত্মহত্যা নিয়ে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে থাকে। রাবিয়ার আত্মহত্যার কারণ অনুসন্ধানে আত্মহত্যার চারদিন পর ওই এলাকায় গিয়ে প্রতিবেশী একাধিক নারী পুরুষের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ওই এলাকার আঃ রশিদ মলিকের ছেলে ফিরোজ মলিক, আনিচ মলিকের ছেলে নুর ইসলাম মলিক ও বাঁশতলীর পূর্ব পাড়ার সুজ্জাত আলীর ছেলে রাজু কলেজে যাওয়া আসার সময় রাবিয়াকে রাস্তা ঘাটে যখন তখন উত্যাক্ত করত। লোক লজ্জার ভয়ে রাবিয়া কাউকে এ ঘটনা জানায়নি। রাবিয়ার আত্মহত্যার ঘটনার দিন ১৬ মার্চ বেলা ২টায় কলেজ থেকে বাড়ী ফেরার সময় গাববুনিয়া ব্রিজের কাছে একটি ভ্যান গাড়িতে রাবিয়ার সাথে ফিরোজ মলিক ও নুরুল ইসলাম মলিক নেমে পড়ে। এ সময় রাজু একটি বাইসাইকেলে ওই ভ্যান গাড়ির পিছনে পিছনে এসে ব্রিজের কাছে নামে। এরপর ভ্যান গাড়ি থেকে নেমে ব্রিজের উপর যাওয়ার পর রাবিয়ার কাছে থাকা নুর ইসলামের একটি মোবাইল ফোনের সিম ফেরৎ চাওয়াকে কেন্দ্র করে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে নুর ইসলাম রাবিয়াকে উপর্যুপুরী চড়, তাপ্পড় দেয়। এসময় ফিরোজ ও শাহিনা নামের এক ছাত্রী ঠেকাতে যায়। এ ঘটনার সময় চেচামেচি শুনে ব্রিজের পাশের বাসিন্দা আলমগীর ও তার স্ত্রী শাহানাজ বেগম তাদেরকে বাড়ী চলে যেতে বললে তারা বাড়ি চলে যায়। এরপর ওই দিন রাতে রাবিয়া রাজুকে দায়ী করে একটি চিঠি লিখে রেখে রাতে আত্মহত্যা করে। রাবিয়ার আত্মহত্যার পর হঠাৎ করে ফিরোজ ও নূর ইসলাম এবং রাজু গা ঢাকা দেওয়ায় সাধারণ মানুষের মনে তাদেরকে নিয়ে সন্দেহ দানা বেধেছে। অনেকের ধারণা ফিরোজ, নূর ইসলাম ও রাজুর অপমানের জ্বালা সহ্য করতে না পেরে রাবিয়া আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে। রাবিয়ার পিতা মাতার জানা ছিল না ফিরোজ, নুর ইসলাম এবং রাজু তাদের মেয়েকে উত্যাক্ত করত। তারা সাংবাদিকদের সহায়তা কামনা করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন সহ মামলা করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। এলাকাবসীর ধারণা ফিরোজ, নূর ইসলাম ও রাজুর মোবাইল ফোন থেকে সর্বশেষ রাবিয়ার সাথে কি আলাপ-আলোচনা হয়েছে তা খুঁজে বের করতে পারলে আত্মহত্যার রহস্য অনেকটা উদ্ঘাটন হতে পারে। এ ব্যাপারে এ ঘটনার তদন্ত কর্মকর্তা রামপাল থানার এস.আই আলমগীর হোসেন এর সাথে কথা হলে তিনি বলেন অভিযুক্ত ফিরোজ, নুর ইসলাম ও রাজু গা ঢাকা দেওয়ায় আত্মহত্যার পিছনে তাদের হাত রয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। আত্মহত্যার প্ররোচনাকারী হিসেবে এদের বিরুদ্ধে রাবিয়ার পিতা মাতা মামলা না করলেও পুলিশ বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করবে বলে জানা গেছে। সূত্র জানায় অভিযুক্ত রাজু গিলাতলা আবুল কালাম ডিগ্রী কলেজের ছাত্রলীগের সভাপতি হওয়ায় এই ঘটনায় ভিন্নখাতে প্রবাহিত হতে পারে বলে এলাকাবাসী আশংকা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন রাবিয়ার ওই চিঠিটা উদ্ধার করতে পারলে রহস্য অনেকটা উদঘাটিত হবে। রাবিয়ার আত্মহত্যার প্ররোচনাকারীরা ঘটনা ধামা চাপা দিতে দৌড় ঝাপ শুরু করেছে বলে একটি সূত্র নিশ্চিত করে

x

Check Also

বাংলাদেশের পতাকার রঙে আলোকিত হলো অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেন

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডের রাজধানী ব্রিসবেনের দুটি মূল স্থাপনা স্টোরি ব্রিজ এবং ...

অবশেষে বৈঠকে বসছে ভারত ও পাকিস্তান

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : দুই বছর পর সিন্ধুর জল বণ্টন নিয়ে মঙ্গলবার (২৩ মার্চ) ভারতের সঙ্গে ...