ব্রেকিং নিউজ
Home | বিবিধ | আইন অপরাধ | ফরিদপুরে বিভিন্ন সরকারী অফিসের কর্মকর্তাদের কাছে সর্বহারা পরিচয়ে চাঁদা দাবী

ফরিদপুরে বিভিন্ন সরকারী অফিসের কর্মকর্তাদের কাছে সর্বহারা পরিচয়ে চাঁদা দাবী

faridpur mapইকবাল মাহমুদ (হিরু) ফরিদপুর প্রতিনধিঃ ফরিদপুর জেলার একাধিক উপজেলায় বিভিন্ন সরকারী অফিসের কর্মকর্তাদের কাছে পূর্ব বাংলা কমিউনিষ্ট পার্টির কথা বলে মোবাইল ফোনে চাঁদা চাওয়া হচ্ছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলার সরকারী দপ্তরের কর্মকর্তাদের কাছে চাঁদা চেয়ে হুমকি দেয়া হচ্ছে। চাঁদা না দিলে তাদের করুন পরিনতি ভোগ করতে হবে বলেও হুমকি দেয়া হচ্ছে। চাঁদা চাওয়ার ঘটনায় বিভিন্ন থানায় একাধিক জিডি হয়েছে। এ ঘটনায় জেলাজুড়ে তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়েছে। চাঁদা চাওয়ার ঘটনাটি বেশ গুরুত্বের সাথেই নিয়েছে জেলা পুলিশ প্রশাসন। জানা যায়, গত বেশ কয়েকদিন ধরে ফরিদপুর জেলার বিভিন্ন সরকারী অফিসের শীর্ষ কর্মকর্তার মোবাইল ফোনে মোটা অংকের টাকা চাঁদা দাবি করা হচ্ছে। পূর্ব বাংলা কমিউনিষ্ট পার্টির কথা বলে শীর্ষ কর্তাদের হুমকি দিয়ে বলা হচ্ছে, টাকা না দিলে হত্যা করা হবে। বিষয়টি প্রশাসনের কাউকে না জানানোর কথাও বলা হয়। এলজিইডি, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস, সাব রেজিষ্ট্রি অফিস, মৎস অফিসসহ একাধিক প্রতিষ্ঠানে বাংলা লিংক নাম্বার থেকে মোটা অংকের চাঁদা করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে বেশ আতংকের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে কর্মকর্তারা। বোয়ালমারী সাব-রেজিষ্টার সঞ্জয় কুমার আচার্য্য জানান, আমাকে ০১৯৫৪৯২৫৮১৮ নম্বর থেকে পূর্ব বাংলা কমিউনিষ্ট পার্টির সদস্য পরিচয় দিয়ে মোটা অংকের চাঁদা দাবী করা হয়। এ ঘটনায় তিনি বোয়ালমারী থানায় একটি জিডি করেছেন। বোয়ালমারী এলজিইডি অফিসের উপ-সহকারী প্রকৌশলী ফরিদুল ইসলাম বলেন, সর্বহারা দলের সদস্য পরিচয় দিয়ে ০১৯৫২৮৫৬৫৯ নম্বর থেকে আজিজ পরিচয় দিয়ে আমার কাছে চাঁদা চাওয়া হয়েছে। তিনি ফোন করে বলেন, পার্টি চালাতে আমাদের অনেক টাকার দরকার। দু দিনের মধ্যে টাকা দিবি, নইলে তোর জীবন শেষ হয়ে যাবে। ফরিদুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় তিনি আতংকিত হয়ে পড়েছেন। একই অফিসের প্রকৌশলী মোঃ আজহারুল ইসলাম। এলজিইডি অফিসের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, তাদের কাছেও ফোন করে মোটা অংকের টাকা চাঁদা দাবী করা হচ্ছে। এলজিইডি সদরপুর অফিসের নিজামউদ্দিন, ভাংগা উপজেলার রুহুল ইসলাম, নগরকান্দা উপজেলার রেজাউল করিমকে ফোন করে চাঁদা চাওয়া হয়েছে। জেলার ভাঙ্গার মাধ্যমিক শিক্ষা কর্তকর্তা সাইফুল আলম বলেন, আমার কাছে চাঁদা চাওয়ার পরেই ভাঙ্গা থানায় সাধারন ডায়রি করেছি। তিনি বলেন, এভাবে আমার মতো অনেক সরকারি কর্তকর্তাকে ফোনে টাকা চেয়ে হুমকি-ধামকি দেওয়া হচ্ছে। একই ভাবে সর্বহারা অথবা জনযুদ্ধ নেতা পরিচয় দিয়ে ফোন করে টাকা চাওয়া হয়েছে বোয়ালমারীর মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জালালউদ্দিন আহমেদ, মৎস্য কর্মকর্তা নওশের আলী ও দেব দুলাল সাহার কাছে। সদরপুর উপজেলার প্রকৌশলী নিজামউদ্দিন জানান, আমাকে ফোন করে বিকাশের মাধ্যমে টাকা চেয়ে হুমকি দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এ ঘটনায় থানার সাধারন ডায়রি করা হয়েছে। ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিজয় বসাক এ বিষয়ে বলেন , এ বিষয়ে আমরা অবগত আছি, যে বাংলা লিংক নাম্বর গুলো থেকে ফোন করে চাঁদা চাওয়া হচ্ছে সে নাম্বর গুলোর উপর পুলিশি নজরদারি রয়েছে। চাঁদা চাওয়ার বিষয়টি পুলিশ ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে, শীঘ্রই প্রয়োজনীয় ব্যবন্থা নেওয়া হবে।ধারাবাহিক ভাবে একের পর এক সরকারী কর্মকর্তাদের কাছে চাঁদা দাবী নিয়ে ফরিদপুরে তোলপাড় শুরু হয়েছে। সরকারী কর্মকর্তা ও তাদের পরিবারের সদস্যদের মাঝে আতংকের সৃষ্টি হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

রাণীনগরে মল ছিটিয়ে টাকা লুট চক্রের চার সদস্য আটক ভ্রাম্যমান আদালতে কারাদন্ড

মো: সাহাজুল ইসলাম,রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি : নওগাঁর রাণীনগরে শরীরে মানুষের মল ছিটিয়ে ...

ফকিরহাটে তিন মাদক কারবারির ছয় মাসের কারাদন্ড

ফকিরহাট (বাগেরহাট) প্রতিনিধি : বাগেরহাটের ফকিরহাটে তিন মাদক কারবারিকে ছয় মাসের কারাদন্ড ...