Home | ফটো সংবাদ | পলাতক থেকেও নিজের সাম্রাজ্য পুনরুদ্ধারে নানা তৎপরতা চালাচ্ছেন সাঈদ

পলাতক থেকেও নিজের সাম্রাজ্য পুনরুদ্ধারে নানা তৎপরতা চালাচ্ছেন সাঈদ

স্টাফ রির্পোটার : থেমে নেই ক্যাসিনো সাঈদ। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বহিষ্কৃত এই কাউন্সিলর সিঙ্গাপুরে পলাতক থেকেও ঢাকায় নিজের সাম্রাজ্য পুনরুদ্ধারে চালাচ্ছেন নানা তৎপরতা। চলমান ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের অন্যতম অভিযুক্ত একেএম মমিনুল হক সাঈদ এবার হকি ফেডারেশনে নিজের অবস্থান টিকিয়ে রাখতে সভাপতি বরাবর চিঠি দিয়েছেন সিঙ্গাপুর থেকে। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিগত দুই মিটিংয়ে সাঈদ অনুপস্থিত ছিলেন। আগামী ২১ ডিসেম্বর মিটিংয়ে অনুপস্থিত থাকলেই পদ হারাবেন। তবে পলাতক থেকে হকি ফেডারেশনে চিঠি দেওয়ায় হতবাক সংশ্লিষ্টরা। তাদের প্রশ্ন, টাকা লোপাটকারী এই বহিষ্কৃত কাউন্সিলর চিঠি পাঠানোর স্পর্ধা পেল কোথায়। হকি ফেডারেশনের পক্ষ থেকে তার ঠিকানা জানতে পাল্টা চিঠি দিয়েছে হোয়াটস অ্যাপে। চিঠির বিষয়টি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হকি ফেডারেশনের এক পদস্থ কর্মকতা     বলেন, চিঠিটি তার ‘ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইলিং’ এবং অপতৎপড়তার একটি অংশ। জানা গেছে, সিঙ্গাপুরের মোস্তফা সেন্টারের পাশেই ফেরার পার্ক এলাকার অভিজাত ‘সিটি স্কয়ার’ ভবনের একটি বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্টে পরিবার নিয়ে অবস্থান করছেন ক্যাসিনো সাঈদ। মাঝেমাঝেই আড্ডা দেন মোস্তফা সেন্টার এবং সিটি স্কয়ার আবাসিক এলাকার মাঝামাঝিতে অবস্থিত ‘হান্ডি’ নামে একটি ভারতীয় রেস্টুরেন্টে। সম্প্রতি কাউন্সিলর পদ থেকে বহিষ্কৃত হলেও অন্যান্য খাত ধরে রাখতে অব্যাহত রাখতে বদ্ধপরিকর। বিভিন্ন মাধ্যমে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন ক্ষমতাসীন দলের কয়েকজন প্রভাবশালীর সঙ্গে। হকি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার পর শুদ্ধি অভিযানের আগাম খবরের ভিত্তিতে গত ৪ সেপ্টেম্বর কৌশলে সিঙ্গাপুর পাড়ি জমান সাঈদ। চিঠিতে তিনি হকি ফেডারেশনে তার নানা কর্মকান্ডের ফিরিস্তি তুলে ধরেছেন। হকি ফেডারেশন সূত্র বলছে, নির্বাচিত হওয়ার পর নিজের একক ক্ষমতাবলে পরিচালনা পর্ষদের প্রধান ও সাধারণ সম্পাদকের একান্ত সচিব হিসেবে মনি বেগমকে মাসিক এক লাখ টাকা এবং মিডিয়া ম্যানেজার হিসেবে কনক মাহমুদকে ৫০ হাজার টাকা বেতনে নিয়োগ দেন। গঠনতন্ত্রের কোনো পরোয়া না করে সাঈদের এমন কর্মকান্ডে  কেউ বাধা দেওয়ার সাহস পাননি। এখনো এই দুজনের মাধ্যমেই হকি ফেডারেশনে নিজের কতৃত্ব ধরে রাখার চেষ্টা করছেন তিনি। এ ছাড়া গত ২৮ অক্টোবর এবং ১৪ নভেম্বর ফেডারেশনের কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন ক্যাসিনো সাঈদ। আগামী ২১ ডিসেম্বরের বৈঠকে উপস্থিত না থাকলে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তাকে শোকজ পাঠানো হবে। এরপরই শুরু হবে বহিষ্কারের প্রক্রিয়া।

সাঈদের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ : ডিএসসিসির ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হওয়ার পরও তিনি  বোর্ড সভায় নিয়মিত যেতেন না। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়া জুয়া-ক্যাসিনোর নেশায় সিঙ্গাপুরে পড়ে থাকতেন মাসের পর মাস। সিঙ্গাপুর ও থাইল্যান্ডে নানা কারবারের সঙ্গে যুক্ত তিনি। মাসে দুই-তিনবারও তিনি সিঙ্গাপুরে আসতেন। এখন টানা সময় ধরে থাকছেন। ব্যতিক্রম খুব একটা নয়। ফকিরাপুল ও আরামবাগের মতো এখানেও তাকে বাংলাদেশিরা ‘ক্যাসিনো সাঈদ’ নামেই চেনেন। বঙ্গভবন কলোনিতে বেড়ে ওঠা সাঈদ ২০১৫ সালে ওই এলাকার কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ার পর আর পেছনে তাকাতে হয়নি। ওই সময়েই ওয়ান্ডারার্স ক্লাবে অবৈধ ক্যাসিনো ব্যবসা চালু করেন। কাঁচা টাকা। এই ক্লাব পরিচালনায় তার পার্টনার ছিলেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি মোল্লা মো. আবু কাওসার। এ ছাড়া আরও চারটি ক্লাবের ক্যাসিনোর ব্যবসা ছিল সাঈদের নিয়ন্ত্রণে। ডিএসসিসির ৯ নম্বর ওয়ার্ডের প্রতিটি গলির মাথায় লোহার গেট লাগিয়ে পাহারা  দেওয়ার জন্য নিরাপত্তাকর্মীও নিয়োগ দেন তিনি। বিনিময়ে তিন বছরের বেশি সময় ধরে এলাকার বাসাবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে মাসওয়ারি চাঁদা তুলছেন। প্রভাব খাটিয়ে কমলাপুর স্টেডিয়াম ও গোপীবাগ বালুর মাঠে দুটি কোরবানির পশুর হাট বসাতেন। এলাকার উন্নয়নকাজ তদারকির নামে চাঁদার জন্য ঠিকাদারকে জিম্মি করে  ফেলতেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

রানীশংকৈলে ভাঙা কালভার্টে মরণফাঁদ

ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈলে ভাঙা কালভার্টে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে পথচারীদের। এটি উপজেলার ...

সকলের সহযোগিতার পেলে মাদক নির্মুল করা সম্ভব -ওসি এসএম জাহিদ ইকবাল

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার ইএসডিও প্রকল্পের আয়োজনে মাদক হ্রাস, আইনশৃংখলা ও বিট পুলিশিং ...