Home | ব্রেকিং নিউজ | পরিত্যক্ত পলিথিন-প্লাস্টিক দিয়ে তেল ও গ্যাস

পরিত্যক্ত পলিথিন-প্লাস্টিক দিয়ে তেল ও গ্যাস

নওগাঁ প্রতিনিধি : পলথিনি ও প্লাষ্টিক যত্রতত্র ফেলে দেওয়ার কারণে এবং সহজে পচনশীল না হওয়ায় আমাদের চারপাশরে কৃষিজমি ,নদী-নালা, খাল-বিল, ড্রেনেজ ব্যবস্থা ধ্বংসের মুখে। জমির উর্বরতা শক্তিসহ নানাভাবে চারপাশের ভূমিকে হুমকির দিকে ঠেলে দিচ্ছে এসব পলথিনি ও প্লাষ্টিক। কিন্তু এই পরিত্যক্ত পলিথিন ও প্লাষ্টিক কাজে লাগিয়ে তেল ও বায়োগ্যাস উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছে নওগাঁর ফজলুর রহমান। বদ্ধ ড্রামের ভিতর আগুনে গলছে পরিত্যক্ত পলিথিন ও প্লাষ্টিক। তরল গলা সে পলিথিন ও প্লাষ্টিক বাষ্পীভূত হয়ে পাইপ দিয়ে বের হচ্ছে ফোঁটায় ফোঁটায়। পরে পরিশোধিত হয়ে সিলিন্ডারে বিন্দু বিন্দু করে জমে তৈরি হচ্ছে অকটেন, পেট্রোল, ডিজেল ও বায়োগ্যাস।

চারপাশে ফেলে দেওয়া পরিত্যক্ত পলিথিন ও প্লাস্টিক আগুনে গলিয়ে অকটেন, পেট্রোল, ডিজেল, বায়োগ্যাস তৈরির মাধ্যমে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন নওগাঁ সদর উপজেলার হাঁসাইগাড়ী ইউনিয়নের কাটখইর গ্রামের মো.ফজলুর রহমান (৪২)। তার এই অভিনব জ্বালানি তেল-গ্যাস আবিষ্কার দেখতে শত শত মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন ফজলুর রহমানের বাড়িতে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নওগাঁ সদর উপজেলার হাঁসাইগাড়ী ইউনিয়নের কাটখইর গ্রামের মো.ফসিম উদ্দিন মোল্লার ছেলে মো.ফজলুর রহমান নিজ বাড়ির সামনেই একটি বদ্ধ তেলের ড্রামের সঙ্গে পাইপের মাধ্যমে তিনটি সিলিন্ডারে সংযোগ দেয়া হয়েছে । সাথে যুক্ত করা হয়েছে তিনটি হিট মিটার। ড্রামের ভিতর প্লাস্টিক ও পলিথিন ভরে ড্রামের মুখ বন্ধ করে নিচে আগুন জ্বালিয়ে তা গলানো হচ্ছে। জ্বলছে পলিথিন ও প্লাষ্টিক প্রায় ২৫/৩০ মিনিট ধরে উচ্চতাপ প্রয়োগে প্লাস্টিক ও পলিথিনগুলো পুরোপুরি গলে বাষ্প আকারে পাইপের মাধ্যমে বাষ্পীভূত হয়ে বিন্দু বিন্দু আকারে সিলিন্ডারে জমছে ডিজেল-পেট্রোল-অকটেন। অপর একটি পাইপের মাথা দিয়ে বেরিয়ে আসছে বায়োগ্যাস। যা ড্রামের তলায় দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে অন্য কোনো জ্বালানি ছাড়াই গলানো হচ্ছে প্লাস্টিক-পলিথিন। প্রতিটি সিলিন্ডারের নিচের অংশে বিবকর্ক যুক্ত করা আছে যার মাধ্যমে তেল ভর্তি হলে বার প্রয়োজনে সেখান দিয়েও বোতলে তেলগুলো সংরক্ষন করা যায়। প্লাষ্ঠিক ও পলিথিন গলানোর কারনে যে অবশিষ্ঠ পানি বের হয় তা অন্য একটি পাইপ যুক্ত করা হয়েছে। সেখান দিয়ে পাশের ডোবাতে পানিগুলো ফেলা হয়।

পরিত্যক্ত প্লাস্টিক-পলিথিন থেকে উৎপাদিত জ্বালানি তেল নিজস্ব মোটসাইকেলে ব্যবহার করার পাশাপাশি গ্রামবাসী, স্বজন-বন্ধু বান্ধবদেরও দিচ্ছেন ব্যবহারের জন্য।

স্থানীয় কাটখইর গ্রামের বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেন বলেন, ফজলুর রহমান সফল ভাবে তেল ও গ্যাস উৎপাদন করছে। সরকার যদি তাকে সহযোগিতা করে তাহলে আরও আর বড় পরিসরে তেল ও গ্যাস উৎপাদন করতে পারবে বলে মনে করি।

বজলুর রহমানের প্রতিবেশি মোবারক হোসেন বলেন, বজলুর রহমান এ উদ্ভাবন খুবই প্রসংশনীয় । কিন্তু বড় আকারে তেল ও গ্যাস উৎপাদন ও পরিক্ষার জন্য সরকারিভাবে সহযোগিতা করা হলে সে কাজগুলো আরও ভালো ভাবে করতে পারবে বলে মনে করি।

ফজলুর রহমানের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, স্থানীয় কুজাগাড়ী হাফেজিয়া মাদ্রাসা থেকে ১৯৯২সালে হেফজ ( হাফেজ ) পাশ করার পর আর বেশি দূর পড়াশোনা করা হয়নি। ৫ভাই ও এক বোনের মধ্যে আমি সবার বড়। পরিবারে অভাবের কারনে বেশি দূর পাড়াশুনা করতে পারিনি।। সংসারের হাল ধরতে ড্রাইভিং ট্রেনিং নিয়ে ঢাকাতে নিজের মাইক্রো চালাতাম। এর পর ২০১৭সালে একটি সড়ক দূর্ঘটনায় মারাত্বকভাবে আহত হওয়ার পর মাইক্রোটি বিক্রি করে দিয়ে গ্রামে চলে আসি। এর পর কৃষি কাজ শুরু করি। তার পর ২০১৯ সালের শেষের দিকে নারায়ণগঞ্জে একটি ব্যক্তিগত কাজের জন্য গিয়েছিলাম। তার পর সেখানে একজনের কাছে গিয়ে পলিথিন ও প্লাষ্ঠিক পুড়িয়ে জ্বালানী তৈরি করা দেখে মনের ভিতর আবার সেই ছোট বেলার কৌতহল ভর করে বসলো। তার উদ্ভাবনী বিষয়গুলো আয়ত্ব করে গত কয়েক মাস ধরে অনেক কষ্ট করে ১লক্ষ ৭০ হাজার টাকার কিছু যন্ত্রাংশ কিনে নিজেই স্থাপন করে পরিক্ষামূলক ভাবে জ্বালানী তেল ও বায়োগ্যাস উৎপাদন করতে আজ সক্ষম হয়েছি।

ফজলুর রহমান বলেন, উৎপাদিত জ্বালানি তেল দু’টি পদ্ধতিতে পরিশোধন করা হয়। এক ছাকন পদ্ধতি এবং দুই থিতানো পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে এক কেজি পলিথিনে ৫০০শ গ্রাম ও প্লাস্টিক থেকে ৬/৭শ গ্রাম জ্বালানি তেল উৎপাদিত হয়। এতে খরচ হয় মাত্র ২০ থেকে ২৫ টাকা মত। আর একই সাথে বায়োগ্যাস উৎপাদন করা যায়। এই তরল পদার্থগুলো হাইড্রোকার্বন ও এগুলোর বর্ণ ডিজেল-পেট্রোল-অকটেন এবং নির্গত বায়ো গ্যাসের মতো। সরকারি-বেসরকারিভাবে সহযোগিতা পেলে জ্বালানি খরচে নতুন মাত্রা যোগ করার পাশাপাশি প্লাস্টিক ও পলিথিনের অপব্যবহারে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি কমিয়ে আনা সম্ভব বলেও জানান তিনি।

হাসাইগাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুল জলিল (সুইট) বলেন, ফজলুর রহমান এর এমন ব্যতিক্রমী আবিষ্কার করেছে যা খুবই ভালো একটি বিষয়। আমরা তার এ কার্যক্রমকে আরও বেগবান করতে পরিষদের পক্ষ থেকে সহযোগিতার করবো।

জেলা প্রশাসক হারুন অর রশীদ বলেন, আমি বজলুর রহমানের উদ্ভাবনের বিষয়টি খোজ নিব। যদি তার কোন ধরনের সহযোগিতার প্রয়োজন হয় তবে তাকে নওগাঁ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবশ্যই সহযোগিতা করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

সদরপুরে অনিক হত্যা বিচারের দাবীতে মানববন্ধন।

বি এইচ টিটু , সদরপুর, ফরিদপুর থেকেঃ গতকাল সোমবার বেলা ১১ ঘটিকায় ...

রাণীশংকৈলে ৫৪টি মন্ডপে চলছে প্রতিমা তৈরির কাজ

দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে তৈরি করা হচ্ছে প্রতিমা দুয়ারে কড়া নাড়ছে দেবী দুর্গার ...