ব্রেকিং নিউজ
Home | শিল্প সাহিত্য | ফিচার | পদ্মাতীরের ময়নাপাড়ার মাঠ

পদ্মাতীরের ময়নাপাড়ার মাঠ

বিডিটুডে ডেস্ক : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আজ থেকে প্রায় একশত উনিশ বছর আগে বর্ষাকালে, এ কীর্তনটি রচনা করেছিলেন ‘কৃষ্ণকলি আমি তারেই বলি, কালো তারে বলে গাঁয়ের লোক/…মেঘলা দিনে…দেখেছিলেম ময়নাপাড়ার মাঠে কালো মেয়ের কালো হরিণ-চোখ’।

১৯৫৭ সালে প্রকাশিত ‘রূপসী বাংলা’ কাব্যগ্রন্থে জীবনানন্দ দাশ লিখেছিলেন ‘এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে-সবচেয়ে সুন্দর করুণ/সেখানে সবুজ ডাঙ্গা ভরে আছে মধুকূপী ঘাসে অবিরল’।

জীবনে বহু সুন্দর জায়গা দেখেছি, হাতে সাজানো পার্ক, ড্রয়িংরুম, রিডিংরুম দেখেছি। কিন্তু একসঙ্গে রবীন্দ্রনাথের ‘ময়নাপাড়ার মাঠ’ আর জীবনানন্দের ‘সবচেয়ে সুন্দর করুণ’ জায়গাটি কোথাও খুঁজে পাইনি। ‘সবুজ ডাঙা ভরে আছে মধুকূপী ঘাসে অবিরলও চোখে দেখিনি। কিন্তু আমার মন আর চোখ খুঁজেই গেছে সবচেয়ে সুন্দর করুণ মধুকূপী ঘাসে অবিরল ‘ময়নাপাড়ার মাঠ’-কে।

হরিরামপুর পদ্মাপাড় আন্ধারমানিক ঘাট থেকে পূর্বদিকে প্রায় ৩ কিমি দূরে নৌকা থেকে নেমে জিওব্যাগের বাঁধ ধরে হাঁটতে শুরু করলাম। একদিকে পদ্মার পলিমাখা জল আর অন্যদিকে দিগন্ত বিস্তৃত সবুজ খোলা মাঠ। আকাশ ছেয়ে উঠল কাজল কালো মেঘে। হঠাৎ পূবালী বাতাসে ধানের ক্ষেতে ঢেউ খেলিয়ে গেল। মন বলে উঠল, এই তো সেই ‘সবচেয়ে সুন্দর করুণ মধুকূপী ঘাসে ঢাকা মাঠ’। এই তো সেই ময়নাপাড়ার মাঠ। আপনি চাইলে ঘুরে যেতে পারেন। তবে অবশ্যই জুন-অক্টোবরের মধ্যে।

ময়নাপাড়ার মাঠ প্রাকৃতিকভাবেই অনেক পরিচ্ছন্ন একটা জায়গা। তাই ময়লা, আবর্জনা ফেলার বিষয়ে যথেষ্ট সচেতন হওয়ার জন্য সবার প্রতি অনুরোধ রইল।

কীভাবে যাবেন

রুট-১ : ঢাকা গাবতলী থেকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক হয়ে মানিকগঞ্জ সদর, সেখান থেকে রিকশাযোগে বেউথা ঘাট, তারপর রিজার্ভ হ্যালোবাইকে হরিরামপুর থানার পেছনে বয়ড়া ইউনিয়ন পরিষদসংলগ্ন পদ্মাপাড় অথবা গাবতলী থেকে ভিলেজ লাইন বাসে সরাসরি ঝিটকা বাজার মোড়, সেখান থেকে হ্যালোবাইকে হরিরামপুর থানার পেছনে বয়ড়া ইউনিয়ন পরিষদসংলগ্ন পদ্মাপাড়। মানিকগঞ্জ সদর থেকে ১৮ কিমি দূরে হরিরামপুর থানার পেছনে পদ্মা নদীর তীর ধরে পূর্বদিকে হেঁটে অথবা ভাড়াকৃত ট্রলারযোগে ২ কিমি গেলেই ময়নাপাড়ার মাঠ।

রুট-২ : ঢাকা গাবতলী থেকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক হয়ে সাভারের হেমায়েতপুর থেকে বাম দিকে সিঙ্গাইর রোড হয়েও হরিরামপুর পৌঁছানো যাবে। উভয় রুটে গাবতলী থেকে গন্তব্যে পৌঁছাতে সময় লাগবে ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট বা ৩ ঘণ্টা। রাতে থাকার জন্য হরিরামপুরে জেলা পরিষদের আধুনিক ডাকবাংলো আছে। হরিরামপুরের মানুষ খুব অতিথিপরায়ণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

অসাধু ব্যবসায়ীদের জন্য পেঁয়াজের দাম কমছে না :ওবায়দুল কাদের

স্টাফ রির্পোটার :  ক্রয়ক্ষমতা বেড়ে যাওয়ায় চাল ও পেঁয়াজসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম ...

আজ বিকাল চারটায় আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সভা

স্টাফ রির্পোটার : বর্তমান ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সভা আজ ...