ব্রেকিং নিউজ
Home | ব্রেকিং নিউজ | দীর্ঘ ছুটি আবসান হলে কেমন হওয়া প্রয়োজন ক্যাম্পাস

দীর্ঘ ছুটি আবসান হলে কেমন হওয়া প্রয়োজন ক্যাম্পাস

মো ফাহাদ বিন সাঈদ

বৈশ্বিক মহামারী শিক্ষা ব্যবস্থা কে অচল করে রেখেছে ১০ মাস যাবৎ। এই দীর্ঘ সময়ে ক্যাম্পাস গুলোতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পদচারণা না থাকায় সকল কিছুই নাজেহাল অবস্থা হওয়ায় স্বাভাবিক। মাননীয় শিক্ষা মন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী ফেব্রুয়ারীর মাঝামাঝি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা হলে ক্যাম্পাস গুলোও খোলে দিবে ইউজিসি।আর এজন্য পূর্ব পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনা অতিব জুরুরি।

তাই,বিশ্ববিদ্যালয় খোলার আগে জীবাণুুুমুক্ত করতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভবন, চত্বর ও পুরো এলাকা, ক্যাম্পাসের ছোট উপকরণগুলো জীবাণুুুমুক্তকরণ, পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ ও উপযুক্ত সরঞ্জাম দিতে হবে। নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশনের ব্যবস্থা করতে হবে। একটি নিদিষ্ট অনুপাতে টয়লেট সংখ্যা বিবেচনা করার চেষ্টা করতে হবে। প্রতিটি টয়লেটে স্যানিটারি সরঞ্জাম (সাবান ও পানি অথবা অ্যালকোহলযুক্ত স্যানিটাইজার ও টিস্যু পেপার) রাখতে হবে। প্রয়োজনে নতুন করে হাত ধোয়ার স্থান, টয়লেট স্থাপনের পরিকল্পনা নিতে হবে।

এ ছাড়া ক্যাম্পাস খোলার পর করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে ব্যবস্থা নিতে হবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে। যেমন- প্রতিদিন ক্যাম্পাসে প্রবেশের সময় সংশ্লিষ্ট সবার শরীরের তাপমাত্রা পরিমাপে কন্টাক্টলেস থার্মোমিটার স্থাপন ও প্রতিদিনের তথ্য সংরক্ষণের পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। সবার মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করতে হবে। শিক্ষক ও স্টাফদের সচেতনতা বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণের পরিকল্পনা নিতে হবে। এ প্রশিক্ষণে যেসব বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে তা হলো- পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধি, শারীরিক দূরত্বের বিধি, হাত ধোয়ার সঠিক নিয়ম, মাস্ক পরার নিয়ম, হাঁচি-কাশির শিষ্টাচার, কফ ও থুতু ফেলার শিষ্টাচার ইত্যাদি।

করোনা মহামারীর এ সময়টা একেবারেই নিশ্চয়ই কেটে যাবে একদিন।ভেকসিন আসতে শুরু হয়েছে বাংলাদেশে। আমাদের বন্ধ থাকা ক্যাম্পাস আবার প্রাণচঞ্চল হয়ে উঠবে। শিক্ষক-শিক্ষার্থী মুখর হয়ে উঠবে প্রতিটি ক্যাম্পাস। কিন্তু সময়টা আরও দীর্ঘস্থায়ী না হলেই হলো। করোনার কারণে তৈরি হওয়া অনলাইন আর অফলাইনের শিক্ষার এই বৈষম্য আমাদের পড়াশোনার ব্যাপক দূরত্ব তৈরী হয়েছে।সমাধান করতে গেলে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষায় উদ্ভাবনীয় ব্যক্তিদের ভূমিকা অথবা শিক্ষায় যারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তাদের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

আমার মতে, বর্তমান সময় ও আগামীর কথা মাথায় রেখেই ক্লাস -পরীক্ষা কার্যক্রম বন্টন করা । জরুরি অবস্থায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা কী হবে, তা সুনির্দিষ্ট করে দিতে হবে। জীবনমুখী ও প্রাকৃতিক শিক্ষার উপর গুরুত্ব দিতে হবে অনেক। দ্রুত রিভিও ক্লাস ও পরীক্ষা ব্যবস্থা করতে হবে সেশন জট এর কবলে যেনো না পড়তে হয় শিক্ষার্থীদের।

ক্যাম্পাস চালু করলে বিভিন্ন স্বাস্থ্য ঝুঁকি রয়েছে তবে এগুলো সকালের সচেতনতাই পারে এই সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পেতে। তবে,ক্লাস গুলো ব্যাচ অনুযায়ী ভাগ করে দেওয়া ও নিদিষ্ট দূরত্বে বসার ব্যবস্থা করা।

আবাসিক হল গুলোতে যেনো এক রুমে গেদাগেদি করে না থাকতে হয়। সেজন্য অন্য কোন হল রুম বা ফাঁকা রুম গুলো থাকার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

শিক্ষার্থী লেখক
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, ত্রিশাল, ময়মনসিংহ।
ফিল্ম এন্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগ।
মেইল-fahadbinsayed09@gmail.com

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

তালায় জাতীয় পার্টি ও আ.লীগের কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ, আহত-৮

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : সাতক্ষীরার তালায় ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণাকে কেন্দ্র করে জাতীয় ...

অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে নেয়া হবে না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

কক্সবাজার প্রতিনিধি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, রোহিঙ্গাদের যারা আগুনে ঘর-বাড়ি হারিয়েছেন ...