Home | বিবিধ | কৃষি | ঠাকুরগাঁওয়ে ব্যতিক্রমি উদ্যোগে কৃষিতে চার বন্ধুর সফলতা

ঠাকুরগাঁওয়ে ব্যতিক্রমি উদ্যোগে কৃষিতে চার বন্ধুর সফলতা

অনিশ্চয়তার মাঝেও ঝুঁকি ও সাহস নিয়ে ব্যতিক্রমি উদ্যোগ গ্রহণ করে মালচিং পদ্ধতিতে তরমুজ চাষ করে সফল হয়েছে চার বন্ধু। এ সময় তরমুজ চাষ অনুপযোগী হলেও ব্যতিক্রম পদ্ধতিতে তরমুজ চাষ উপযোগী করতে সফল হয়েছে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার শিমুলবাড়ি গ্রামের উদ্যমী চার যুবক কৃষক। বাংলাদেশের আবহাওয়ায় সাধারণত জানুয়ারি থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত তরমুজ চাষের উপযুক্ত সময় হলেও আগস্ট থেকে অক্টোবর মাসে তরমুজ চাষ করে বিস্ময় সৃষ্টি করছেন এই ৪ উদ্যমী কৃষক। অদম্য ইচ্ছা শক্তি ও কঠোর পরিশ্রম করে অসম্ভবকেও যে মানুষ সম্ভব করতে পারে তারই দৃষ্টান্ত রাখলেন এই যুবক কৃষকরা। অসময়ে তরমুজ চাষ করে তাদের পরিশ্রম আজ স্বার্থক। এতে খুশিও তারা। ঠাকুরগাঁও

জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার শিমুলবাড়ি তেঁতুলতলা ভাতারমারি ফার্মে মোট ১০ একর জমি লিজ নিয়ে মালচিং পদ্ধতিতে “সুইট ব্ল্যাক টু, ল্যান্ড থাই ও মধুবালা” এই তিন জাতের তরমুজ চাষ করে সফল হয়েছেন চার বন্ধু। বীজ বপনের মাত্র ৬৫ দিনের মধ্যে তরমুজ কর্তন ও বাজারজাত করছেন তারা। এরই মধ্যে প্রায় ২৫ টন তরমুজ বিক্রি করেছেন। আর এই তরমুজ যাচ্ছে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে।
তরমুজ ক্ষেতে কাজ করতে আসা চন্দন কুমার রায় নামে এক শ্রমিক বলেন, ভাদ্র-আশ্বিন মাসে সচরাচর কাজ থাকে না এখানে কাজ করার ফলে তাদের সংসার ভালো চলছে। এছাড়াও শ্রমিক মাহাবুবুল আলম বলেন, আমরা দোয়া করি এই চার বন্ধু যেন ভবিষ্যতে আরও বেশি অগ্রসর ও লাভবান হন।
উদ্যমী কৃষক সালাউদ্দিন জানান, এতো পরিশ্রম ও খরচের পরেও ফলন নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকলেও এখন দুশ্চিন্তা কেটে গেছে । বিশেষ করে মেইন সড়কের পাশে তাদের এই ফসল হওয়ায় রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী মানুষ সহ বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিদিন শত শত দর্শনার্থী তাদের তরমুজ ক্ষেত দেখতে আসেন। তার জন্য তাদের মনে আনন্দ অনুভব হয় ও অনেক ভালো লাগে বলে জানান তিনি। উদ্যমী আরেক কৃষক মুন্না বলেন, এবার তরমুজের ফলন ভালো হয়েছে। অসময়ে তরমুজ হওয়ায় বাজারে চাহিদা ও দাম দুটোই বেশি। তাই এবার বেশি লাভবান হব বলে আশা করছি। কৃষক মঞ্জুর আলম জানান, শুরুতে খুব কষ্ট ও পরিশ্রম হলেও তরমুজের ফলন ভালো হওয়ায় হতাশা কেটে যায়। আনোয়ার হোসেন সুমন নামে একজন কৃষক জানান, তাদের এমন সাফল্য দেখে আগামীতে এই পদ্ধতিতে তরমুজ চাষ ব্যাপক সাড়া ফেলবে ও সারা বছরই তরমুজ পাওয়া যাবে বলে আশা করেন তিনি।
চট্টগ্রাম থেকে আসা তরমুজ ক্রেতা ও ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন জানান, বাজারে চাহিদা আছে বলেই তরমুজ গুলো ক্রয় করছেন তিনি। পীরগঞ্জ উপজেলার ৩ নং খনগাঁও ইউনিয়নের উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা বাবুল হক জানান, মালচিং পদ্ধতিতে তরমুজ চাষের সুবিধা অনেক। এ পদ্ধতিতে চাষ করলে যে কোন সময় তরমুজ চাষ করা যায়। অন্যান্য সময়ের চেয়ে এ অসময়ে মালচিং পদ্ধতিতে তরমুজের ফলন বেশি এবং এর চাহিদা ও দাম ব্যাপক হওয়ায় আগামীতে এ পদ্ধতিতে তরমুজ চাষ এলাকায় ব্যাপক হারে বেড়ে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

মোঃ মজিবর রহমান শেখ,ঠাকুরগাঁওঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

বৃষ্টিতে কৃষকের স্বস্তি, রাণীশংকৈলে সজীব-সতেজ হয়ে উঠছে ফসলের মাঠ

অনেকদিন পর বৃষ্টির দেখা মিলেছে। শুকিয়ে যাওয়া আমনের জমিতে জমেছে পানি। ফোটা ...

ঝিনাইদহে ২,৫৯৬ হেক্টর জমিতে রসুন চাষ,

জাহিদুর রহমান তারিক, ঝিনাইদহ : এবার ঝিনাইদহের মাঠে ২,৫৯৬ হেক্টর জমিতে চাষ হচ্ছে ...