Home | বিবিধ | আইন অপরাধ | গ্রেফতারের ভয়ে সাকাকে দেখতে যাননি কেউ

গ্রেফতারের ভয়ে সাকাকে দেখতে যাননি কেউ

saka chowস্টাফ রিপোর্টার : মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপির  নেতা সালাউদ্দিন কাদের  চৌধুরীকে দেখতে ঈদুল আজহার দিনও কেউ যায়নি। বুধবার সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত পরিবার অথবা কোনো নিকটাত্মীয় তাকে দেখতে যাননি বলে কারা কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী বর্তমানে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের কাশিমপুর পার্ট-১-এ বন্দী আছেন।

১ অক্টোবর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ  দেন। এর পর থেকে বুধবার সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত কেউ তাকে দেখতে কারাগারে ‘সাক্ষাৎ স্লিপ’ নেয়নি বলে জানায় কাশিমপুর-১ কর্তৃপক্ষ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গ্রেফতার আতঙ্কেই পরিবারের সদস্যরা সালাউদ্দিন কাদেরের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছেন না। এ বিষয়ে জানতে সালাউদ্দিনের ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

আদালতের ঘোষণার আগেই সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে দেয়া রায়ের অংশবিশেষ আগের রাতে ফাঁস হয়ে যায়। রায় ঘোষণার পর বিএনপির এ নেতার আইনজীবী ও স্ত্রী-পুত্ররা সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেছিলেন, মামলার রায়ের কপি তারা ইন্টারনেটের মাধ্যমে আগেই পেয়েছেন। তাই এই রায়ের স্বচ্ছতা নিয়ে তারা প্রশ্ন তোলেন।

ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ও সরকারপক্ষ এই ফাসের ঘটনাকে ষড়যন্ত্র হিসেবে অভিহিত করে এবং এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের খুঁজে বের করার কথা জানায়।

পরদিন ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার এ কে এম নাসিরউদ্দিন মাহমুদ রায়ের খসড়া কপি ফাঁসের কথা স্বীকার করেন। এর পেছনে একটি সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে শাহবাগ থানায় প্রথমে সাধারণ ডায়রি (জিডি) এবং পরে আইসিটি আইনে মামলা হয়।

কয়েক দিন পর রায় ফাঁসের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ট্রাইব্যুনালের দুই কর্মচারী নয়ন আলী ও ফারুক গ্রেফতার হন। তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পরিবার ও তার আইনজীবীর জড়িত থাকার কথা জানান।

এসব কারণে সালাউদ্দিন চৌধুরীর পরিবারের লোকজন ও স্বজনরা রায় ঘোষণার পরদিন থেকেই তার সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়টি এড়িয়ে চলছেন। ২০১০ সালের ১৬ ডিসেম্বর সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী গ্রেফতার হওয়ার পর সব ঈদেই তার পরিবারের সদস্যরা বাসা থেকে খাবার নিয়ে কারাগারে তার সঙ্গে দেখা করেছেন। কিন্তু এবার মূলত গ্রেপ্তারের হয়রানির ভয়েই কেউ ঈদুল আজহার দিনও তার সঙ্গে দেখা করতে কারাগারে যাননি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

রাণীশংকৈলে কৃষকের জমির ফসল নষ্ট করল দূর্বৃত্তরা

ধানক্ষেতে আগাছানাশক বিষ প্রয়োগ করেছে দূর্বৃত্তরা। এতে এক কৃষকের ২ একর ৩৩ ...

সকলের সহযোগিতার পেলে মাদক নির্মুল করা সম্ভব -ওসি এসএম জাহিদ ইকবাল

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার ইএসডিও প্রকল্পের আয়োজনে মাদক হ্রাস, আইনশৃংখলা ও বিট পুলিশিং ...