Home | আন্তর্জাতিক | খুলনায় বিএনপির আহবানে সকাল-সন্ধ্যা শান্তিপূর্ণ স্বতঃস্ফূর্ত হরতাল পালিত : আ’লীগ-যুবলীগ ক্যাডারদের মহড়া ও সন্ত্রাস এবং ছাত্রলীগের পত্রিকায় অগ্নিসংযোগের নিন্দা

খুলনায় বিএনপির আহবানে সকাল-সন্ধ্যা শান্তিপূর্ণ স্বতঃস্ফূর্ত হরতাল পালিত : আ’লীগ-যুবলীগ ক্যাডারদের মহড়া ও সন্ত্রাস এবং ছাত্রলীগের পত্রিকায় অগ্নিসংযোগের নিন্দা

এম শিমুল খান, খুলনা প্রতিনিধি, ৫ মার্চ, বিডিটুডে ২৪ডটকম : বিক্ষিপ্ত ভাংচুর, টায়ারে অগ্নিসংযোগ, ককটেল বিস্ফোরন ও কড়া পুলিশী নজরদারীর মধ্যে বিভাগীয় সদর খুলনায় বিএনপির ডাকে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালিত হয়েছে। পিকেটিংয়ের সময় ইকবালনগর থেকে দুই ছাত্রদল নেতাকে বেদম মারপিটের পর পুলিশের হাতে তুলে দেয় হরতাল বিরোধী যুবলীগ কর্মীরা। খালিশপুর ও দৌলতপুর থানা এলাকায় সকালে হরতালের সমর্থনে কয়েকদফা মিছিল হয়েছে। সদর ও সোনাডাঙ্গা থানা এলাকায় স্বেচ্ছাসেবক দল দু’দফা মিছিল বের করলে পুলিশের ধাওয়ায় ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। সকাল থেকে বিএনপি কার্যালয়ের প্রবেশের দু’টি পথ কাটাতারের বেরিকেড দিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখে পুলিশ। সকাল পৌনে ৮টায় জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল খলিল চেম্বারের এলাকায় একটি মিছিল বের করে। পুলিশ ধাওয়া করে তাদেরকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এখান থেকে সোহাগ নামে এক যুবককে পিকেটার সন্দেহে গ্রেফতার করে। এ সময় যুবলীগ কর্মীরা সেখানে পৌছে সোহাগকে তাদের দলীয় কর্মী দাবি করে ছাড়িয়ে নেয়। সকাল সোয়া ৮টায় স্বেচ্ছাসেবক দল নিক্সন মার্কেট থেকে মিছিল নিয়ে রেলস্টেশনের দিকে অগ্রসর হলে পুলিশ ধাওয়া করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। সকাল ৯টায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা কেডিএ এভিনিউ’র ইকবালনগর মোড়ে হরতালের সমর্থনে মিছিল বের করে। পুলিশ তাদের ধাওয়া করলে ইকবাল নগর এলাকা দিয়ে পালিয়ে যায়। এ সময় ময়লাপোতা মোড়ে সকাল থেকে অবস্থান নেয়া যুবলীগ কর্মীরা ছূটে এসে ইকবালনগরের গলিতে ঢুকে বাড়িতে বাড়িতে তল্লাশী শুরু করে। তারা ২৪নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারন সম্পাদক ওমর ফারুকের বাড়ির চতুর্থ তলা থেকে মহানগর ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ও সিটি কলেজের সাবেক জি এস মশিউর রহমান জাদু এবং বাড়ির ছাদ থেকে কমার্স কলেজ ছাত্রদল নেতা শামিম আশরাফকে খুজে বের করে। এরপর ওই বাড়ির চেয়ার ভেঙ্গে পায়া দিয়ে বেদম মারপিট শুরু করে। বাড়ির লোকজন এ কাজে বাঁধা দিলে তাদের সঙ্গে চরম দূর্ব্যবহার করে। চার তলার ওপর থেকে ছাত্রদল নেতাদের আর্তচিৎকার যে সময় ভেসে আসছিল তখন নিচ তলায় পুলিশ নির্বিকারভাবে দাড়িয়ে ছিল। পরে তাদেরকে পুলিশের হাতে তুলে দিলে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেয়া হয়। সকাল ১০টার দিকে যুবদল সিমেট্রি রোডে মিছিল করার উদ্যোগ নিলে পুলিশের তৎপরতায় তা পন্ড হয়ে যায়। এদিকে, সকাল ৮টায় মহানগর বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু এমপি কে ডি ঘোষ রোডে দলীয় কার্যালয়ের সামনে পৌছালে পুলিশ সড়কের দু’প্রান্তে কাটাতারের বেরিকেড স্থাপন করে। এখানে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। দলীয় নেতাকর্মীদের তো দুরের কথা কোন সাধারণ মানুষকে এ রাস্তায় ঢুকতে দেয়া হয়নি। বেলা ১১টার পরে কড়াকড়ি শিথিল করা হলে একে একে নেতাকর্মীরা হাজির হয়। সেখানে হরতালের সমর্থনে একটি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। নজরুল ইসলাম মঞ্জু এমপি’র সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা এম নূরুল ইসলাম দাদু ভাই। বক্তব্য রাখেন, মনিরুজ্জামান মনি, শফিকুল আলম মনা, সাহারুজ্জামান মোর্তুজা, সৈয়দা নার্গিস আলী, অ্যাডভোকেট স ম বাবর আলী, অ্যাডভোকেট এস আর ফারুক, রেহানা ঈসা, ফখরুল আলম, অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম, মাহবুব কায়সার, আবু হোসেন বাবু, নজরুল ইসলাম বাবু, মেহেদী হাসান দিপু, শফিকুল আলম তুহিন, শের আলম সান্টু, আজিজা খানম এলিজা, হাসিবুল হক বাবলা, ইকবাল হোসেন খোকন, সাদিকুর রহমান সবুজ, এহতেশামুল হক শাওন, আজিজা খানম এলিজা, ইউসুফ হারুন মজনু, মাসুদ পারভেজ বাবু, সাইদ হাসান লাভলু, কে এম হুমায়ুন কবির, এমরানুল কবির নাসিম, একরামূল কবির মিল্টন, শফিকুল ইসলাম হোসেন, একরামূল হক হেলাল, হাসান মেহেদী রিজভী, হাসানুর রশিদ মিরাজ, আব্দুল আজিজ সুমন, নিয়াজ আহমেদ তুহিন, আব্দুর রহিম বক্স দুদু, শামসুজ্জামান চঞ্চল, আরিফুজ্জামান আরিফ, কামরান হাসান
, এবাদুল হক রুবায়েদ, শেখ ফারুক হোসেন, সাইদ শেখ, আফজাল হোসেন পিয়াস, বদরুল আনাম, ওমর ফারুক, মেজবাহ উদ্দিন মিজু, শেখ আব্দুল জব্বার, মীর কবির হোসেন, মোঃ জামাল উদ্দিন, রোকেয়া ফারুক, বাচ্চু মীর, মহিউদ্দিন টারজান, রাজুল হাসান রাজু, নাসির খান, উত্তম কুমার, মোস্তফা কামাল, শেখ জাফিরুল ইসলাম, জি এম রফিকুল হাসান, মাহবুব হাসান পিয়ারু, সাব্বির খান, শরিফুল আনাম, ময়েজ উদ্দিন চুন্নু, মেহেদী হাসান সোহাগ, শাকিল আহমেদ, হাসনা হেনা, মোহাম্মদ আলী প্রমুখ। সমাবেশে সভাপতির বক্তৃতায় নজরুল ইসলাম মঞ্জু এমপি বলেন, শেখ হাসিনার সরকার স্বাধীনতা উত্তরকালের কলংকজনক গণহত্যা শুরু করেছে। পুলিশ-বিজিবি’র নির্বিচারে গুলি বর্ষনে মৃত্যুর মিছিলে লাশের সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। আলেম ওলামাদের হত্যা দিয়ে শুরু করার পর এবার নারী-শিশুরা বুলেটের ছোবল থেকে রেহাই পাচ্ছে না। পুলিশের সাথে যুবলীগ-ছাত্রলীগের সসস্ত্র ক্যাডাররা যুক্ত হয়ে নারকীয় তান্ডব শুরু করেছে। খুলনা মহানগর যুবলীগের আহবায়ক অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান পপলুর নেতৃত্বে বিএনপি নেতা ওমর ফারুকের বাড়িতে হামলা হয়েছে এবং সেখান থেকে ছাত্রদল নেতা মশিউর রহমান জাদুসহ দুই জনকে বেদম প্রহার করেছে ক্যাডার বাহিনী। হরতাল ঠেকাতে যুবলীগ ক্যাডার ফেরদৌস হোসেন হিরু এবং খালিশপুরে আওয়ামী লীগ নেতা টোনা-মনি বাহিনী সশস্ত্র মহড়া দিয়েছে। মহানগর ছাত্রলীগ সভাপতি দেব দুলাল বাড়ৈ বাপ্পির নেতৃত্বে ছাত্রলীগ ক্যাডাররা আমার দেশ পত্রিকায় অগ্নিসংযোগ করেছে এবং মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে অশালিন কটুক্তি ও শ্লোগান দিয়েছে। বক্তারা বলেন, জুলুম নির্যাতন ও নৈরাজ্য চালিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকার দিন শেষ হয়ে গেছে। সারা দেশ অগ্নিগর্ভে পরিণত হয়েছে। যে কোন মুহুর্তে গণবিস্ফোরনে সরকারের পতন ঘটবে। বক্তারা খুলনায় শান্তিপূর্ণভাবে সর্বাত্মক হরতাল পালন করায় নগরবাসীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

x

Check Also

বাংলাদেশের পতাকার রঙে আলোকিত হলো অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেন

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডের রাজধানী ব্রিসবেনের দুটি মূল স্থাপনা স্টোরি ব্রিজ এবং ...

অবশেষে বৈঠকে বসছে ভারত ও পাকিস্তান

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : দুই বছর পর সিন্ধুর জল বণ্টন নিয়ে মঙ্গলবার (২৩ মার্চ) ভারতের সঙ্গে ...