ব্রেকিং নিউজ
Home | বিবিধ | কৃষি | কুড়িগ্রামে প্রায় ২২ কোটি টাকার লটকন উৎপাদন

কুড়িগ্রামে প্রায় ২২ কোটি টাকার লটকন উৎপাদন

অনিরুদ্ধ রেজা, কুড়িগ্রাম : কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ী ও পার্শ্ববর্তী রাজারহাট উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নে এ বছর ২২ কোটি টাকার লটকন উৎপাদন হয়েছে। এ দুই এলাকায় ভরা মৌসুমে লটকনের মোকাম থেকে প্রতিদিন গড়ে ৫০০ মণ লটকন ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চলে যাচ্ছে। গত বছরের চেয়ে দাম ও ফলন ভালো হওয়ায় লটকন চাষি ও পাইকাররা এবার বেশ লাভবান হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।

স্থানীয় লটকন ব্যবসায়ী আলম, মনির, জাহাঙ্গীর ও রফিকুল জানান, তাঁরা ১০-১২ বছর ধরে লটকনের ব্যবসা করছেন। সুস্বাদু এই ফলটির চাহিদা ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় বেশি। বর্তমানে কাঁঠালবাড়ী ও ছিনাই ইউনিয়নে প্রচুর পরিমাণ লটকন চাষ হচ্ছে। ফলে প্রতিদিন এখান থেকে নৈশকোচের ছাদে করে প্রায় ২০০ টি লটকনের খাঁচা ঢাকা, সাভার, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, গাজীপুর, বগুড়াসহ বিভিন্ন আড়তে চলে যাচ্ছে। গড়ে এক হাজার ৫০০ টাকা মণ হিসেবে প্রতিদিন সাড়ে ৭ লাখ টাকার লটকন চলে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন এলাকায়। ২০ দিন ধরে এই কারবার চলছে। সেই হিসেবে এ বছর ২২ কোটি ৫০ লাখ টাকার লটকন উৎপাদন হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাইকাররা এসে আগাম বাগান কিনে নেন।

সরেজমিন দেখা গেছে, সুপারিগাছের ফাঁকে নামমাত্র পরিচর্যা আর খরচ করেই লাখ লাখ টাকার লটকন বিক্রি করছেন অনেক লটকন চাষি। কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার শিবরাম গ্রামের আবু বক্কর সিদ্দিক (৫৫) সফল লটকন চাষি হিসেবে সবার নজর কেড়েছেন। তিনি জানান, প্রায় ৩৩ বছর আগে তাঁর বাবা পাঁচ একর জমিতে সুপারিসহ অন্যান্য ফলমূলের বাগান করেন। বাগানের চারপাশে সারিবদ্ধভাবে কিছু লটকনগাছ লাগান। ১৯ বছর ধরে এসব গাছ ফল দিতে শুরু করে। বর্তমানে ২০০টি লটকনগাছ থেকে লটকন উৎপাদন করা হচ্ছে। এ বছর লটকন উৎপাদন হবে চার লাখ টাকারও বেশি। তিনি জানান, সারা বছরে বাগানের পেছনে খরচ পড়েছে মাত্র ২০ হাজার টাকা। শুষ্ক মৌসুমে দু-একবার সেচ প্রদান, মুকুল আসার সময় দু-তিনবার কীটনাশক স্প্রে ও গাছের গোড়ায় সামান্য রাসায়নিক সার প্রয়োগ করা ছাড়া লটকন চাষে আর কোনো পরিচর্যা করতে হয় না।

এ ছাড়া শিবরাম গ্রামের আনোয়ার হোসেন এক লাখ ২০ হাজার, রাজারহাটের ছিনাই এলাকার দেলোয়ার হোসেন এক লাখ টাকায় লটকন বাগান বিক্রি করেছেন। পূর্ব দেবোত্তর গ্রামের মহির খোকা ৮০ মণ, মহেন্দ্রনারায়ণ গ্রামের কৌশল চন্দ্র ১২০ মণ লটকন উৎপাদনের আশা করছেন। পাইকাররা গ্রামে গ্রামে ঘুরে লটকন সংগ্রহ করছেন। এ ছাড়াও হাটবারে কাঁঠালবাড়ী হাটে বিক্রি হচ্ছে লটকন।

কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক ড. মোস্তাফিজুর রহমান প্রধান জানান, এ বছর ৮৭ হেক্টর জমিতে লটকন চাষ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৭০ মেট্রিক টন। লটকন চাষ করে অনেকে লাভবান হওয়ায় এবং বিপণনে কোনো সমস্যা না হওয়ায় বাণিজ্যিকভাবে লটকন চাষ করার উদ্যোগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলে জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

অসাধু ব্যবসায়ীদের জন্য পেঁয়াজের দাম কমছে না :ওবায়দুল কাদের

স্টাফ রির্পোটার :  ক্রয়ক্ষমতা বেড়ে যাওয়ায় চাল ও পেঁয়াজসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম ...

আজ বিকাল চারটায় আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সভা

স্টাফ রির্পোটার : বর্তমান ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সভা আজ ...