Home | ব্রেকিং নিউজ | কালিয়াকৈরে ভূল চিকিৎসায় প্রসুতির মৃত্যুর অভিযোগ

কালিয়াকৈরে ভূল চিকিৎসায় প্রসুতির মৃত্যুর অভিযোগ

কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি : গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ভূল চিকিৎসায় এক প্রসুতি মায়ের মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। কালিয়াকৈর বাইপাস এলাকায় দেওয়ান ডিজিটাল হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টার প্রাইভেট লিমিটেডে সরকারী ডাক্তারের ভূল অপারেশনের কারনে অতিরিক্ত রক্ত ক্ষরনে ওই প্রসুতি মায়ের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে ওই প্রসূতির নবজাতক ছেলে সন্তান জীবিত এবং সুস্থ্য রয়েছে।

নিহত হলেন- উপজেলার বাজ হিজলতলী গ্রামের মুকুল হোসেনের স্ত্রী আরজু আক্তার (৩০)।

ভোক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, সোমবার (২ নভেম্বর ) সকাল ৯টায় প্রসুতি আরজু আক্তার দেওয়ান ডিজিটাল হাসপাতালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গাইনী বিভাগের চিকিৎসক কুহু মুৎসুদ্দীকে দেখাতে গেলে সে প্রসুতির পেটের বাচ্চা বড় হয়ে গেছে এবং জরুরীভাবে অপারেশনের মাধ্যমে সন্তান প্রসবের পরামর্শ দেন। এসময় চিকিৎসক তাকে হিমোগ্লোবিনসহ বিভিন্ন ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা করাতে বলেন। ওই সময় প্রসূতির কোন অভিবাবক পাশে না থাকার কারণে সে বাড়ীতে চলে যায়। পরে বিকেলে তার স্বামীকে সাথে নিয়ে এসে  ওই ক্লিনিকে ভর্তি হয়ে যাবতীয় পরীক্ষা সম্পন্ন করেন এবং চিকিৎসক পরীক্ষার রিপোর্ট দেখে রোগীর শরীরে রক্ত শূন্যতার কথা জানান এবং তাকে অপারেশনের আগেই রক্ত দেওয়ার কথা বলেন। রোগীর অভিভাবকরা রক্ত সংগ্রহ করলে সোমবার রাতে দুই ব্যাগ রক্ত প্রসূতির শরীরে দেওয়া হয়। পরের দিন মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক কুহু মুৎসুদ্দী কোন রকম প্রস্তুতি ছাড়াই রোগীর শরীরে অস্ত্রোপচার করেন। এতে সন্তান সুস্থ্যভাবে ভূমিষ্ট হলেও প্রসূতির শারিরীক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকে। এসময় তার শরীর থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হতে থাকলে ওই চিকিৎসক উপায়ন্তর না দেখে সাভার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর নির্দেশ দেন। দেড় ঘন্টা পর রোগীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় স্বজনরা এনাম মেডিকেলে নিয়ে যায় এবং আইসিইউ ইউনিটে ভর্তি করেন। এসময় রক্তক্ষরণ বন্ধের জন্য ওই হাসপাতালে পূনরায় আরেকটি অপারেশন করা হয় । পরদিন বুধবার ভর্তি থাকা অবস্থায় সে মারা যায়।

নিহত প্রসূতির পরিবারের অভিযোগ, দেওয়ান ডিজিটাল ক্লিনিকের গাইনি চিকিৎসকের ভূল অপারেশনে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয় পরে তা কোনক্রমে বন্ধ করতে না পারায় প্রসূতির মৃত্যু হয়।

নিহতের স্বামী মুকুল হোসেন জানান, ভূল চিকিৎসায় আমার স্ত্রীর মত কারো যেন অকাল মৃত্যু না হয়, আর কারো সন্তান যেন এতিম না হয়। দেওয়ান ডিজিটাল ক্লিনিকের চিকিৎসকের ভূল অপারেশনে আরো অনেকে মৃত্যুর হাত থেকে ফিরে এসেছে অন্য হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নিয়ে। ডাক্তারসহ যারা এ ঘটনায় দায়ী আমি তাদের শাস্তি দাবী করছি।

অভিযুক্ত চিকিৎসক কুহু মুৎসুদ্দী অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, রক্তে হিমোগ্লোবিন কম ছিল যার ফলে দুই ব্যাগ রক্ত প্রসূতির শরীরে ঢুকানো হয় , হিমোগ্লোবিন স্বাভাবিক অবস্থায় আসলে অপারেশন করি। কিন্তু আধা ঘন্টা পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে অবস্থা আশংকাজনক হয়। পরে দুই ব্যাগ রক্তসহ রোগীকে সাভার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

দেওয়ান ডিজিটাল হাসপাতালের ম্যানেজার দেওয়ান আসাদুল ইসলাম জানান, ওই প্রসূতি ভূল চিকিৎসায় মারা যায়নি। অপারেশনের পর তার অতিরিক্ত রক্ত ক্ষরনের কারনে তাকে সাভারের এনাম মেডিকেলে রেফার্ড করেছি।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডাঃ আল বেলাল জানান, সরকারী অফিস চলাকালীন সময়ে কোন চিকিৎসক অকারেন্স করে তা হলে সেটা আমার দায়িত্ব। কিন্তু এর বাহিরে যদি গাইনি বিভাগের ওই চিকিৎসক অপারেশন করে থাকে তা হলে তার দায়িত্ব ওই চিকিৎসকের এ বিষয়ে আমি আর কোন কথা বলতে রাজি নই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

আনোয়ার গ্রুপের চেয়ারম্যান আর নেই

স্টাফ রিপোর্টার: দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী আনোয়ার গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান আলহাজ ...

গণটিকা: দুই ডোজ সম্পন্ন হলে সবাই সনদ পাবেন

স্বাস্থ্য ডেস্ক: টিকা গ্রহণ করা সবাই দুই ডোজ সম্পন্ন হলে সনদ নিতে ...