Home | সারা দেশ | কক্সবাজারে ফের বেপরোয়া রোহিঙ্গারা সব জেনেও প্রশাসন নীরব

কক্সবাজারে ফের বেপরোয়া রোহিঙ্গারা সব জেনেও প্রশাসন নীরব

coxsbazarএম.শাহজাহান চৌধুরী শাহীন, কক্সবাজার, ২৬ অক্টোবর  :  কক্সবাজার জেলায় ফের বেপরোয়া হয়ে উঠেছে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ রোহিঙ্গা রোহিঙ্গা। মানবাধিকারের নামে ১০টি সংগঠন  এসবরোহিঙ্গাদের পৃষ্ঠপোষকতায় দিয়ে আসছে। বিচ্ছিন্নতাবাদি কিছু রোহিঙ্গা বর্তমানে জামায়াত ও বিএনপির সাথে একাত্ম হয়ে নাশকতার প্রচেষ্টাও বিভিন্ন ভাবে শুরু করেছে বলে একটি দায়িত্বশীল সুত্র জানিয়েছেন। গত ২০১২ সালের ২৯ ও ৩০ সেপ্টেম্বর রামু ও উখিয়ার বৌদ্ধপল্লীতে ব্যাপক সহিংসতার নেপথ্যে রোহিঙ্গাদের জড়িত থাকার বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছিল সরকার। এমন একটি প্রতিবেদন সরকারের উচ্চ মহলে জমাও দিয়ে ছিলেন একটি গোয়েন্দা সংস্থা। কয়েক জন আরএসও রোহিঙ্গা নেতাকে তৎপরবতী আটকও করা হয়েছিল। তবে সবকিছু বোঝার পরও প্রশাসন সে সময় অনেকটা রহস্য জনক ভাবে নীরব ছিল। ফলে সাম্প্রতিক সময়ে এসে সেই সুযোগকে কাজে লাগাচ্ছে উগ্রবাদি রোহিঙ্গারা।
একটি সূত্র জানান, জাতিগত সংঘাতের দোহাই দিয়ে এদেশেরোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ছাড়াও গত কয়েক বছর ধরে মিয়ানমার সরকার তাদের সীমান্তবর্তী রোহিঙ্গা অধ্যুষিত গুচ্ছগ্রামগুলো এবং খালি জায়গায় রাবার চাষের প্রকল্প তৈরি করছে। এজন্য ওই গ্রামগুলো থেকে পর্যায়ক্রমে রোহিঙ্গাদের অনেকটা জোর করে বাংলাদেশে পুশ করছে। একই সঙ্গে ওই গ্রামগুলোর কিছু কিছু জায়গায় মিয়ানমারের অন্য অংশ থেকে লোকজন এনে এখানে বসবাসের সুযোগ করে দিচ্ছে। এই সুযোগে বানের পানির মতো এদেশে চলে আসে রোহিঙ্গারা ।
একটি গোয়েন্দা সূত্র জানায়, রোহিঙ্গাদের মদদদাতা এনজিওগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন (আরএসও) , আরাকান রোহিঙ্গা ন্যাশনাল অর্গানাইজেশন (আরএনো), ইত্তিহাদ আল তাল্লুব আল মুসলেমিন (আইটিএম), এমএসএফ হল্যান্ড, এসিএফ, মুসলিম এইড-ইউকে, ভার্ক, আরটিআই, রিভ এবং সেভ দ্যা চিলড্রেন। এসব এনজিও গুলোর মধ্যে কয়েকটিকে সরকারী ভাবে নিষিদ্ধও করা হয়েছিল। কিন্তু এসব এনজিও তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখে।
সুত্র মতে, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ড. ওয়াকার উদ্দীন নামের এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের নেতৃত্বে ১০ সদস্য বিশিষ্ট একটি দল বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের জন্য দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তারা রোহিঙ্গাদের জন্য লবি নিয়োগ করেছেন। উক্ত ওয়াকার উদ্দীন নিজেও একজন রোহিঙ্গা বংশোদ্ভূত। আইটিএম নামের একটি সংগঠন ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগে তাদের বিস্তৃতি ঘটিয়েছেন। মিয়ানমারের ইউনাইটেড মুসলিম স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন-এর সহযোগিতায় আইটিএম কক্সবাজার জেলায় এবং পুরো চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় রোহিঙ্গাদের হয়ে কাজ করছেন। তাদের লক্ষ্য যে কোনো মূল্যে এ দেশে রোহিঙ্গাদের অবস্থান ধরে রাখা।
কক্সবাজারে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ ও প্রত্যাবাসন আন্দোলন কমিটির সাধারণ সম্পাদক নুর মোহাম্মদ সিকদার জানান, একটি স্বার্থান্বেষী মহল কক্সবাজারকে রোহিঙ্গা রাজ্য বানানোর চক্রান্ত চালাচ্ছে। এই চক্রের সঙ্গে মিয়ানমারের কয়েকটি জঙ্গিগোষ্ঠীর হাত রয়েছে। এসব জঙ্গিগোষ্ঠীর প্রায় সবাই এখন কক্সবাজারের বাসিন্দা বনে গেছেন। দান খয়রাতও দু’হাত খুলে করছেন রোহিঙ্গাদের।
তিনি আরো জানান, টেকনাফ ও উখিয়ায় কর্মরত কয়েকটি বিদেশি এনজিও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ও অশান্তি সৃষ্টির মাধ্যমে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরিতে বার বারই ইন্ধন জোগাচ্ছে।
এদিকে, গত কয়েক বছর ধরে এদেশীয় মৌলবাদি গোষ্টী ও বিএনপির সাথে যুক্ত হয়েছে রোহিঙ্গারা। সরকার বিরোধী বিভিন্ন আন্দোলনে এবং মিছিল মিটিংএযোগ দিচ্ছে বেশীর ভাগরোহিঙ্গা। বর্হিবিশ্বে বাংলাদেশের ভামুর্তিক্ষুন্ন করার কাজেও জড়িত রয়েছে  এসবরোহিঙ্গা নেটওয়ার্ক। মধ্যপ্রাচ্য সহ বিশ্বের বিভিন্নদেশ হতে সাহার্য্য এনে রোহিঙ্গাদের মাঝে বিলি বন্টন করা হচ্ছে। গতকোরবানের সময় আরএসও সহ বিভিন্ন সংস্থা রোহিঙ্গাদের মাঝে গরু ও ছাগলের মাংস বিতরণ করেছে। সে সাথে নগদ টাকাও। মসজিদ, এতিমখানা ও বৃদ্ধাশ্রম নির্মাণের নামে বনভুমিও দখল করছে অনেক স্থানে। আর এসব কাছে প্রকাশ্যে ইন্দন দিয়ে যাচ্ছেন বেশ কিছু জনপ্রতিনিধি। কক্সবাজার জেলার প্রায় ৮০ শতাংশ মসজিদের ইমাম রোহিঙ্গা। বিভিন্ন মাদ্রাসা ও এতিমখানায়ও শিক্ষকতা করছে রোহিঙ্গা। এসব ইমাম কিংবা শিক্ষক বিভিন্ন মাদ্রাসার ছাত্রদের ইসলামের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে জিহাদ সংশ্লিষ্ট উগ্রপন্থা সম্পর্কে শিক্ষা দিচ্ছেন। একইসঙ্গে তারা স্থানীয় মুসলমানদের বø্যাকমেইল করে তাদের সহানুভূতি নিচ্ছে।
একটি দায়িত্বশীল সুত্র জানায়, এ ছাড়া স্থানীয় প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধিরা ভোট যুদ্ধে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে রোহিঙ্গাদের নিজেদের আত্মীয়স্বজন পরিচয় দিয়ে ভোটার বানিয়ে ফেলেছেন। রোহিঙ্গা আরএসও কিংবা আরএনও নেতা এবং কিছু সুবিধাভোগী জনপ্রতিনিধিদের সহযোগীতায় হাত বাড়ালেই বাংলাদেশি পাসপোর্ট পেয়ে যাচ্ছে রোহিঙ্গারা। ভুয়া ঠিকানা সংবলিত পাসপোর্ট-ভিসা নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমানো রোহিঙ্গাদের কারণে বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি নেয়াই বন্ধ করে দিয়েছে কয়েকটি দেশ। রোহিঙ্গাদের অপরাধের কারণে ইমেজ সংকটে পড়েছে বাংলাদেশ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ইনস্টিটিউটের এক অধ্যাপক জানান, রোহিঙ্গাদের পাসপোর্টের বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত করলেই থলের বিড়াল বেড়িয়ে আসত। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং ভেরিফিকেশনের দায়িত্বে থাকা পুলিশ কর্মকর্তাকে জবাবদিহির মধ্যে নিয়ে এলেই এই অপরাধ অনেকটা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।
কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মো. আজাদ মিয়া জানান, ইতোমধ্যে মুসলিম এইড-ইউকে, এমএসএফ-হল্যান্ডসহ তিনটি এনজিওকে রোহিঙ্গাদের নিয়ে কাজ করতে নিষেধ করা হয়েছে। বাকিদের কার্যক্রম ক্লোজ মনিটরিংয়ের (নিবিড় পর্যবেক্ষণ) মধ্যে রাখা হয়েছে। একই কথা জানিয়েছেন জেলা প্রশাসন সুত্রও।
প্রসংগত, বর্তমানে কক্সবাজারের মোট জনসংখ্যা ২২ লাখ ৫৭ হাজার ৯৫৭ জন। এরমধ্যে রোহিঙ্গা সাড়ে চার লাখের উপরে। তবে সরকারি হিসাবে, টেকনাফের নয়াপাড়া এবং উখিয়া কুতুপালং শরণার্থী ক্যাম্পে রেজিস্টার্ড রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংখ্যা মাত্র ৩০ হাজার ২২৫ জন। ইউএনএইচসিআর এর কাছ থেকে বিভিন্ন সুবিধা পেয়ে আসছে এরা ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

ঠাকুরগাঁওয়ের সালন্দর ইউনিয়নে বয়স্ক – বিধবা পরিত্যক্ত ভাতা’ পেলেন ৪৩৪ জন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার স্বরূপ ঠাকুরগাঁও জেলার সদর উপজেলার ১২ নং সালন্দর ...

রাণীশংকৈলে পানিতে ডুবে ২ ভাইয়ের মৃত্যু

ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল উপজেলায় পুকুরে গোসল করতে গিয়ে রিফাত ও কাউসার নামে দুই ...