ব্রেকিং নিউজ
Home | আন্তর্জাতিক | আ. লীগের আলোচনার প্রস্তাব দূরভিসন্ধিমূলক

আ. লীগের আলোচনার প্রস্তাব দূরভিসন্ধিমূলক

স্টাফ রিপোর্টার, ১০ মার্চ, বিডিটুডে ২৪ডটকম : দেশের চলমান সংকট উত্তোরণে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনার কথা বলেছেন। তবে জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য এ প্রস্তাব করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র নেতারা।

তারা বলেন, একদিন আগে যিনি আলোচনার কথা নাকচ করে দিলেন, তিনিই আবার একদিন পর আলোচনার কথা বলছেন। বিষয়টি দূরভিসন্ধিমূলক। তিনি যদি বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনা চাইতেন তাহলে আনুষ্ঠানিক দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের কাছে প্রস্তাব পাঠাতেন।

সরকারের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব এলে বিএনপি তা বিবেচনা করবে বলেও জানান তারা।

দলের এক সিনিয়র নেতা দাবি করেন, ‘গত বুধবার বিএনপি নেতাদের গুলি করে আহত করা হয়েছে। আর বৃহস্পতিবার আশরাফ বলেছেন আলোচনার কথা। বিএনপি নেতাদের গুলি করে আহত করার ঘটনায় রাজনৈতিক সংকট আরো ঘনীভূত হয়েছে। এ অবস্থায় জনগণের দৃষ্টি অন্য দিকে ফেরাতে সৈয়দ আশরাফ আলোচনার কথা বলেছেন। আসলে তারা (সরকার) কখনোই বিরোধীদলের সঙ্গে আলোচনা চান না।’

এদিকে, সৈয়দ আশরাফের প্রস্তাব অনানুষ্ঠানিক হওয়ায় তা নাকচ করে দিয়েছে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটি। গত বৃহস্পতিবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয় বলে জানিয়েছে বৈঠক সূত্র।

এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির  সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া বলেন, ‘আলোচনার কথা আমরা সবসময় বলেছি। বিএনপি চেয়ারপারসনও বলেছেন তত্ত্বাবধায়ক ইস্যুতে আলোচনা হতে পারে। কিন্তু তিনি (সৈয়দ আশরাফ) তো আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনার  প্রস্তাব দেননি। কোন বিষয়ে আলোচনা হবে তাও জানাননি। আলোচনার প্রস্তাবে মূল এজেন্ডা হিসেবে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার না থাকলে কোন আলোচনাই হবে না।’

তিনি বলেন, ‘আলোচনার জন্য সুনির্দিস্ট প্রস্তাব এবং কার সঙ্গে আলোচনা হবে তা জানাতে হবে। তাহলে বিএনপি বিবেচনা করে দেখবে। সরকার যদি সত্যিই আলোচনা চাইতো তাহলে বিরোধীদলের উপর গুলি এবং সারা দেশে মানুষ হত্যার জন্য দুঃখ প্রকাশ করতো এবং এ ঘটনায় দায়ীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনতো বলে উল্লেখ করেন তিনি।’

রফিকুল ইসলাম মিয়া বলেন, ‘আলোচনার মাধ্যমে কীভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে সৃষ্ট সংকট নিরসন হয় সে বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। কিন্তু তিনি একদিন আগে বললেন কোন আলোচনা নয়, আবার একদিন পরে বললেন আলোচনার কথা, বিষয়টি দুর্বোধ্য। তাদের কোন দুরভিসন্ধি রয়েছে। এ বিষয়ের পরিষ্কার ব্যাখ্যা দাবি করেন তিনি।’

তিনি বলেন, ‘আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যা নিরসন সম্ভব। সেজন্য দু’দলকেই আন্তরিক হতে হবে।’

এর আগে বিএনপির প্রয়াত মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেন এবং  আওয়মী লীগের সদ্য প্রয়াত সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিলের মধ্যে যে সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছিল তা ফলপ্রসূ হয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে চলমান সংকট নিরসন সম্ভব। আজ হোক কাল হোক আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। আলোচনা ছাড়া সমাধান সম্ভব নয়। কিন্তু মাঝখানে জনগণ সাময়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, এটা দুঃখজনক।’

তিনি আরো বলেন, ‘ফরমাল নেগোসিয়েশন (সমঝোতা) হয় পরে। তার আগে ইনফরমাল আলোচনা হতে পারে, যেটাকে খালেদা জিয়া ‘তলে তলে ষড়যন্ত্র’ বলেন।’

এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বাংলামেইলকে বলেন, ‘এভাবে আলোচনার কথা বললে তো হবে না। যদি উনারা আলোচনা করতে চায় তাহলে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিক। এ ভাবে কথা বলে তিনি (আশরাফ) জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চাইছেন। বিরোধী দলের আন্দোলনকে স্তিমিত করতে চাইছেন। আওয়ামী লীগের কথা ও কাজে মিল নেই। ’

বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদীন ফারুক বাংলামেইলকে বলেন, ‘তিনি যে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন সেটা তার, না প্রধানমন্ত্রীর কথা আমরা জানি না। তবে আলোচনার পথ কখনো বন্ধ হয়নি বলে জানান তিনি।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপি সবসময় আলোচনা করতে প্রস্তুত। বিএনপি চেয়ারপারসন বলেছেন বিএনপি যে কোন সময় যে কোন স্থানে আলোচনায় প্রস্তুত। তবে আলোচনা হতে হবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ইস্যুতে। সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক  আলোচনার প্রস্তাব দেয়া হলে তখন বিএনপি এ বিষয়ে দলের অবস্থান জানাবে।’

x

Check Also

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সাথে পর্তুগাল আওয়ামী লীগের মতবিনিময় সভা

আনোয়ার এইচ খান ফাহিম ইউরোপীয় ব্যুরো প্রধান, পর্তুগালঃ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মোঃ শাহরিয়ার ...

বাংলাদেশ ও পর্তুগাল বর্ধিত আন্তঃ-সংসদীয় সহযোগিতায় সম্মত

আনোয়ার এইচ খান ফাহিম, ইউরোপীয় ব্যুরো প্রধান, পর্তুগাল: বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জনাব ...