ব্রেকিং নিউজ
Home | ফটো সংবাদ | আগামী সপ্তাহে আবারো টানা হরতাল!

আগামী সপ্তাহে আবারো টানা হরতাল!

18th Joteস্টাফ রিপোর্টার : নির্বাচনকালীন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে আবারো টানা হরতালের কর্মসূচি দিতে যাচ্ছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট। একই দাবিতে তিন দফায় ২০৪ ঘণ্টার হরতাল পালন করলেও চলতি সপ্তাহে হরতাল থেকে মুক্তি পায় জাতি। তবে চলমান রাজনৈতিক সঙ্কট নিরসনে মঙ্গলবার বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতিকে দেয়া খালেদা জিয়ার লিখিত প্রস্তাব অনুযায়ী শনিবারের মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর উদ্যোগ নেয়া না হলে আগামী সপ্তাহে আবারো টানা হরতালের কবলে পড়তে যাচ্ছে দেশ!

দিনক্ষণ পুরোপুরি চূড়ান্ত না হলেও আগামী রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দেশব্যাপী টানা পাঁচ দিনের হরতালের কথা ভাবছে প্রধান বিরোধী জোট। তবে পাঁচ দিনের পরিবর্তে টানা তিন দিনের হরতালের কর্মসূচিও আসতে পারে। আর শনিবারের মধ্যে সংলাপের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হলে সেক্ষেত্রে চলতি সপ্তাহের মতো আগামী সপ্তাহেও হরতালের কবল থেকে মুক্তি পেতে পারে দেশ। বিএনপি ও ১৮ দলের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

‘গত ২৫ অক্টোবর থেকে সরকার অবৈধ এবং ২৭ অক্টোবর থেকে সরকার সম্পূর্ণ অবৈধ’ বলে দাবি করে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে গত ২৭ থেকে ২৯ অক্টোবর টানা ৬০ ঘণ্টা, ৪ থেকে ৬ নভেম্বর আবারো টানা ৬০ ঘণ্টা এবং সর্বশেষ গত ১০ থেকে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত দেশব্যাপী টানা ৮৪ ঘণ্টাসহ তিন দফায় মোট ২০৪ ঘণ্টার হরতাল পালন করে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দল।

এদিকে চলমান রাজনৈতিক সঙ্কট নিরসনের লক্ষ্যে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সঙ্গে ১৮ দলীয় জোটনেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন ২০ সদস্যের প্রতিনিধি দল বৈঠক করে। বৈঠকে অবিলম্বে সংঘাত, হানাহানি ও হিংস্রতার পথ পরিহার করে নির্দলীয় সরকারের অধীনে সকল দলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে সরকার যাতে সমঝোতার পথে অগ্রসর হয় সে ব্যাপারে উদ্যোগ নিতে রাষ্ট্রপতিকে অনুরোধ জানান বেগম খালেদা জিয়া।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রতিনিধি দলের এক সদস্য   বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠকে সকল দলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে সরকার যাতে সংলাপের মাধ্যমে সমঝোতার পথে অগ্রসর হয় সে ব্যাপারে আমরা তাকে উদ্যোগ নেয়ার অনুরোধ জানিয়েছি। আর এজন্য ১৮ দল আগামী শনিবার পর্যন্ত অপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে এই সময়ের মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে সংলাপের মাধ্যমে সমঝোতার উদ্যোগ না নেয়া হলে আন্দোলনের কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা ছাড়া আমাদের সামনে আর কোনো বিকল্প পথ থাকবে না।’

এদিকে গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সাথে বৈঠক শেষে রাতে খালেদা জিয়া তার গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিএনপি এবং জোটের সিনিয়র নেতাদের সাথে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জামায়াতে ইসলামীর সিনিয়র নায়েবে আমির অধ্যাপক এ কে এম নজির আহমদ, এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুল লতিফ নেজামী, খেলাফত মজলিশের আমির মাওলানা মুহাম্মদ ইসহাক, জাগপার সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতীক, এনপিপির চেয়ারম্যান শেখ শওকত হোসেন নিলু, বাংলাদেশ ন্যাপ চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গাণি, এনডিপির চেয়ারম্যান খোন্দকার গোলাম মোর্ত্তুজা, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্রি. জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহ, মির্জা আব্বাস, ড. আব্দুল মঈন খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. ওসমান ফারুক প্রমুখ।

বৈঠকে উপস্থিত ১৮ দলীয় জোটের একজন নেতা   জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠকে চলমান রাজনৈতিক সঙ্কট নিরসনে তার (আবদুল হামিদ) কাছে দেয়া খালেদা জিয়ার লিখিত প্রস্তাবের ব্যাপারে আগামী শনিবারের মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর উদ্যোগ না নেয়া হলে আগামী সপ্তাহে আবারো টানা হরতালের কর্মসূচি দেয়ার ব্যাপারে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছে। আর এ হরতালের পরিধি টানা তিন থেকে পাঁচ দিনের হতে পারে।

তিনি আরো জানান, ১৮ দল চূড়ান্ত আন্দোলনে চলে গেলে সেক্ষেত্রে আন্দোলন প্রতিহত করতে সরকারও হার্ডলাইনে চলে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গ্রেফতার এড়িয়ে আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি নির্ধারণ করতে ১৮ দলের সকল নেতার পক্ষে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে একত্রিত হওয়া সম্ভব নাও হতে পারে। তাই যেকোনো পরিস্থিতিতে আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি চূড়ান্ত করার ব্যাপারটি জোটনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ওপর ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

১৮ দল সূত্র জানায়, দেশব্যাপী টানা ৮৪ ঘণ্টার হরতাল শেষে আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি নির্ধারণ করতে গত সপ্তাহে ১৮ দলীয় জোটের বৈঠক ডাকতে চেয়েছিলেন জোটনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। কিন্তু ওই সময় সরকার হার্ডলাইনে থাকায় গ্রেফতার আতঙ্কে ১৮ দলের অনেকেই সে বৈঠকে উপস্থিত হতে অপারগতা প্রকাশ করেন। ফলে ওই সময় ১৮ দলের বৈঠক আর অনুষ্ঠিত হয়নি। তবে কর্মসূচি নির্ধারণে নেতাদের মধ্যে টেলিফোনে যোগাযোগ অব্যাহত ছিল।

এদিকে বিএনপি ও ১৮ দল সূত্র জানায়, তিন দিনের সফরে চলতি সপ্তাহের শনিবার দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই বিসওয়াল বাংলাদেশ সফরে আসায় শনি, রবি ও সোমবার হরতাল দেয়নি ১৮ দল। সোমবার বিসওয়াল চলে গেলেও চলমান রাজনৈতিক সঙ্কট নিরসনে বিএনপির আবেদনের প্রেক্ষিতে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের ২০ সদস্যের প্রতিনিধি দলকে মঙ্গলবার বঙ্গভবনে আমন্ত্রণ জানান রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। ফলে মঙ্গলবার হরতাল দেয়ার চিন্তা থেকে সরে আসে ১৮ দল।

আর বুধবার বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৪৯তম জন্মদিন এবং বৃহস্পতিবার সশস্ত্রবাহিনী দিবস থাকায় এই দুইদিনও হরতাল দেয়নি বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট। ফলে চলতি সপ্তাহে হরতালের কবল থেকে মুক্তি পায় দেশ।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

সংঘর্ষের ঘটনায় ভোলায় থমথমে অবস্থা

স্টাফ রির্পোটার :  ভোলার বোরহানউদ্দিনে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের এক যুবকের ...

ইরানি জনগণ প্রতিরোধের মাধ্যমে সব ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দিচ্ছে:রুহানি

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক :  ইরানের বিরুদ্ধে শত্রুদের যকোন ধরনের ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় প্রতিরোধ গড়ে তোলা ...