ব্রেকিং নিউজ
Home | আন্তর্জাতিক | অস্ট্রেলিয়ার রাজপথে হাজার হাজার শিক্ষার্থী

অস্ট্রেলিয়ার রাজপথে হাজার হাজার শিক্ষার্থী

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : স্কুলের ক্লাস বর্জন করে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বড়সড় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবিতে অস্ট্রেলিয়ার রাজপথে নেমে এসেছে দেশটির হাজার হাজার শিক্ষার্থী। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় অস্ট্রেলিয়া সরকারের ভূমিকা পর্যাপ্ত নয় বলে দাবি করছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

গত সোমবার স্কুল চলাকালীন সময়ে আন্দোলন পরিকল্পনার তিরস্কার করেছিলেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন। তিনি জোর দিয়ে বলেছিলেন, তার সরকার জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় কাজ করছে।

অনেক শিক্ষার্থী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য তাদের আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করেছে।

১৭ বছর বয়সী আন্দোলনকারী জাগভির সিং বিবিসিকে বলেন, ‘রাজনীতিবিদদের আজকের নেওয়া সিদ্ধান্তের কারণে ভবিষ্যতে আমাদের এর করুণ পরিণতি ভুগতে হবে।’

আয়োজকরা বলছেন, তারা সুইডেনের ১৫ বছর বয়সী কিশোরী গ্রেটা থুনবার্গের আন্দোলনে উদ্বুদ্ধ হয়ে এই আন্দোলনে নেমেছেন। থুনবার্গও সুইডেনে একই ধরনের আন্দোলন করছেন।

প্যারিস জলবায়ু চুক্তি অনুযায়ী ২০০৫ অস্ট্রেলিয়া অঙ্গীকার করেছিল, তারা ২০৩০ সালের মধ্যে কার্বন নির্গমন ২৬ থেকে ৩০ শতাংশ কমিয়ে নিয়ে আসবে।

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় অস্ট্রেলিয়ার সরকারের পদক্ষেপের অংশ হিসেবে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পরিছন্ন বিদ্যুৎ ক্রয় তহবিল এবং একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কথা পার্লামেন্টে জানান প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন। সোমবার পার্লামেন্টে তিনি বলেন, ‘আমরা স্কুলগুলোতে বেশি করে পড়াশুনা চাই, আন্দোলন নয়।’

গত সপ্তাহে জাতিসংঘ বলেছে, অস্ট্রেলিয়াসহ অনেক দেশ তাদের কার্বন নির্গমন প্রতিশ্রুতি থেকে ছিটকে পড়েছে।

নির্গমন ঘাটতি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর থেকে জলবায়ু নীতিতে অস্ট্রেলিয়ার কোনো অগ্রগতি নেই।

‘স্কুল স্ট্রাইক ফোর ক্লাইমেট অ্যাকশন’ নামে এই আন্দোলন অস্ট্রেলিয়ার প্রতিটি প্রদেশের রাজধানীসহ দেশটির ২০টি আঞ্চলিক শহরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

কেন তারা এই আন্দোলনে অংশ নিচ্ছে- এ বিষয়ে বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীর বক্তব্য জানার চেষ্টা করেছে বিবিসি।

এই আন্দোলনের সূচনা করেন ভিক্টোরিয়া প্রদেশের ১৪ বছর বয়সী দুই শিক্ষার্থী মিলো আলব্রেকট ও হ্যারিয়েত ও’শিয়া ক্যারে।

হ্যারিয়েত বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের জরুরি অবস্থা নিয়ে আমরা দীর্ঘদিন ধরেই চিন্তাভাবনা করছি। আমরা চিঠি লিখেছি এবং আরও অনেক কিছু করেছি। কিন্তু তাতে কোনো ফল দেয়নি। সত্যিই শিক্ষাই আমাদের শক্তি। শুক্রবারের পাঠকক্ষ ত্যাগ করে আমরা বিশাল কিছু করছি।’

মিলো বলেন, ‘আমরা চাই সরকার প্রকাশ্যে স্বীকার করুক জলবায়ু পরিবর্তন বিশাল সংকট। কয়লা খনন বন্ধ হোক, নতুন কয়লা খনি আর চালু করে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে অগ্রসর হতে হবে।’

সিডনির ১৪ বছর বয়সী শিক্ষার্থী জিন হিঞ্চক্লিফি ভিক্টোরিয়া শহরে এই আন্দোলন দীর্ঘতর হতে দেখে নিজের শহরেও এই আন্দোলন শুরু করার চিন্তাভাবনা করছেন।

জিন হিঞ্চক্লিফে বলেন, ‘আমি বসে থাকতে পারি না। ভোট দেওয়ার জন্য আমার যথেষ্ট বয়স হয়েছে। এখানেই সবাই তরুণ। আমরা জলবায়ু পরিবর্তনকে একটি বড় ইস্যু হিসেবে দেখছি। এই ব্যাপারে রাজনীতিবিদদের নিষ্ক্রিয়তা দেখে আমরা পুরোপুরি হতাশ।’

সমুদ্রে পানির উচ্চতা বৃদ্ধি ও ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগের কথা উল্লেখ করে জিন হিঞ্চক্লিফে বলেন, ‘এটা আমাদের জন্য খুবই উদ্বেগের। ভবিষ্যতে এর প্রভাব নিয়ে আমরা শঙ্কিত।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

মদনে সিএনজি অটো রিক্সা শ্রমিক ইউনিয়নের কমিটি গঠন

সুদর্শন আচার্য্য, মদন (নেত্রকোণা) ঃ নেত্রকোণা মদন উপজেলায় মিশুক, সিএনজি, অটো রিক্সা ...

মদনে হানাদারমুক্ত দিবস পালিত

সুদর্শন আচার্য্য, মদন (নেত্রকোণা)ঃ নেত্রকোণা মদনে উপজেলা প্রশাসন ও মুক্তিযুদ্ধ সংসদ কমান্ডের ...