Home | বিবিধ | পরিবেশ | বাগেরহাটে ভেঙে পড়েছে সেতু, ভোগান্তিতে ৮ গ্রামের মানুষ

বাগেরহাটে ভেঙে পড়েছে সেতু, ভোগান্তিতে ৮ গ্রামের মানুষ

বাগেরহাট প্রতিনিধি : বাগেরহাট জেলা সদরের ষাটগুম্বুজ ইউনিয়নের সায়েড়া-লক্ষীখালী সেতুটি ভেঙ্গে পড়েছে একমাস আগে। লক্ষীখালী নদীর উপর নির্মিত এলজিইডি’র এই সেতুটি ভেঙ্গে পড়ায় দূর্ভোগে পড়েছেন পূর্ব সায়েড়া, পশ্চিম সাড়েয়া, চাকশ্রী, দয়লা, গিলাতলা, আলীপুর, কাশীপুর ও গোবিন্দপুর এই ৮টি গ্রামের প্রায় ২৫ হাজার মানুষ। নদী পারাপারের বিকল্প কোন ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়ে জীবন ঝুঁকি নিয়ে ভাঙ্গা সেতুর উপর দিয়ে পারাপার হচ্ছেন তারা। ঝুঁকি নিয়ে ভাঙ্গা সেতু পার হতে গিয়ে প্রায়ই প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ পথচারীরা দূর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। কয়েকদিন আগে ভাঙ্গা সেতু থেকে পড়ে গুরুতর আহত হয় পূর্ব সায়েড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেনীর ছাত্র তামিম শেখ।

সরেজমিন ঘুরে জানা যায়, ভাঙ্গা সেতুটির দু’পাশে রয়েছে পূর্ব সায়েড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সায়েড়া মধুদিয়া স্কুল এন্ড কলেজ ও ধোপাবাড়ী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, চাকশ্রী মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও আল মদিনা কিন্ডারগার্টেনের মত কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। কয়েক হাজার শিক্ষার্থী প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ওই ভাঙ্গা সেতু পার হয়ে শিক্ষা প্রতিষ্টানে যাতায়াত করে। এই ৮টি গ্রামের অধিকাংশ মানুষ মৎস্য চাষের উপর নির্ভরশীল। আগে তারা এই সেতুটি ব্যবহার করে সদর উপজেলার বারাকপুর, রামপাল উপজেলার চাকশ্রী বাজার ও ফকিরহাট উপজেলার ফলতিতা বাজারে মাছ বেচাকেনার জন্য সহজে যাতায়াত করতো। সেতুটি ভেঙ্গে যাওয়ার পর থেকে তাদের এখন ১০ কিলোমিটার ঘুরে এসব বাজারে যেতে হচ্ছে।

ভাঙ্গা সেতু পার হতে গিয়ে গুরুতর আহত স্কুল ছাত্র তামিম শেখের মা তাসলিমা বেগম বলেন, আমার ছেলেটি পূর্ব সায়েড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেনীর ছাত্র। কয়েক দিন আগে স্কুলে যাবার পথে ভাঙ্গা সেতু পার হতে গিয়ে সে নদীতে পড়ে যায়। এসময় ভাঙ্গা সেতুর রডে তার পায়ের বেশ খানিকটা অংশ কেটে যায় এবং সে মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। হাসপাতালে নেয়া হলে তার ৭টি সেলাই দিতে হয়েছে।

পূর্ব সায়েড়া গ্রামের ব্রাক কর্মী আকলিমা বেগম বলেন, কাজের ক্ষেত্রে প্রতিদিন এ সেতুটি দিয়ে আমাকে পশ্চিম সায়েড়া গ্রামে যেতে হয়। সেতুটি ভেঙ্গে যাওয়ার পর থেকে বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমাকে নদী পার হতে হচ্ছে।

স্থানীয় মৎস্য চাষী সিদ্দিক আলী শেখ বলেন, আগে আমরা ঘের থেকে মাছ ধরে প্রতিদিন এ সেতু পার হয়ে নসিমন বা মিনি ট্রাক নিয়ে চাকশ্রীসহ বিভিন্ন বাজারে যেতাম। এখন সেতুটি ভেঙ্গে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে প্রায় ১০ কিলোমিটার ঘুরে মাছ নিয়ে আমাদের বিভিন্ন বাজারে যেতে হচ্ছে। যার ফলে আমাদের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি অতিরিক্ত সময় লাগছে।

বাগেরহাট এলজিইডি’র কর্মকর্তারা বলছেন, ভেঙ্গে পড়া সেতুটি নতুন করে নির্মাণ করতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন শেষে অর্থ বরাদ্দ হলেই টেন্ডার আহবান করে জনগুরুত্বপূর্ন এই সেতুটি নিমাণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

মনোনয়ন তালিকা প্রায় চূড়ান্ত : কাদের

স্টাফ রির্পোটার : আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল ...

পাবনা জুড়ে ডাকাত আতঙ্ক

পাবনা প্রতিনিধি : পাবনায় একের পর এক ডাকাতির ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন ...