ব্রেকিং নিউজ
Home | শিক্ষা |  ত্রিমুখী সংঘর্ষে ইবি রণক্ষেত্র

 ত্রিমুখী সংঘর্ষে ইবি রণক্ষেত্র

Islami University kustia

স্টাফ রিপোর্টার: (ঢাকা, ০৭ সেপ্টেম্বর)- বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসের সিটে বসাকে কেন্দ্র করে শনিবার কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল-ছাত্রলীগ এবং পরে শিবিরের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় ছাত্রলীগকে ক্যম্পাস থেকে বিতাড়িত করে শিবির-ছাত্রদল।

 

সংঘর্ষ চলাকালে গুলি, ককেটেল বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এতে উভয় দলের ৩০ নেতাকর্মী আহত হয়। এদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর। আহতদের ইবি মেডিক্যাল সেন্টারে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়।

শনিবারের সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাস এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রসাশন পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে দফায় দফায় মিটিং চালিয়ে যাচ্ছে।

 

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শনিবার ২য় শিফটে ঝিনাইদহ থেকে ছেড়ে আসা ক্যাম্পাস অভিমুখে একটি বাসে ইবি ছাত্রলীগ নেতা রাসেল জোর্য়াদ্দারের ছোট ভাই বসতে চাইলে তাকে বহিরাগত বলে ছাত্রদলের সোহাগ ও রনি বসতে বাধা দেয়। রাসেলের ভাই রুবেলের সঙ্গে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে সোহাগ ও রনি তাকে কিল-ঘুষি মারে। পরে বাসটি ক্যাম্পাসের ভেতর প্রবেশ করলে রাসেল ক্ষিপ্ত হয়ে রনি ও সোহাগকে ধাওয়া দেয়। এ খবর উভয় দলের নেতাকর্মীদের কানে পৌছালে তারা লাঠি-শোটা এবং দেশীয় অস্ত্রসহ স্ব স্ব দলীয় টেন্টে অবস্থান নেয়। প্রায় ঘন্টা খানিক উভয় দলের মধ্যে উত্তেজনা চলে।

 

প্রক্টরিয়াল বডি এবং ছাত্র-উপদেষ্টা অনেক চেষ্টা করেও উত্তেজনা নিষ্পত্তি করতে ব্যর্থ হয়।

ঘটনার এক পর্যায়ে ছাত্রদলকে ধাওয়া দিয়ে আবাসিক হল এলাকায় পৌচ্ছে দেয় ছাত্রলীগ। ধাওয়া খেয়ে ছাত্রদল বহিরাগত এবং অস্ত্র সস্ত্র নিয়ে তাদের শক্তি সঞ্চার করে ছাত্রলীগের টেন্টের দিকে অতর্কিত হামলা চালায়।

 

এ সময় ছাত্রলীগের কয়েক নেতাকর্মী আহত হয়। পরে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা জড়ো হয়ে ছাত্রদলের ওপর হামলা করলে ছাত্রদল কৌশলে আগে থেকে আবাসিক এলাকায় অবস্থান নেওয়া শিবিরের দলের মধ্যে ঢুকে পরে। এ সময় শিবিরের সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হয় ছাত্রলীগ ও পুলিশের। পরে শিবির ছাত্রদল এক হয়ে ছাত্রলীগকে প্রশাসনিক ভবনের ভেতর দিয়ে ক্যাস্পাস থেকে বের করে দেয়। কয়েক দফা চেষ্টা করেও ছাত্রলীগ আর ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারেনি। এমনকি ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরেও মিছিল করার কথা থাকলেও তা হয়নি।

 

শনিবারের ঘটনায় তিন দলের ৩০ নেতাকর্মী আহত হয়। আহতরা হলেন ছাত্রলীগের জিয়া (ইবি কর্মচারী) রাসেল, জনি, শাহীন, হালিম, জহুরুল, সাব্বির এবং ছাত্রদলের সিরাজুল, খায়ের, রনি, সোহাগ, সাহেদ ও শিবিরের মঈন, সাদ্দাম, মামুন, লুৎফর প্রমূখ।

এদের মধ্যে শাহীন নামের এক ছাত্রলীগ কর্মীর অবস্থার গুরুতর।

সংঘর্ষের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইবি ক্যাম্পাসে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোনও সময় আরও বড় সংঘর্ষ ঘটতে পারে বলে জানা গেছে।

 

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ইবি প্রক্টরিয়াল বডি ও ছাত্র-উপদেষ্টা কুষ্টিয়া পুলিশ প্রশাসনের সহযোগীতা কামনা করেছেন। সম্ভাব্য সংঘর্ষ এড়াতে ক্যাম্পাস এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতয়েন করা হয়েছে।

শনিবারের ঘটনা বিষয়ে ছাত্রলীগের আহবায়ক শামিম খান বলেন-শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট  করতেই শিবির-ছাত্রদল পরিকল্পিতভাবে আমাদের ওপর হামলা করেছে। আমরা এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

 

এ বিষয়ে ইবি ছাত্রদলের সভাপতি ওমর ফারুক বলেন- গত কয়েকদিন ধরে আমরা আমাদের দলীয় টেন্টে নিয়মিত বসতে শুরু করেছি। কিন্তু ছাত্রলীগ আমাদের ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে দিবে না বলে আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে।

 

ইবি শাখা শিবিরের সেক্রেটারি আসাদউল্লাহ বলেন- ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া মূলত ছাত্রদল আর ছাত্রলীগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। পুলিশ আর ছাত্রলীগ যখন আমাদের ওপর গুলি চালিয়েছিল তখন আমাদের কিছু নেতাকর্মী ছোটাছুটি করেছে মাত্র।

 

বিষয়টি জানতে চাইলে ইবি ভিসি অধ্যাপক ড. আব্দুল হাকিম সরকার বলেন-ক্যাম্পাস পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কয়েকদিন আগে আমরা বিশ্ববিবিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে সকল প্রকার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করেছি। কিন্তু বাহিরের একটি তুচ্ছ বিষয় নিয়ে যারা এতবড় একটি ঘটনা তৈরি করলো আমরা তাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের বিদ্যালয় গুলোতে শহীদ মিনার নেই

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের বিভিন্ন সরকারী,বেসরকারী ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে তৈরি কিন্টারগার্ডেন,স্কুল,মাদ্রসা ...

সেবার জন্য ‘৯৯৯’ নম্বর ব্যবহারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করলেন জয়

স্টাফ রিপোর্টার : ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি পুলিশি সেবার জন্য ‘৯৯৯’ ...