ব্রেকিং নিউজ
Home | সারা দেশ | ‘‘আসলে মনে হয়েছিল সরকারি গণিমতের মাল’’ থানছিতে এলজিএসপি’র ২৪ প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে অর্ধকোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগ

‘‘আসলে মনে হয়েছিল সরকারি গণিমতের মাল’’ থানছিতে এলজিএসপি’র ২৪ প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে অর্ধকোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগ

 bandarban mapচাইথোয়াই মারমা, বান্দরবান থেকে ফিরে : ‘‘আসলে ওরা মনে করেছেন এসব টাকা সরকারি গনিমতের মাল তো, আগের দুইবছরও এভাবে লুটপাট হয়েছে সরকারি বিপুল টাকার, কিন্তু কোন জবাব দিতে হয়নি কারও কাছে,এবারও তাই করা হয়’। গত অর্থবছরে সেকেন্ড লোকাল গর্ভমেন্ট সাপোর্ট প্রজেক্ট (এলজিএসপি-২) কার্যক্রমের আওতায় থানছি উপজেলার ৪ ইউনিয়নে বরাদ্দকৃত প্রায় অর্ধকোটি টাকা কোন রকমের চিন্তাছাড়াই মুখস্ত প্রকল্প বাস্তবায়ন দেখিয়ে সরাসরি আত্মসাৎ করা হয়েছে। এসব অভিযোগ স্থানীয় নাগরিক এবং স্থানীয় নেতাদের।
বান্দরবান জেলার দুর্গম থানছি উপজেলার ৪ ইউনিয়নের ২৪টি উন্নয়ন প্রকল্পে কোন কাজ না করেই লুটপাট করা হয়েছে এল জি এস পি‘র প্রায় অর্ধকোটি টাকা। জেলা-উপজেলা প্রশাসনের কাছে জবাবদিহি ব্যবস্থা না থাকায় এবং পুরো জেলায় একমাত্র জেলা ফ্যাসিলেটরকে (ডিএফ) ম্যানেজ করেই এসব অর্থ লুটপাট করা হয় বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সমাজনেতা এবং সচেতন নাগরিকদের পক্ষ থেকে। জেলার অপর ৬টি উপজেলার অবশিষ্ট ২৭টি ইউনিয়নেও নামে মাত্র কাজ করে একইভাবে এলজিএসপি কার্যক্রমের আওতায় সরকারের বরাদ্দকৃত বিপুল অর্থ ভাগাভাগি করে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনায় খোদ দুদুক ও সরকারি মহলে তোলপাড় ৃসষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে  জানা যায়, গত অর্থবছর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় বান্দরাবন জেলার দুর্গম থানছি উপজেলার তিন্দু, রেমাক্রি, বলিপাড়া ও থানছি সদর ইউয়িনে ২৪টি এলজিএসপি-২ প্রকল্পের অনুকুলে দুই দফায় প্রায় ৪৫ লাখ টাকা বরাদ্দ করে। তিন্দু ইউনিয়নের ৯টি প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্যে ১৮ লাখ টাকা, থানছি সদর ইউনিয়নের ৬টি প্রকল্পের জন্যে ৯ লাখ টাকা, রেমাক্রি ইউনিয়নের ৬টি প্রকল্পের জন্যে ৮ লাখ টাকা এবং বলিপাড়া ইউনিয়নের ৩টি প্রকল্পের জন্যে বরাদ্দকৃত অর্থের পরিমাণ প্রায় ৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা। কিন্তু ইউপি চেয়ারম্যানরা কর্তৃপক্ষীয় নির্দেশনা ও নীতিমালা অনুসরণ না করে দুই একটি নামে মাত্র এবং লোক দেখানোর প্রকল্প বাস্তবায়ন করে অধিকাংশ অর্থ হরিলুট করা হয়েছে। এই পকল্পের গত ২০১১-১২ অর্থ বছরের  প্রকল্পগুলোর কোন অস্তিত্ব নেই মাঠ পর্যায়ে। থানছি উপজেলার দায়িত্বশীল জনপ্রতিনিধি,সমাজনেতা উবামং মারমা অভিযোগ তুলেছেন, পাহাড়ের সহজ-সরল আদিবাসীদের উন্নয়ন ও কল্যাণে শিক্ষা, গ্রামীণ উন্নয়নসহ বিভিন্ন জরুরি ক্ষুদ্র প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরকার থেকে  গত অর্থবছর দুই কিস্তিতে ওইসব অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছিল এ ৪টি ইউনিয়নে এলজিএসপির কার্যক্রমের আওতায়। কিন্তু তিন্দু ই্উপি চেয়ারম্যার সিগরাম ত্রিপুরা, রেমাক্রি ইউপি চেয়ারম্যান মালিরাম ত্রিপুরা, বলিপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান বাশৈচিং মারমা এবং থানছি ইউপি চেয়ারম্যান মানছার ম্রো তাদের ইউপি সচিব ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সংশ্লিষ্ট সদস্যদের যোগসাজশে এবং এলজিএসপি কার্যক্রমের জেলা ফ্যাসিলেটর উজ্জ্বল বিকাশ ত্রিপুরার সহায়তায় ২৪টি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন দেখিয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের (এলজিএসপি) বরাদ্দ দেয়া প্রায় ৪৫ লাখ টাকা লুটপাট করেছে।
এ ইউনিয়নে এলজিএসপি প্রকল্প বাস্তবানের নামে লুটপাট ও সীমাহীন দুর্নীতির আশ্রয় নেয়ার খন্ড চিত্র ঃ এলজিএসপি-২ এর গৃহিত ৯টি প্রকল্পের বিপরীতে বরাদ্দ দেখানো হয় ১৮ লাখ টাকা। শিক্ষা,কৃষি, পানি সরবরাহ আর যোগাযোগ সুবিধার্থে তিন্দু বাজার সংলগ্ন মাউক ঝিরিতে কাঠের সেতু নির্মাণ প্রকল্পে ২লাখ টাকা,পাউপাড়ায় দুইকক্ষ বিশিষ্ট একটি স্কুল নির্মাণে ২লাখ টাকা ও তিন্দু মার্সিম হোম হোষ্টেল মাঠ সংস্কার নামে ১লাখ ১৪হাজার ৭৬২টাকা। বাস্তবে এসব প্রকল্পের কোন অস্তিত্ব নেই এলাকায়।  তিন্দু ইউপি চেয়ারম্যান সিগরাম ত্রিপুরা এসব অর্থ আত্মসাৎ করে।
প্রকল্প নীতিমালা অমান্য করে তিন্দু ইউপি সচিব লিটন দাশ ও এলজিএসপি প্রকল্পের জেলা ফ্যাসিলিটের উজ্জল বিকাশ ত্রিপুরা সরেজমিন প্রকল্প না দেখেই ইউপি চেয়ারম্যানকে প্রকল্প অর্থ আত্মসাতে সহায়তা করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন তিন্দু মৌজা হেডম্যান প্রেনথান খুমি।
মিডিয়াকর্মীরা সরেজমিনে গেলে স্থানীয় সচেতন ব্যক্তি উসাচিং মারমা,সাবেক তিন্দু মৌজা প্রধান মাংলুং হেডম্যান, ক্রানিং মারমা ও গ্রামবাসী উক্যচিং মারমা অভিযোগ করেন,এলজিএসপি প্রকল্পের সব অর্থ আত্মসাত করে আত্মগোপনে রয়েছেন তিন্দু ইউপি চেয়াম্যান। নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে গত তিন বছর ধরে সাধারণ মানুষের সাথে নিজেকে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে রেখেছেন তিনি। তিন্দু বাজার থেকে প্রায় ৪কিলোমিটার দূরে আলীকদম উপজেলার সীমান্তের এপারে রংরাংডং পাহাড়ের পাদদেশে গহীণ অরণ্যে কোঅং খুমি পাড়ায় আত্মগোপনে থাকেন তিনি প্রায় সময়ই।
ইউপি সদস্যা নুহয় খুমি বলেন, নির্বাচিত হবার পর থেকে এপর্যন্ত কোন ধরনের সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে দেখিনি। আমি লেখাপড়া জানিনা।বিভিন্ন সময়ে আমার সই-স্বাক্ষর নেয়া হয়। আমার স্বাক্ষরে কি করা হয়েছে আমি জানিনা। ইউপি সচিব লিটন দাশ বলেন, এলজিএসপি প্রকল্পের নীতিমালার সম্পর্কে আমার জানা নেই। ব্যাংক একাউন্ট থেকে প্রকল্পের টাকা উত্তোলনের  জন্য চেয়ারম্যান যখনই সই-স্বাক্ষর দিতে বলেন তখনই সই দিই।
তিন্দু ইউপি চেয়ারম্যান সিগরাম ত্রিপুরা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বর্ষার কারণে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করা হয়নি। আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের পরে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করা হবে। গত ৩০জুনে প্রকল্পের ১৬লাখ টাকা ব্যাংক থেকে উত্তোলন করে নেয়ার কথা তিনি স্বীকার করেন।
এলজিএসপি প্রকল্পের জেলা ফ্যাসিলিটেটর (ডিএফ) উজ্জল বিকাশ ত্রিপুরা তার বিরুদ্ধে আনা দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করেন।
রাংগামাটিস্থ দুদুক উপ-পরিচালক সৈয়দ মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ  বলেন, থানছিসহ যেকোন এলাকার দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ পেলেই তদন্ত পুর্বক দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নিতে দুদক প্রস্তু রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

গাইবান্ধায় মীরের বাগানে শুরু হয়েছে মাসব্যাপী বৈশাখী মেলা

সুমন কুমার বর্মন, গাইবান্ধা প্রতিনিধি : গাইবান্ধার সদর উপজেলার ঘাগোয়া ইউনিয়নের কিংবদন্তি ...

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্তমান সরকারের অধিনেই হবে : হানিফ

কুদরতে খোদা সবুজ, কুষ্টিয়া : আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান ...