ব্রেকিং নিউজ
Home | সারা দেশ | ২২ বছরেরও শেষ হয়নি জমি অধিগ্রহণ পর্ব : বিমানবন্দরের দীর্ঘ অপেক্ষায় বাগেরহাটবাসি

২২ বছরেরও শেষ হয়নি জমি অধিগ্রহণ পর্ব : বিমানবন্দরের দীর্ঘ অপেক্ষায় বাগেরহাটবাসি

সুমন কর্মকার  : পরিকল্পনায় ছিল ২০১৮ সালের জুন মাস নাগাদ বাগেরহাটের খানজাহান আলী বিমানবন্দরের কাজ শেষ হবে। কিন্তু এখনো এর কাজই শুরু হয়নি। দ্বিতীয় পর্যায়ে জমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের টাকা এখনো বিতরণ করা হয়নি। যে কারণে বিমানবন্দরের মূল কাজ এখনো শুরু করা যায়নি। অবশ্য উদ্যোগ নেওয়ার ৫৪ বছর পর ২০১৫ সালের ৪ মে খুলনায় বিমানবন্দর নির্মাণসংক্রান্ত প্রকল্পটি চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। বরাদ্দ দেওয়া হয় ৫৪৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। তখন বিমানবন্দর নির্মাণকাজ ২০১৮ সালের জুন নাগাদ শেষ হবে বলে পরিকল্পনা করা হয়। কিন্তু বিমানবন্দরের নির্মাণকাজ এখনো শুরুই হয়নি।
১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বাগেরহাটের রামপাল উপজেলাধীন খুলনা-মোংলা মহাসড়কের পাশে বিমানবন্দরের নির্মাণ শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। খানজাহান আলী বিমানবন্দর নামে এটি একটি ‘শর্ট টেক অব অ্যান্ড ল্যান্ডিং বন্দর’ হিসেবে চালু করার জন্য ৪১ দশমিক ৩০ হেক্টর জমি অধিগ্রহণ ও উন্নয়নের পর কাজ বন্ধ হয়ে যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এ প্রকল্পের জন্য ৫৩৬ একর জমি অধিগ্রহণের লক্ষ্যে প্রশাসনিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। জমির মূল্য ৩১৮ কোটি টাকার মধ্যে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৪৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। পরে এই বিমানবন্দরটি পিপিপির ভিত্তিতে বাস্তবায়িত হবে বলে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়। পিপিপির অধীনের প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট ফি বা চার্জ পাবে।
এ বিষয়ে, খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ন চন্দ্র চন্দ এ প্রতিবেদককে বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়নের ব্যাপারে খুবই আন্তরিক। আগেরবার আওয়ামী লীগের সরকার প্রস্তাবিত বিমানবন্দর এলাকার মাটি ভরাটের কাজ করেছিল কিন্তু বিএনপি-জামায়াতের জোট সরকার সেই কার্যক্রমকে এগিয়ে নেয়নি, কাজটি বন্ধ করে দিয়েছিল। বর্তমান সরকার বিমানবন্দর প্রকল্প বাস্তবায়নে খুবই আন্তরিক। এ সরকারের মেয়াদকালের মধ্যেই এখানে বিমান ওঠানামা করবে। বিমানবন্দর হলে এই অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের একটি দাবি পূরিত হবে। মোংলা বন্দর, ইপিজেড, চিংড়িশিল্প ও রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রকে ঘিরে খুলনা, বাগেরহাটসহ দক্ষিণাঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণের দ্রুত যোগাযোগ নেটওয়ার্ক গড়ে উঠবে।
এ বিষয়ে, বাগেরহাট-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রতিমন্ত্রী খুলনা মহানগর শাখার আওয়ামী লীগ সভাপতি তালুকদার আব্দুল খালেক এ প্রতিবেদককে বলেন, অধিগ্রহণের জন্যে জমি নির্বাচনের পর জমির মালিকদের অনেকেই লাভের আশায় স্থাপনা গড়ে তোলেন, তাঁরা সেই অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ না পাওয়ায় জমি অধিগ্রহণে জটিলতা সৃষ্টি হয়। সমস্যাটি হচ্ছে জরিপের সময় জমির প্রকৃতি ও স্থাপনার ধরন দেখেই ক্ষতিপূরণের টাকা নির্দিষ্ট ও বরাদ্দ হয়। পরে তা পরিবর্তন করা খুবই দুঃসাধ্য।
জমি অধিগ্রহণ সম্পর্কে জানতে চাইলে বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মামুন-উল হাসান এ প্রতিবেদককে বলেন, বিমানবন্দর নির্মাণের জন্য আগে যে পরিমাণ জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল তা প্রয়োজনের তুলনায় কম হওয়ায় অতিরিক্ত জমি অধিগ্রহণ করতে হয়। এই জমির ক্ষতিপূরণের টাকা প্রদান করা নিয়ে আমরা সমস্যায় পড়ি। ভূমি মন্ত্রণালয় টাকার অনুমোদন দিয়েছে এখন দ্রুতই এর সমাধান হবে।
প্রসঙ্গত, ১৯৬১ সালে খুলনায় প্রথমবারের মতো বিমানবন্দর তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ জন্য খুলনার ফুলতলা থানাধীন মশিয়ালিতে জমি অধিগ্রহণ করা হয়। দ্বিতীয় দফায় একই উপজেলার তেলিগাতি পরে বাগেরহাটের কাটাখালীতে বিমানবন্দর নির্মাণের কথা বলা হয়। চতুর্থ দফায় ১৯৯৮ সালে বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার শেষ সিমানায় রামপালে খুলনা-মোংলা মহাসড়কের পূর্ব পাশে জায়গা নির্ধারণ করা হয় এবং জমি অধিগ্রহণ করা হয়। এর নামকরণ করা হয় খানজাহান আলী বিমানবন্দর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

কুড়িগ্রাম-২ আসনে মহাজোট প্রার্থীর আনুষ্ঠানিক প্রচারনা শুরু

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি : কুড়িগ্রাম-২ আসনের মহাজোট প্রার্থী পনির উদ্দিন আহমেদ জোটের জেলা নেতাকর্মীদের ...

বাগেরহাটে এনজিও ফোরামের সাথে তন্ময়ের মতবিনিময়

বাগেরহাট প্রতিনিধি : বাগেরহাটে ৮০টি এনজিওর সদস্যদের সাথে মতবিনিময় সভা করেছেন বাগেরহাট-২ আসনের ...