Home | জাতীয় | ১৯০ কোটি টাকার প্রকল্প এখন ১৭৫৫ কোটি!

১৯০ কোটি টাকার প্রকল্প এখন ১৭৫৫ কোটি!

স্টাফ রিপোর্টার :  হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আধুনিক ও যুগোপযোগী রাডার স্থাপন নিয়ে চলছে তেলেসমাতি কারবার। শুরুতে ড্যানিশ অর্থায়নে এ বিমানবন্দরের আপগ্রেডেশন প্রকল্পে রাডার সংস্থাপনের বিষয়টি থাকলেও সেটি বাদ পড়ে। এরপর পিপিপির মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেয় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।

পিপিপির ভিত্তিতে বাস্তবায়নে প্রথমে ১৯০ কোটি টাকা ধরা হয় প্রকল্প ব্যয়। এরপর তা ৩৩০ কোটি টাকায় উন্নীত হয়। বাড়তি মূল্যে রাডার কেনার এই চেষ্টার খবর আমাদের সময়সহ স্থানীয় গণমাধ্যমে সে সময় প্রকাশিত হয়। এরপর প্রক্রিয়াটি থেমে যায়। এখন আরও যন্ত্রাদি সংযোজন এবং বিলম্বজনিত কারণে ব্যয় বৃদ্ধি দেখিয়ে প্রকল্পের মোট ব্যয় ১ হাজার ৭৫৫ কোটি টাকা ধার্য করার প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ১০ বছরের মধ্যে এ অর্থ পরিশাধ করতে হবে বেবিচককে।

জানা গেছে, পিপিপির আওতায় নতুন রাডার ও কন্ট্রোল টাওয়ার স্থাপনে কানাডার নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান রেথিয়নের পক্ষ থেকে দর প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবটি বেবিচক থেকে পাঠানো হয়েছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে। এরপর মন্ত্রণালয় থেকে প্রকল্পের মূল্যায়ন প্রতিবেদন সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়। এর ভিত্তিতে প্রকল্প ব্যয় পুনরায় যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। পরে তা পাঠানোর কথা রয়েছে ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে। সংশ্লিষ্ট সূত্র তথ্যটি নিশ্চিত করেছে।

এ বিষয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন গতকাল আমাদের সময়কে বলেন, রাডারের ব্যাপারে দেওয়া প্রস্তাবটি চূড়ান্ত নয়। ব্যয় কেন এত বাড়াতে হচ্ছে, কতটুকু বাড়ানো যৌক্তিক এমন নানা বিষয় জানতে চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সবকিছু খতিয়ে দেখা হবে। এরপর তা যাবে ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে।

বিমানমন্ত্রী আরও বলেন, কী কারণে দেরি হলো এবং আগে কেন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা গেল না, সবই দেখা হচ্ছে।

সূত্রমতে, নিজস্ব অর্থায়নের পরিবর্তে পিপিপির মাধ্যমে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে চায় বেবিচক। কিন্তু এ নিয়ে দ্বিমত রয়েছে সংশ্লিষ্টদের। কারণ পিপিপিতে বাস্তবায়ন করলে টাকা আদায়ের প্রসঙ্গ থাকে। অথচ শুধু রাডার থেকে বেবিচকের সুনির্দিষ্ট কোনো আয় নেই। রুট নেভিগেশনসহ এয়ারোনটিক্যাল বিভিন্ন খাতে আয় আছে বেবিচকের। এ কারণে শুধু রাডার স্থাপন সংক্রান্ত প্রকল্প পিপিপির নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এ ক্ষেত্রে বেবিচক বলছে, এটি একটি এয়ার রুট নেভিগেশন প্রকল্প। সে কারণে বেবিচকের এয়ার রুট নেভিগেশন চার্জ বাবদ আয় থেকে নির্ধারিত কিস্তিতে প্রাইভেট পার্টনারের অংশ পরিশোধ করা হবে।

বেবিচকের যুক্তি হচ্ছে, পিপিপির মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রাথমিক প্রকল্প ব্যয় তাদের বহন করতে হবে না। এ অর্থ ১০ বছর পর্যন্ত ব্যাংকে এফডিআর করে রাখলে বেবিচকের আয়ও হবে। তবে বাস্তবতা হলো, কোনো ব্যাংকই বর্তমানে এফডিআরে ৫ শতাংশের বেশি মুনাফা দিচ্ছে না। অথচ মূল্যস্থিতি যদি ৭ শতাংশ ধরা হয়, তবে এফডিআর বাবদ বেবিচকের উল্টো লোকসান হবে ২ শতাংশ। এ কারণে পিপিপি নয়, নিজস্ব তহবিল ব্যবহারের বিষয়ে মত দিয়েছেন এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা।

প্রসঙ্গত বেবিচকের বাৎসরিক এয়ারোনটিক্যাল আয় প্রায় ৭০০ কোটি টাকা।

বিমান মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল ১৯০ কোটি টাকা ব্যয়ে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে রাডার ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের জন্য একটি আনসলিসিটেড প্রস্তাব পায় মন্ত্রণালয়। প্রকল্পের নাম ‘সাপ্লাই, ইনস্টলেশন অ্যান্ড কমিশনিং অব মাল্টিমৌড সার্ভেইলেন্স সিস্টেম (রাডার, এডিএস-বি ওয়াইড এরিয়া মাল্টিলেটারেশন ডব্লিউএএম অ্যালং উইথ এটিসি অ্যান্ড কমিউনিকেশন্স সিস্টেম) অ্যাট হযরত শাহজালাল ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট, ঢাকা’। পরে ২০১৩ সালে অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি মাল্টিমৌড সার্ভেইলেন্স সিস্টেম (রাডার) শীর্ষক প্রকল্পটি ৩৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে পিপিপির মাধ্যমে বাস্তবায়নের নীতিগত অনুমোদন দেয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে পিপিপির অংশীদার চেয়ে সর্বশেষ গত বছর ৮ নভেম্বর দরপত্র আহ্বান করে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়।

মূলত ২০০৫ সালে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পুরনো রাডার প্রতিস্থাপনে উদ্যোগ নেয় সরকার। আধুনিক রাডার বসানোর জন্য ড্যানিশ অর্থায়নে কনসালট্যান্ট নিয়োগ করে বেবিচক। আন্তর্জাতিক উপযোগী সিস্টেমসহ রাডার স্থাপনের বিষয়ে ২০০৬ সালের ডিসেম্বরে কনসালট্যান্ট প্রতিবেদন দাখিল করে। এরপর ২০০৭ সালের জানুয়ারিতে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হলে তিনটি প্রতিষ্ঠান এতে অংশ নেয়। উন্মুক্ত দরপত্রে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো একশ কোটি টাকার নিচে এ কাজ সম্পন্ন করতে চেয়েছিল। সে সময় দরপত্র বাতিল হয়ে যায়। এরও পর ২০১১ সালের মার্চে দ্বিতীয়বার দরপত্র আহ্বান করা হলে এতে চারটি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। টেন্ডার দুর্নীতির অভিযোগে রাডার স্থাপনকাজে ড্যানিশ অর্থায়ন বাতিল হয়ে যায়। পরে ২০১৩ সালে জাপান সরকারের অনুদানে ১৮০ কোটি টাকায় এ কাজ সম্পন্নের প্রস্তাব দিয়েছিল উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা জাইকা।

প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ২ সেপ্টেম্বর অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সভাপতিত্বে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি শাহজালাল বিমানবন্দরের মাল্টিমৌড সার্ভেইলেন্স সিস্টেম (রাডার) প্রকল্পটির নীতিগত অনুমোদন দেয়। তবে শর্ত দেওয়া হয়, বিদেশি একটি প্রতিষ্ঠানকে সঙ্গে নিয়ে যৌথভাবে প্রকল্পের প্রাথমিক কাজ সম্পাদন করবে দেশি প্রতিষ্ঠানটি। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে তখন ব্যয় ধরা হয় ৩৩০ কোটি টাকা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

পাকিস্তানের সেনা চৌকি ধ্বংসের দাবি ভারতের

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক :  পাকিস্তানের একাধিক সীমান্ত চৌকি ও বাংকার গুঁড়িয়ে দেয়ার দাবি করেছে ...

সীমান্তে ২৫ পাক সেনা হত্যার দাবি ভারতের, পাকিস্তানের অস্বীকার

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক :  সীমান্তে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর অস্থায়ী সেনা ছাউনিতে  বিধ্বংসী আক্রমণ চালাল ভারতীয় ...