ব্রেকিং নিউজ
Home | সারা দেশ | ১৬ অক্টোবর থেকে কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ায় শুরু হচ্ছে লালন স্মরণ উৎসব

১৬ অক্টোবর থেকে কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ায় শুরু হচ্ছে লালন স্মরণ উৎসব

Lalonকুদরতে খোদা সবুজ, কুষ্টিয়া : কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ায় বাউলসম্রাট ফকির লালন শাহের ১২৩ তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বরাবরের মতো পাঁচ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে লালন একাডেমি। অনুষ্ঠান শুরু হচ্ছে আগামী ১৬ অক্টোবর বাংলায় পয়লা কার্তিক থেকে। চলবে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত। পাঁচ দিনব্যাপী অনুষ্ঠান মালার মধ্যে থাকছে প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে লালনের কর্মময় জীবন ও দর্শন নিয়ে আলোচনা সভা, পাঁচ দিনব্যাপী গ্রামীণমেলা এবং লালনের শিল্পীদের পরিবেশনায় সঙ্গীতানুষ্ঠান। ১৮৯০ সালে ফকির লালন শাহ কুষ্টিয়ার শহরতলি কুমারখালী উপজেলার চাপড়া ইউনিয়নের ছেঁউড়িয়া গ্রামে মৃত্যুবরণ করেন। এরপর থেকে তাঁর এই এলাকায় স্মরণ উৎসব পালিত হয়ে আসছে। দেশী-বিদেশী অসংখ্য লালনের ভক্ত-অনুসারীরা প্রতিবার উৎসবে আসেন। ভক্তরা প্রথমে তাঁদের ধর্মগুরু লালন শাহের কবরে বিশেষ ভঙ্গিতে শ্রদ্ধা প্রদর্শন করেন। জাত, বংশ, ধর্ম, গোত্র ভুলে উৎসবে আসা প্রত্যেকে একে অন্যের সঙ্গে ভাব বিনিময় করেন। লালন উৎসব উপলক্ষে কালী নদীর পাড় ঘেঁষে দেশীয় হস্তশিল্পের তৈরি বিভিন্ন জিনিসপত্রের মেলা বসে। ইতমধ্যে এই আয়োজনকে ঘিরে জেলা ও পুলিশ প্রশাসন থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহন করা হয়েছে। লালন একাডেমি ১৯৯০ সাল থেকে লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবসে মেলা, সংগীতানুষ্ঠানের আয়োজন করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় এবারও পয়লা কার্তিক থেকে অনুষ্ঠানমালা শুরু হবে। একাডেমি সূত্র জানিয়েছে, এবারের আয়োজনে সারা দেশের লালনের অনুসারী ভেকধারী সাধু অংশ নিচ্ছেন। ভেকধারীরা হলেন দীক্ষাগুরু-স্থানীয় সাধু। প্রতি ভেকধারী সাধুর সঙ্গে অন্তত ২০ থেকে ৩০ জন সঙ্গী এখানে আসেন। এ ছাড়া ভারত, নেপাল, ভুটান, ফ্রান্স, কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশের সাধুসন্ত ও লোকসংস্কৃতির অনুরাগীরা এবারের আয়োজনে অংশগ্রহণ করবেন। এ ছাড়া সারা দেশ থেকে লালন সাঁইয়ের বিপুলসংখ্যক ভক্ত ও অনুসারী সমবেত হবেন ছেঁউড়িয়ায়। উল্লেখ্য, ব্রিটিশ শাসকগোষ্ঠীর নির্মম অত্যাচারে গ্রামের সাধারণ মানুষের জীবনকে যখন বিষিয়ে তুলেছিল, ঠিক সেই সময়ই সত্যের পথ ধরে, মানুষ গুরুর দীক্ষা দিতেই সেদিন মানবতার পথপ্রদর্শক হিসেবে বাউল সম্রাট লালন শাহ’র আবির্ভাব ঘটে কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার ছেঁউড়িয়াতে। লালনের জন্মস্থান নিয়ে নানা মত থাকলেও নির্ভরযোগ্য বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায় লালন ফকির ১৭৭৪ সালে কুষ্টিয়ার কুমারখালি উপজেলার চাঁপড়া ইউনিয়নের ভাঁড়রা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন নিঃসন্তান। আর্থিক অসংগতির কারণে তিনি প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা লাভ করতে পারেননি। তবে তিনি ছিলেন স্বশিক্ষিত। যৌবনকালে পূণ্য লাভের জন্য তীর্থ ভ্রমণে বেরিয়ে তার যৌবনের রূপান্তর ও সাধন জীবনে প্রবেশের ঘটনা ঘটে বলে জানা যায়। তীর্থকালে তিনি বসন্ত রোগে আক্রান্ত হলে তার সঙ্গীরা তাকে প্রত্যাখ্যান করে। পরে একজন মুসলমানের আশ্রয়গ্রহন করেন। পরে তিনি সাধক ফকির হন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

মদনে সিএনজি অটো রিক্সা শ্রমিক ইউনিয়নের কমিটি গঠন

সুদর্শন আচার্য্য, মদন (নেত্রকোণা) ঃ নেত্রকোণা মদন উপজেলায় মিশুক, সিএনজি, অটো রিক্সা ...

মদনে হানাদারমুক্ত দিবস পালিত

সুদর্শন আচার্য্য, মদন (নেত্রকোণা)ঃ নেত্রকোণা মদনে উপজেলা প্রশাসন ও মুক্তিযুদ্ধ সংসদ কমান্ডের ...