ব্রেকিং নিউজ
Home | অর্থনীতি | ১১ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা

১১ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা

nbr bangladeshস্টাফ রিপোর্টার : রাজনৈতিক অস্থিরতায় দেশের সব খাতের মতো নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে রাজস্ব আদায়েও। ফলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ২০১৩-১৪ অর্থবছরের শুরু লক্ষ্যমাত্রা থেকে ১১ হাজার ৯০ কোটি টাকা কমিয়ে সংশোধিত নতুন লক্ষ্যমাত্রা পুনর্নির্ধারণ করেছে এনবিআর। বৃহস্পতিবার সকালে রাজস্ব ভবনের কনফারেন্স হলের সভায় এনবিআর চেয়ারম্যান গোলাম হোসেন সাংবাদিকদের একথা জানান। এ সময় এনবিআরের বিভিন্ন অনুবিভাগের সদস্য, সচিব ও কর্তকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

গোলাম হোসেন জানান, চলতি অর্থবছরের তিন মাসেরও অধিক সময় দেশের বিভিন্ন অস্থিরতার কারণে অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। সব মিলিয়ে এ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে ১০ হাজার কোটি টাকার বেশি রাজস্ব আদায় কম হয়েছে। এ সময়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে মূল প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৮.০৮৮ শতাংশ কম। এ বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হলেও গত বছরের তুলনায় প্রবৃদ্ধি অনেক ভালো রয়েছে। এ পর্যন্ত শুল্ক বিভাগ ছাড়া অন্য দু’টি অনুবিভাগ প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে। এর মধ্যে শুল্ক অনুবিভাগে ১ শতাংশ ঘাটতি রয়েছে। আর মূল্য সংযোজন কর (মূসক)ও আয়করে যথাক্রমে ১৪ শতাংশ ও ১১ শতাংশ করে প্রবৃদ্ধি রয়েছে। তাই সর্বশেষ রাজস্ব আদায় পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে লক্ষ্যমাত্রা কমানোর কমিয়েছে এনবিআর। ২০১৩-১৪ অর্থবছরের শুরুতে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ৩৬ হাজার ৯০ কোটি টাকা। এ লক্ষ্যমাত্রা থেকে ১১ হাজার ৯০ কোটি টাকা কমিয়ে সংশোধিত নতুন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। তাই নতুন সংশোধিত এ লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা বলে জানান। অবশ্য বর্তমান নতুন লক্ষ্যমাত্রা হিসেবেও রাজস্ব ঘাতটি রয়েছে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা বলে জানান তিনি।
এ সময় ২০১৪-১৫ বাজেট পরিকল্পলা নিয়ে তিনি বলেন, এ বছর আমরা এমন একটি বাজেট প্রণয়ন করবো যাতে দেশের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি সক দিক থেকে উর্ধ্বমুখী থাকবে। এ লক্ষ্যে অটোমেশন পদ্ধতিকে কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যাতে বিশ্ব ব্যাংক ৫৭ মিলিয়ন টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করছে। এছাড়া এনবিআরের সকল অনুবিভাগের আইন সংশোধনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এরমধ্যে মূসক আইন ১৯৯১ এর পরিবর্তে ২০১৩ প্রায় চুড়ান্ত হয়েছে। আর আয়কর ও শুল্ক আইন ড্রাফট আকারে করে মেইলে দেওয়া হয়েছে। যা তিন বছর যাবৎ প্রণয়নের প্রক্রিয়াধীন। আর এ আইন প্রণয়নে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শও চেয়েছেন এনবিআর চেয়ারম্যান। এ বছর থেকেই করপোরেট কর কমানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে জানান তিনি। এ বছর থেকেই করপোরেট কর ৩৭.৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ব্যক্তি পর্যায়ের করের সমপর্যায়ে নিয়ে আসার প্রক্রিয়া শুরু করা হবে বলে জানিয়েছে। একই সাথে টোব্যাকো পণ্যের উপর কর বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেন । তিনি আরো বলেন, বিশ্বের সকল দেশেই ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য করপোরেট কর অন্যান্য করের তুলনায় কম। বাংলাদেশে এর ব্যতিক্রম হওয়া করপোরেটরা সব সময়ই পিছিয়ে রয়েছ। অর্থমন্ত্রীর নির্দেশেই ২০১৪-১৫ অর্থবছরের বাজেট থেকেই এ কর কমিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হবে। আর আগামি পাঁচ বছরের মধ্যে তা কমিয়ে ৩৭.৫ শতাংশ থেকে ২৫ শতাংশে নিয়ে আসা লক্ষে এনবিআর কাজ করছে। টোব্যাকো পণ্যের উপর কর বৃদ্ধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যে সকল পণ্য স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর সেগুলোর উপর কর বৃদ্ধি করা হবে। আর এ করের টাকা দিয়ে ক্যান্সার হাসপাতালসহ দ্বাতব্য প্রতিষ্ঠানে দেওয়া হবে। এসময় তিনি বলেন, দেশে কি পরিমাণ জর্দ্দার ফ্যাক্টরী রয়েছে তা কারো কাছেই তথ্য নেই। এ বছর এগুলোর তালিকা করে করারোপ করা হবে। তাছাড়া ধুমাপান জাতীয় সকল পণ্যের উপরই কর আরো বৃদ্ধি করা হবে। এ সময় তিনি বলেন, প্রতিবছরই বাজেটের পর রিকন্ডিশন গাড়ি নিয়ে ঝামেলা তৈরি হয়। বাজেটের আগে নিয়ে আসা গাড়ি খালাসের অভাবে নতুন শুল্ক দিতে হয়। সেক্ষেত্রে গাড়ি আমদানিকৃত প্রতিষ্ঠানকে বাজেটের আগেই রাজস্ব বোর্ড জানাতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের খাবারের উপরে নিষেধাজ্ঞা জারি

ক্রীড়া ডেস্ক : ফিটনেসে জোর দিতে হবে। তাই পাকিস্তানের কোচ হয়ে এসে ...

এবারও নেতানিয়াহুর পক্ষে ক্ষমতায় টিকে থাকা কঠিন

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক :  ইসরায়েলের নির্বাচনের ফলাফল এখনো প্রকাশিত না হলেও সমীক্ষা অনুযায়ী ...