ব্রেকিং নিউজ
Home | আন্তর্জাতিক | ১০১ ঘাটে ইজারার ৯ কোটি টাকা অনাদায়

১০১ ঘাটে ইজারার ৯ কোটি টাকা অনাদায়

স্টাফ রিপোর্টার, ১১ মার্চ, বিডিটুডে ২৪ডটকম : দেশের ৯টি বন্দরে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) নিয়ন্ত্রণাধীন ১০১টি ঘাটের ইজারার ৯ কোটি টাকা অনাদায় হয়ে পড়েছে।

দুর্নীতির সঙ্গে কর্মকর্তাদের যোগসাজশ, ভুয়া ব্যক্তির নামে ইজারা, বে-নামে ঘাট ইজারা, ঘন ঘন নীতিমালা বদল, মন্ত্রণালয়ের তদবির- এ ৭ কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

সারা দেশে ইজারা দেয়া ১১০টি ঘাটের মধ্যে ১০১টি অনাদায়ী রয়েছে। ফলে বিআইডব্লিউটিএ’র আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে সরকার।

এদিকে, ঘাটের ইজারা বকেয়া সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে ২৮টি সুপারিশ করেছে সংসদীয় সাব-কমিটি। পাশাপাশি ৭টি পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির ৫নং সাব-কমিটির প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। ২০১০ সালের ১২ ডিসেম্বর কমিটির সদস্য মোহাম্মদ শাহ আলমকে আহবায়ক করে তিন সদস্যবিশিষ্ট সাব-কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- গোলাম কিবরিয়া টিপু ও মো. নজরুল ইসলাম বাবু।

কমিটি গঠনের ছয়মাস পর সাব-কমিটিতে পরিবর্তন এনে নতুন আহ্বায়ক করা হয় মো: মাজহারুল হক প্রধানকে। সম্প্রতি এ কমিটি তাদের প্রতিবেদন পেশ করেছে।

নথিতে বলা হয়েছে, নয়টি বন্দরের ১১০টি ঘাটে বকেয়ার প্রকৃতি বিভিন্ন ধরনের এবং নীতিমালাও এক নয়। কমিটি এ বিষয়ে তৎপর হলে মাত্র ৯টি ঘাটের অনাদায়ী ১২লাখ ২১হাজার টাকা আদায় হয়। বাকি সব ঘাটের ইজারার ৯ কোটি টাকা বকেয়া থাকার পাশাপাশি মামলাও রয়েছে।

তদন্তে দেখা গেছে, ঘাট ইজারার ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ দু’টি নীতিমালা অনুসরণ করে থাকে। একটি প্রকাশ্যে, অন্যটি বিশেষ ক্ষেত্রে। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে ইজারা দেয়ার প্রবণতা বেশি। এক্ষেত্রে বে-নামে ও ভূয়া ব্যক্তির নামে ইজারা প্রদান করায় প্রকৃত ইজারাদাররা বঞ্চিত হন।

২৮টি সুপারিশের সঙ্গে ঘাট ইজারা দেয়ার সময় ৭ ধরনের তথ্য নেয়ার পরামর্শ দিয়েছে সাব-কমিটি। পরামর্শগুলো হচ্ছে- বে-নামে বা ভূয়া ইজারাদার সনাক্তে সংশ্লিষ্ট ইজারাদারের ছবি সন্নিবেশ, ভোটার পরিচয়পত্র, ট্রেড লাইসেন্স/ব্যাংক সলভেন্সি সার্টিফিকেট জমা নেয়া, এককালীন ইজারার টাকা আদায়, ঘন ঘন নীতিমালা পরিবর্তন না করা এবং মন্ত্রণালয়ের সুষ্ঠু তদারকি।

২৮টি সুপারিশ: ইজারার অর্থ এককালীন আদায়ে নীতিমালা প্রণয়ন, মামলাজনিত কারণে অনাদীয় অর্থ আদায়ে আইনগত পদক্ষেপ নেয়া, দীর্ঘদিন যাবৎ বকেয়া আছে এক্ষেত্রে নতুনভাবে ইজারা দেয়ার সময় পূর্ববর্তী কর্মকর্তাদেরকে বর্তমানে কর্মরত কর্মকর্তাদের সহযোগিতা করা ও বকেয়া অর্থ আদায় না হওয়া পর্যন্ত পূর্বোক্ত কর্মকর্তাকে ক্রুটিপূর্ণ চুক্তি সম্পাদন করার জন্য দায়ী থাকার সুপারিশ করা, ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে সুবিধা প্রদানের জন্য নীতিমালা পরিবর্তনা না করা, মামলা জটিলতা নিরসনে উচ্চ আদালতে বিজ্ঞ আইনজীবী নিয়োগ করা, নিষ্পত্তিকৃত মামলার রায়ের ভিত্তিতে অর্থ আদায়ে জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণ, খেলাপি ইজারাদারের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মানি স্যুট মামলার মনিটরিংয়ের জন্য পৃথক সেল মন্ত্রণালয়কর্তৃক গঠন, খেলাপি ইজারাদারের বিরুদ্ধে ফৌজদারী ব্যবস্থা নিতে আইনমন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা নেয়া, বেআইনিভাবে ভুয়া ইজারাদার চিহিৃত করে ফৌজদারী মামলা করা, নৌমন্ত্রণালয়ের মনিটরিং ও সুপারভিশন বাড়ানো, ইজারা আদায় ও খরচ দুটিই মাসিক বোর্ড সভায় পেশ, ইজারার টোলের মূল্যের অতিরিক্ত আদায় না করা, মুক্তিযোদ্ধার কোনো সংস্থা, যুবক, মহিলা বা জনকল্যাণমূলক কোন প্রতিষ্ঠানের নামে ঘাট ইজারা দেয়ার ক্ষেত্রে নীতিমালার ব্যত্যয় না ঘটানো, অনাদায়ী ভ্যাট আইটি বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃক অর্থ মন্ত্রণালয়কে প্রদান, টেন্ডার কমিটিতে নৌ ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করা এবং যে সকল ইজারাদার ছদ্ম নামে, ভুয়া নামে, মৃত ব্যক্তির নামে প্রতারণা করে ঘাটের মালিক ইজারা গ্রহণ করেছে তাদের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা রুজু করার সুপারিশ করা হয়।

ইজারা নীতিমালা পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ও যাদের সময়ে ইজারার টাকা বকেয়া হয়েছে তারা হলেন মো. মাহবুবুল আলম, উর্ধ্বতন উপ-পরিচালক (বর্তমানে সচিব বিআইডব্লিউটিএ); মো. শফিকুল হক, পরিচালক ‘বন্দর’; মো. আবুল বাসার, পরিচালক ‘ক্রয় ও সংরক্ষন’; মো. গোলাম কবির, যুগ্মপরিচালক; মু. আবু জাফর হাওলাদার, যুগ্ম-সচিব; মো. সুলতান আহম্মদ, উপ-সচিব ‘আইন’; শরীফ মো. আফজাল হোসেন, উর্ধ্বতন উপ-পরিচালক; মো. সাইফুল ইসলাম, উর্ধ্বতন উপ-পরিচালক; মোহম্মদ আলী সিদ্দিক, উর্ধ্বতন উপ-পরিচালক ‘বন্দর’; কাজী ওয়াকিল নওয়াজ, উর্ধ্বতন উপ-পরিচালক; মুন্সী মো. মহিউদ্দিন, উপ-পরিচালক; শেখ মাসুদ কামাল, উপ-পরিচালক; এ. কে. এম. আরিফ উদ্দিন, উপ-পরিচালক (খুলনা নদীবন্দর); মো. মনজুর কাদের, উর্ধ্বতন উপ-পরিচালক; মো. মুস্তাফিজুর রহমান, উপ-পরিচালক; মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, উর্ধ্বতন উপ-পরিচালক; জেমিন চাকমা, সহ. সচিব (নৌসওপ); মো. ইকবাল আলম, জনসংযোগ কর্মকর্তা এবং মো. কবির হোসেন, উপ-পরিচালক ‘বন্দর’।

x

Check Also

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সাথে পর্তুগাল আওয়ামী লীগের মতবিনিময় সভা

আনোয়ার এইচ খান ফাহিম ইউরোপীয় ব্যুরো প্রধান, পর্তুগালঃ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মোঃ শাহরিয়ার ...

বাংলাদেশ ও পর্তুগাল বর্ধিত আন্তঃ-সংসদীয় সহযোগিতায় সম্মত

আনোয়ার এইচ খান ফাহিম, ইউরোপীয় ব্যুরো প্রধান, পর্তুগাল: বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জনাব ...