Home | সারা দেশ | হ্যান্ডকাপ লাগিয়ে হত্যার চেষ্টা; শ্বশুরের টাকা জমি আত্নসাতের অভিযোগ

হ্যান্ডকাপ লাগিয়ে হত্যার চেষ্টা; শ্বশুরের টাকা জমি আত্নসাতের অভিযোগ

gazipurমো: ফুয়াদ মন্ডল, জেলা প্রতিনিধি (গাজীপুর): মা আমার অভিশাপ তুলে নাও। আমি টাকা জমি চাইনা। তুমি মেয়ে ও মেয়ের জামাইদের নিয়ে সুখে থাক। বাবার পেনশনের টাকা ও জমি গ্রাস করতে ভগ্নিপতি কনষ্টেবল সাইফুল ইসলাম ও মাহফুজুল হক আমাকে দুহাতে হ্যান্ডকাপ লাগিয়ে হত্যা করতে চাইছিল। আমি তাদের বিচার চাই। গ্রাম্য শালিসে এমন আকুতি জানিয়ে বিচার না পেয়ে শনিবার সন্ধ্যায় নিবৃতেই নিজ গ্রাম ছেড়ে গেল গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার কর্ণপুর গ্রামের মৃত মোনায়েম খাঁর পুত্র ওমর ফারুক। নির্যাতিত ফারুক জানায় প্রায় দুই বছর পূর্বে তার বাবা মারা যায়। বাবার পেনশনের টাকা ও বশত ভিটা গ্রাস করতে চক্রান্তে নামে দু’ভগ্নিপতি সাইফুল ইসলাম ও মাহফুজুল হক। বড় বোন ফারজানার স্বামী উপজেলা বরমী ইউনিয়নের ছিটপাড়া গ্রামের আ: হালিম ওরফে হেলিমের পুত্র সাইফুল ইসলাম পুলিশ কনষ্টেবলে ডিএমপিতে চালক হিসাবে কর্মরত। দু’ভগ্নিপতি চক্রান্ত করে তাকে মায়ের কাছে বিষিয়ে তুলেছে। বোন ভগ্নিপতিদের অত্যাচারে নির্যাতনে এক বছর পূর্বে বাধ্য হয়ে তাকে বাড়ী ছাড়তে হয়। স্ত্রী শাহনাজকে নিয়ে গাজীপুরের কোনাবাড়ীতে ভাড়ায় থেকে পোশাক কারখানায় চাকুরী নেয়। মাঝে মধ্যে নিজ গ্রামে এলেও নিজ বাড়ীতে প্রবেশের সৌভাগ্য হয়নি তার। গ্রামের এবাড়ি ওবাড়ি ঘুরে চলে যেতে হয় তাকে। স্থানীয় ভাবে বহু দেন দরবার করেও নিজ বাড়ীতে ফিরতে পারেনি ফারুক। শুক্রবার বিকালে ফারুক তার স্ত্রীকে নিয়ে গ্রামে আসে। এখবরে সন্ধ্যায় চলে আসে দু’ভগ্নিপতি কনষ্টেবল সাইফুল ইসলাম, মাহফুজুল হক, মা ডেইজী বেগম, বোন ফারজানা ও মুন্নি। রাত ৮টার দিকে সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে ওমর ফারুককে ডেকে নিয়ে ঘরের ভিতর নিয়ে বেধড়ক মারপিট শুরু করে। একপর্যায়ে কনষ্টেবল সাইফুল ওমর ফারুকের দু’হাতে হ্যান্ডকাপ লাগিয়ে মাটিতে ফেলে দেয়। মাহফুজুল্লাহর সহায়তায় তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করে। ফারুকের স্ত্রী টের পেয়ে ডাক চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে। প্রত্যেক্ষদর্শী গ্রামবাসীরা জানায় দু’ভগ্নিপতি ফারুককে হ্যান্ডকাপ পরিয়ে হত্যার চেষ্টা সময় বড় বোন তাদেরকে সহায়তা করলেও মা নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে। গ্রামবাসীরা কনষ্টেবল সাইফুল ও তার সহযোগীদের অবরোদ্ধ করে রাখে। খবর পেয়ে শ্রীপুর থানার এ.এস.আই আসাদুজ্জামান ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে এবং হ্যান্ডকাপ উদ্ধার করে। শনিবার দুপুরে ‌ওই বাড়ীতে গোসিংগা ইউনিয়ন আ’লীগের সাধারন সম্পাদক হাবিবুল্লাহ ফকির, গোসিংগা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মীর মো: নুরে আ: হাইয়ের উপস্থিতিতে গ্রাম্য শালিশ বসে। শালিসে কনষ্টেবল সাইফুল উপস্থিত না থাকায় বিচার সম্পন্ন হয় নি। এদিকে ডেইজী বেগম পুত্রের বিরুদ্ধে ভয়ভীতি, হুমকি প্রদর্শনের অভিযোগে শ্রীপুর থানায় সাধারন ডাইরী করেন। কনষ্টেবল সাইফুল ইসলামের সাথে মোবাইল ফোনে কথা বললে তিনি হত্যার চেষ্টার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন ফারুক তাকে মারপিট করে তার মটর সাইকেল নং খুলনা-মেট্রো-ল-১১-৩১৮৭ ভাংচুর করে। এজন্য তাকে হ্যান্ডকাপ লাগিয়ে থানায় আনার চেষ্টা করেন। শ্রীপুর থানার এএসআই আসাদুজ্জামান জানান ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করার হ্যান্ডকাপের অংশ তার হেফাজতে আছে। গোসিংগা ইউনিয়ন আ’লীগের সাধারন সম্পাদক হাবিবুল্লাহ ফকির জানান অভিযুক্ত পক্ষ অনুপস্থিত থাকায় শালিস শেষ করা যায়নি। শ্রীপুর মডেল থানার ওসি আ: মোতালিব জানান, অভিযোগ পেলেই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। হ্যান্ডকাপ লাগিয়ে হত্যার চেষ্টাকারী পুলিশ কনষ্টেবল সাইফুল ইসলামের বিচার না হওয়ায় গ্রামবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

কমলগঞ্জে মণিপুরী নববর্ষ উৎসব ‘চৈরাউবা’ উদযাপন

শাব্বির এলাহী,কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার)ঃ বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে মৌলভীবাজারের সীমান্তবর্তী কমলগঞ্জ উপজেলার  ...

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ছাত্রলীগের জঙ্গিবাদ বিরোধী বিক্ষোভ মিছিল

জাকির হোসেন পিংকু,চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি: চাঁপাইনবাবগঞ্জে টানা দ্বিতীয় দিন সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের ...