Home | ফটো সংবাদ | হেফাজত নেতার দাবি ‘মাদ্রাসায় বিস্ফোরণ নিয়ে মিডিয়া অতি প্রচার করছে’

হেফাজত নেতার দাবি ‘মাদ্রাসায় বিস্ফোরণ নিয়ে মিডিয়া অতি প্রচার করছে’

latif Nazamiস্টাফ রিপোর্টার : হেফাজতে ইসলামের নায়ে্বে আমির মুফতি ইজহারুল ইসলামের মাদ্রাসায় বিস্ফোরণ এবং গ্রেনড উদ্ধারের ঘটনায় বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছে সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত এই সংগঠনটি। অবশ্য সংগঠনটির নেতৃত্বস্থানীয় বহু নেতার বিরুদ্ধে জঙ্গি তৎপরতার অভিযোগ নতুন না। বিষয়টি অস্বীকার করলেও ইজহারের মাদ্রাসায় বিস্ফোরণের পর জোরালো কোনো বক্তব্য দিতে পারছে না হেফাজত নেতারা।
হেফাজতে ইসলামের প্রচার সম্পাদক আহলুল্লাহ ওয়াসেলের সাথে যোগাযোগ করা হলে  তিনি বলেন, ‘এই ঘটনা আমাদের জন্য ক্ষতির কারণ। যদি এই ঘটনার সত্যতা মেলে তাহলে সেটা আমাদেরকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে’।
হেফাজতের উপদেষ্টা এবং ১৮ দলীয় জোটের শরিক ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ নেজামী বলেন, ‘ইজহারের মাদ্রাসায় বিস্ফোরণের ঘটনাটি গণমাধ্যম অকারণে ফলাও করে প্রচার করছে’।
এই হেফাজত নেতা বলেন, ‘বোমাটা যদি অন্য জায়গায় ফুটতো, তাহলে এক কলামের বেশি নিউজ হতো না। কিন্তু ইসলামী প্রতিষ্ঠানে যদি এ ধরনের ঘটনা হয়, তাহলে পত্রিকায় ব্যানার হেডিং হয়। টেলিভিশনেও নানা আগের ঘটনা জুড়ে দিয়ে ফ্ল্যাসব্যাক দিয়ে প্রচার করে যাতে মনে হয় এটা বিরাট একটা ঘটনা’।
‘তাহলে আপনি মনে করছেন মুফতি ইজহারের মাদ্রাসায় বিস্ফোরণ নিয়ে গণমাধ্যম বাড়াবাড়ি করছে’—এমন মন্তব্যের জবাবে ১৮ দলীয় জোট নেতা বলছেন, ‘হ্যাঁ, ঘটনা যত না বড়, মিডিয়া প্রচার করেছে তার চেয়ে বেশি’।
ঘটনাটি তাহলে কেমন মনে হচ্ছে-জানতে চাইলে ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমার তো মনে হচ্ছে আইপিএস বিস্ফোরণ’। ‘কীভাবে বুঝলেন?’-জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি কাল রাতে ফোন করেছিলাম চট্টগ্রামে’। ‘মুফতি ইজহারের সাথে কথা হয়েছে?’ -‘না, সরাসরি কথা হয়নি। তবে অন্য একজন জানালেন, ঘটনাটি আইপিএসই হবে’।‘আইপিএস বিস্ফোরণ হলে কি বৈদ্যতিক পাখা গলে যেতো বা জানলার গ্রিল বেঁকে যেতো?-‘যাই হোক, বিষয়টা তদন্তের পরে বোঝা বে’।
‘কিন্তু হেফাজতের একজন শীর্ষস্থানীয় নেতার মাদ্রাসায় এমন বিস্ফোরণ তো আপনাদের জন্য বিব্রতকর’।-‘না, তা হবে কেন, কেউ যদি ব্যক্তিগতভাবে কোনো অপরাধ করে, তাহলে তার দায় সংগঠন নেবে কেন? আমি যদি কোনো অপরাধ করি, তাহলে তার দায় কি ইসলামী ঐক্যজোটের হবে?’।আওয়ামী লীগের কেউ এমন ঘটনা ঘটালে কি একই কথা বলতেন?- ‘কেন বলতাম না। ব্যক্তিগত অপরাধের দায় সংগঠনের হওয়া উচিত না। সেটা যেই করুক না কেন’। ‘মুফতি ইজহারের বিরুদ্ধে তো জঙ্গি তৎপরতার অভিযোগ নতুন না’,মামলা হলেই তো কেউ অপরাধী না। তবে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের পর কেউ যদি দোষী প্রমাণ হয়, তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যাবে’। ‘কী করলে তদন্ত সুষ্ঠু হবে?’ -‘যেহেতু স্পর্শকাতর ঘটনা, তাই বিচারবিভাগীয় তদন্ত হতে হবে’।‘বিচারবিভাগ অপরাধের ঘটনা কীভাবে তদন্ত করবে?’
 – ‘করতে পারে’।তদন্তে মুফতি ইজহার দোষী প্রমাণ হলে তার শাস্তি দাবি করবেন?- ‘তদন্ত সুষ্ঠু হতে হবে। অনেক সময় রাজনৈতিক কারণে এসব ঘটনা ব্যবহার করা হয়। ওনি (ইজহার) যেহেতু একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব যদি রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের চেষ্টা করা হয়, তাহলে প্রশ্ন থেকে যাবে। তদন্তের ধরণটা কী হয়, তার ওপর ভিত্তি করে আমরা প্রতিক্রিয়া দেবো’। এদিকে হেফাজতে ইসলামের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ও ইসলামী ঐক্যজোট নেতা আহলুল্লাহ ওয়াসেল বলেন, ‘সরকারের শেষ সময়ে কী হচ্ছে তা বলা কঠিন। অতীতের ঘটনায় দেখা গেছে পুলিশ ইচ্ছা করলে অনেক কিছু করতে পারে। আমরা এখনও বিশ্বাস করছি এটা পরিকল্পিত’।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

পুঁজিবাজারে বেড়েছে লেনদেন ও শেয়ারের দর

স্টাফ রিপোর্টার : সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার (১৯ মে) বড় উত্থানের মধ্য দিয়ে ...

মেসির ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছেন এমবাপ্পে

ক্রীড়া ডেস্ক : লা লিগায় ৩৪ গোল নিয়ে ইউরোপের শীর্ষ লিগগুলোর মধ্যে ...