Home | বিবিধ | আইন অপরাধ | হেফাজত ইস্যুর ৪২টি মামলায় তদন্তে গতি নেই!

হেফাজত ইস্যুর ৪২টি মামলায় তদন্তে গতি নেই!

Hefajot islamস্টাফ রিপোর্টার : গত বছরের ৫ মে রাজধানীতে হেফাজতে ইসলামের সহিংসতার ঘটনায় দায়ের করা ৪২টি মামলার একটিরও অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করতে পারেনি পুলিশ। ১০ মাস পার হলেও তদন্তের কোন অগ্রগতি নেই। তার মধ্যে কয়েকটি মামলা এখন তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। শুধু রাজধানীতে নয়, হেফাজতের তা-বের ঘটনায় দেশের অন্যান্য থানায় দায়ের করা মামলা তদন্তের ক্ষেত্রেও একই হাল দেখা গেছে। হেফাজত ইস্যুর প্রায় সব মামলায় তদন্তে কোনো গতি নেই।

সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে কার্যত হেফাজতের এসব মামলা চলে গেছে পুরোনো চালের গুদামে। অথচ হেফাজতের মামলায় মূল আসামিরা গায়ে বাতাস লাগিয়ে দিব্যি আরামে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। কবে এ মামলার তদন্ত শেষ হবে, তা কেউ স্পষ্ট করে বলতেও পারছেন না।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ‘স্পর্শকাতর’ বিবেচনায় পুলিশ এসব মামলা নিয়ে নিজে থেকে তেমন কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চায় না। তাই আসামি গ্রেফতার থেকে শুরু করে মামলার তদন্তের স্বাভাবিকগতি নিয়েও পুলিশের তেমন কোনো ভাবনা আপাতত নেই।

মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের বিরুদ্ধে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে ৬১ জন নিহত হওয়ার তালিকা দিয়েছিল বেসরকারি মানবাধিকার সংস্থা ‘অধিকার’। পরে অবশ্য প্রমাণিত হয়, ওই তালিকা সঠিক নয়। এ ছাড়া শাপলা চত্বরের অভিযানে আড়াই হাজারের বেশি হেফাজত নেতাকর্মী নিহত হওয়ার গুজব ছড়ানো হয়েছিল বিএনপি-জামায়াতের পক্ষ থেকে। পুলিশ ‘অধিকারে’র তালিকার ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে জানতে পারে, হেফাজতের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় রাজধানীতে ১৩ জন নিহত হন।

এ বিষয়ে পুলিশ মহা-পরিদর্শক হাসান মাহমুদ খন্দকার বলেন, কিছু মামলার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় তথ্য-সাক্ষ্য সংগ্রহ করে তদন্ত এগিয়ে নিতে হয়। হেফাজতের ঘটনায় যথাযথভাবে সত্য ঘটনা উদ্ঘাটন করেই তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। এ ক্ষেত্রে কালক্ষেপণ করা হচ্ছে না।

ঢাকা মহানগর পুলিশের ডিসি (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান বলেন, পেশাদারিত্বের সঙ্গে এসব মামলার তদন্তকাজ এগিয়ে চলছে। অনেক তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। ২০১৩ সালে রাজনৈতিক সহিংসতা মোকাবেলায় পুলিশকে বেশি ব্যস্ত থাকতে হয়েছে। এখন তদন্তে স্বাভাবিকভাবে মনোনিবেশ করে মামলার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা হবে।

পুলিশের মতিঝিল বিভাগের ডিসি মো. আশরাফুজ্জামান বলেন, ‘আশা করি স্বল্প সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।’

হেফাজত তা-বের ঘটনায় দায়ের করা সব মামলার গুরুত্বপূর্ণ আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুড়ে বেড়াচ্ছেন। পুলিশের কোনো অভিযান পরিচালিত না হওয়ায় তারা স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। রাজধানীর মতিঝিল, পল্টন, রমনাসহ কয়েকটি থানায় ৪২টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ৮টি মামলার তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। মামলায় এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন- হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় মহাসচিব মাওলানা জুনাইদ বাবুনগরী, চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সভাপতি মাওলানা মাইনুদ্দীন রুহী, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা ফরিদ উল্লাহ, চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম, নায়েবে আমির মহিবুল্লাহ বাবু, তাজুল ইসলাম, আবুল মালেক হালিম, আজিজুল হক ইসলামাবাদী, ফজলুল হক জিহাদী, নেজামে ইসলামের সাহিত্য সম্পাদক মুফতি হারুন ইজাহার, হেফাজতে ইসলামের অর্থ সম্পাদক মাওলানা ইলিয়াছ ওসমানী, নূর হোসেন কাসেমী, মুফতি ফয়জুল্লাহ, মাওলানা মাহফুজুল হক, আবদুল কুদ্দুস, নুরুল ইসলাম, আবুল হাসনাত আমিনী, মোস্তফা আজাদ, মুফতি নুরুল আমিন, শাখাওয়াত হোসেন, আতাউল্লাহ আমিন, গোলাম মহিউদ্দিন একরাম, শেখ লোকমান হোসেন, মুফতি শায়দুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম মাদানী, শামসুল হক, মনির হোসেন মুন্সী, আবদুল কাদের প্রমুখ।

রাজধানীসহ সারাদেশে হেফাজতের তা-বের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় লক্ষাধিক নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছিল। এর মধ্যে ৫ মে তা-বের ঘটনায় চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানায় ৫২ জনকে আসামি করে মামলা হয়। ওই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হাটহাজারী থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) সেন্টু মিয়া বলেন, ‘এখনও একজনকেও গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। তদন্ত চলছে।’

এ ছাড়া ৫ মে তা-বের ঘটনায় নারায়ণগঞ্জে ১৩টি মামলা দায়ের করা হয়। এর মধ্যে মাত্র দুটি মামলার তদন্ত শেষ হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল হক সমকালকে বলেন, খুব শিগগিরই হেফাজতের তা-বের ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ করা হবে।

সূত্র জানায়, ৫ মে হেফাজতের কিছু কর্মী ছাড়া দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছদ্মবেশে বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা নৈরাজ্য সৃষ্টি করে। সরকারি সম্পদ ধ্বংস, গাছ কাটা, অগ্নিসংযোগ করে ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করে। ৫ মে তা-বের মামলার গতিহীন তদন্তের কারণে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা এর সুফল পাচ্ছে।

ওই ঘটনার পর পুলিশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা গণমাধ্যমকে জানান, ভিডিও ফুটেজ দেখে জড়িতদের শনাক্ত করা হবে। ভিডিও ফুটেজ দেখে শনাক্ত নয়, এখন তদন্ত প্রক্রিয়াই থমকে আছে। এতে হেফাজত তা-বের ঘটনায় জড়িতরাও তাই আইনের আওতার বাইরে থাকছেন।

দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেন, হেফাজত ইস্যুতে দায়ের করা মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ করতে হলে সরকারের নীতিনির্ধারকদের স্পষ্ট গাইডলাইন ছাড়া সম্ভব হবে না।

হেফাজত তা-বের পরপরই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় হেফাজতের নেতাকর্মীদের নামে মামলা অন্যান্য চাঞ্চল্যকর মামলার মতোই এখন ডিপ ফ্রিজে চলে গেছে। মূলত ঘটনার পরপরই ওই সময় মামলার জালে বন্দি রাখা হয় হেফাজত নেতাকর্মীদের। নাম উল্লেখ ছাড়াও বিভিন্ন থানায় হাজার হাজার অজ্ঞাত পরিচয় নেতাকর্মীকে এসব মামলায় আসামি করা হয়েছিল। পেনাল কোডের ৩০২/৪০৪/ ১০৯/৩৪/ ১৪৩/ ১৪৭/ ৪৩৫/ ৪২৭/ ৩৮৯/ ১০৯/ ১১৪/ ৩৪ ধারায় হেফাজতের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছিল। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ডিসি (দক্ষিণ) কৃষ্ণপদ রায় সমকালকে বলেন, ডিবির কাছে যে ক’টি মামলা এসেছে, তার তদন্তের ব্যাপারে কোনো উদাসীনতা নেই। প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করেই তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

আন্তর্জাতিক আদালতে ভারতের বিরুদ্ধে মামলা করবে পাকিস্তান

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : কাশ্মীর নিয়ে চলমান সংকট নিরসনে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের পর এবার ...

ঢাকায় টাইগারদের হেড কোচ

ক্রীড়া ডেস্ক : বহুল প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ঢাকায় পা রাখলেন বাংলাদেশ দলের নতুন ...