Home | আন্তর্জাতিক | হৃদয়কে হারিয়ে উদভ্রান্ত আব্দুল্লাহ

হৃদয়কে হারিয়ে উদভ্রান্ত আব্দুল্লাহ

স্টাফ রিপোর্টার, ১৮ মার্চ, বিডিটুডে ২৪ডটকম : হৃদয়ের বাবাকে দেখেছিলাম, কথা হয়নি। হাতিমারা পূর্বপাড়া ঈদগাহের সামনে দিয়ে রোববার ভোরে উদভ্রান্ত্রের মতো ছুটে যাচ্ছিলেন যে যুবক তিনিই হৃদয়ের বাবা। রাস্তা দিয়ে হাঁটছিলেন আর বলছিলেন, “হৃদয়রে স্কুল হাডান (পাঠানো) লাগবো।”

লাল শার্ট আর লুঙ্গি পড়া সেই যুবকের নাম আব্দুল্লাহ, শনিবার ট্রাক চাপায় নিহত সাড়ে ৫ বছরের শিশু হৃদয় হোসেনের বাবা।

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার নাথেরপেটুয়া এলাকায় স্কুল থেকে বাড়িতে ফেরার পথে  ট্রাকচাপায় নিহত সাত শিশুর একজন হৃদয় হোসেন।

রোববার ভোরে নাথেরপেটুয়া থেকে নোয়াখালী রোড দিয়ে নিজ গ্রাম কাওলিপাড়ায় যাচ্ছিলেন আব্দুল্লাহ। রাস্তায় বাবুল ভাইয়ের সঙ্গে দেখা হলে হাউমাউ করে কেঁদে ওঠেন। পরক্ষণেই জানান, ব্যস্ততার কথা। হৃদয়কে স্কুলে পাঠানোর কথা। এখনো বিশ্বাস করতে পারেন না বাবা, ঘাতক ট্রাক তার বুক খালি করে গেছে।

আব্দুল্লাহ একজন রিকশাভ্যান চালক । আর্থিক অনটনের কষাঘাতে কোনরকমে জীবন চালাচ্ছেন। আব্দুল্লাহর স্বপ্ন ছিল ছেলেটাকে পড়ালেখা করিয়ে বড় করবে, ছেলে বড় হয়ে চাকরি করবে, সংসারের অভাব-অনটন মুছে ফেলবে। বাবা তার ছেলেকে নিয়ে সবার কাছে অহংকার করে বলবে, একজন ভ্যানচালকের ছেলে এখন বড় চাকরি করছে। এসব স্বপ্ন ছেলে জন্ম নেওয়ার পর থেকেই দেখতেন। কিন্তু ঘাতক ট্রাক তার স্বপ্নগুলোকে নিমিষেই মাটিচাপা দিয়ে দিলো।

এসব কোনো কথাই আব্দুল্লাহর নয়। আব্দুল্লাহর শ্বশুরালয়ের লোকদের। কারণ হৃদয় পড়াশোনা করতো হাতিমারা গ্রামে নানার বাড়ি ‘হাজুর বাপের’ বাড়ি থেকে।

হৃদয়ের মামা হোসেন বলেন, “ছেলেকে পড়াশোনা করানোর মতো সামর্থ্য ছিল না আব্দুল্লাহর। তাই আমরাই ভাইগনারে এইখানে নিয়া আসছিলাম।”

তিনি জানান, হৃদয় হোসেন এ বছরই স্কুলের প্লে গ্রুপে ভর্তি হয়েছিল। তিন মাস ধরে স্কুলে যাচ্ছে। এই তিন মাস ধরেই নানুর বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করত। মামা-নানা তার ব্যয়ভার বহন করত। নিজগ্রাম কাওলিপাড়া থেকে বাবা আব্দুল্লাহ আর মা প্রায় প্রতিদিনই এসে তাকে দেখে যেতেন।

ভোরে যে আব্দুল্লাহকে দেখা গিয়েছিল, ছেলেকে হারিয়ে পাগলের মতো, এখন রাস্তায় ঘুরছেন অসহায় পিতা। পায়ে জুতা নেই। চেহারায় শুধুই হাহাকার। শুধুই ছেলেকে খুঁজে ফিরছে। যারা সান্ত্বনা দেবার তারাও সন্তান হারানো ব্যথায় নিথর।

শনিবার ঘাতক ট্রাক তার জীবন নির্মমভাবে কেড়ে নেওয়ার পর মা-বাবা এসে তার আদরের হৃদয় হোসেনকে নিয়ে গেছে সেই কাওলিপাড়ায়। দাফন করেছে পারিবারিক কবরস্থানে, গাছের ছায়ার নিচে।

হৃদয়ের মামা বলেন, “গাছের ছায়াতে থাকবো আমগো হৃদয় হোসেন। সবার মাঝে বাইচা থাকবো।”

দুই বছরের ছোট বোন নেহাকে এখনো স্পর্শ করতে পারে না ভাই হারানোর বিষাদ। মামা বলেন, এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিল বড় ভাইয়ের কবরের দিকে।

এ নিষ্ঠুর বাস্তবতা বুকে নিয়ে রিকশাভ্যানের প্যাডেলে আবার পা রাখবেন পিতা। আর রাস্তা দিয়ে স্কুলে যাওয়া শিশুদের দেখে বোবা কান্নায় চোখ মুছবেন ভ্যান চালক আব্দুল্লাহ।

গত শনিবার কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে ট্রাক চাপায় ৭টি কোমল প্রাণ ঝরে যায়। উপজেলার নাথেরপেটুয়ার রেললাইন সংলগ্ন এলাকায় কুমিল্লা-নোয়াখালী সড়কের ওপর দুপুরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

x

Check Also

ভারতে আফ্রিকান জনগোষ্ঠীর ওপর হামলা

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ রাজধানী দিল্লীর কাছে আফ্রিকান জনগোষ্ঠীর ...

মালয়েশিয়ায় সেকেন্ড হোম গড়েছে ৩৩৯৯ বাংলাদেশি

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক :  মালয়েশিয়ায় সেকেন্ড হোম গড়েছে প্রায় সাড়ে তিন হাজার বাংলাদেশি। ...