ব্রেকিং নিউজ
Home | ব্রেকিং নিউজ | হাতীবান্ধায় জুতা পায়ে শহীদ মিনারে শিক্ষক !

হাতীবান্ধায় জুতা পায়ে শহীদ মিনারে শিক্ষক !

লালমনিরহাট প্রতিনিধি : লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসার বিজ্ঞান শাখার শিক্ষকদের নিয়ে ‘উদ্ভাবনে মজার বিজ্ঞান’র যাত্রা শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার ওই উপজেলার নওদাবাস কালীমোহন তফশিলী উচ্চ বিদ্যালয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে এর যাত্রা শুরু হয়। ওই অনুষ্ঠানে ফটোসেশনে দেখা যায়, অনেকেই শহীদ মিনারের সিঁড়িতে জুতা পায়ে উঠেছেন। এমন ছবি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখা দিয়েছে বিতর্ক।

ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাজ্জাদ হোসেন সাগরের দাবী, জুতা পায়ে শহীদ মিনারের সিঁড়িতে উঠা দোষের কিছু নয়। তবে বেদীতে উঠা ঠিক নয়। আর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের আহবায়ক রোকনুরজ্জামান সোহেল বলছেন, তারা জুতা পায়ে শহীদ মিনারের সিঁড়িতে উঠে কাজটা ঠিক করে নাই। তবে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম বলছেন, জুতা পায়ে শহীদ মিনারের সিঁড়ি বা বেদীতে না উঠা এটা আমাদের শিষ্টাচার। এটা মানা উচিত।

জানা গেছে, হাতীবান্ধা উপজেলার মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার বিজ্ঞান শাখার শিক্ষকদের নিয়ে নওদাবাস কালীমোহন তফশিলী উচ্চ বিদ্যালয়ে ‘উদ্ভাবনে মজার বিজ্ঞান’ নামে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে নওদাবাস ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আশি^নী কুমার বসুনিয়া, সাবেক উপজেলা ভাইচ চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবদলের সম্পাদক সামসুজ্জামান সেলিম, সাবেক অধ্যক্ষ নুরুজ্জামান, নওদাবাস কালীমোহন তফশিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক আহবায়ক সাজ্জাদ হোসেন সাগরসহ অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ও প্রধান শিক্ষক, বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের কোনো এক সময় তারা ওই বিদ্যালয়ের শহীদ মিনারে গিয়ে ফটোসেশন করেন। যা পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপলোড করা হয়েছে। সেই ছবিতে দেখা যায় বেশ কয়েকজন শিক্ষক জুতা পায়ে শহীদ মিনারের সিঁড়িতে উঠে ফটোসেশনে অংশ নিয়েছেন। এমন ছবি দেখে শুরু হয় নানা আলোচনা-সমালোচনা।

এ প্রসঙ্গে নওদাবাস কালীমোহন তফশিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাজ্জাদ হোসেন সাগর বলেন, জুতা পায়ে শহীদ মিনারের সিঁড়িতে উঠা দোষের কিছু নয়। তবে বেদীতে উঠা ঠিক নয়। সিড়ি আর বেদী এক নয়। আমরা তো মসজিদের সিঁড়িতে জুতা রেখে মসজিদে প্রবেশ করি। তার এ যুক্তি মানতে নারাজ হাতীবান্ধা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের আহবায়ক রোকনুজ্জামান সোহেল।

তিনি বলেন, তারা শহীদ মিনারের সিঁড়িতে উঠে ছবি তোলা মোটেও ঠিক করে নাই। তাদের মনে রাখার উচিত ছিলো, শহীদ মিনার আমাদের কতটা শ্রদ্ধার স্থান। একজন মুক্তিযুদ্ধের সংগঠকের উপস্থিতিতে এমন পরিস্থিতি দুঃখজনক।

হাতীবান্ধা উপজেলা মুক্তিযুদ্ধকালীন সংগ্রাম কমিটি’র সম্পাদক ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম বলেন, জুতা পায়ে শহীদ মিনারের সিঁড়িতে উঠা ঠিক কি না তা নিয়ে আমি কথা বলবো না। আমি বলবো, আমরা শহীদ মিনারের সিঁড়ি বা বেদী কোনোটাইতেই জুতা পায়ে উঠি না। এটা আমাদের শিষ্টাচার। আমরা যুগে যুগে তা মেনে চলে আসছি। যা আমাদের মানা উচিত বলে আমি মনে করি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

বাংলাদেশের উন্নয়নে ভরতের যথেষ্ট ভূমিকা রয়েছে : তথ্যমন্ত্রী

নওগাঁ প্রতিনিধি : স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে ২৬ মার্চ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ...

তালায় জাতীয় পার্টি ও আ.লীগের কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ, আহত-৮

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : সাতক্ষীরার তালায় ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণাকে কেন্দ্র করে জাতীয় ...