Home | ফটো সংবাদ | হাজি সেলিম নিজের বিকল্প হিসেবে রাজনীতির পাঠ শেখাচ্ছেন বড় ছেলেকে

হাজি সেলিম নিজের বিকল্প হিসেবে রাজনীতির পাঠ শেখাচ্ছেন বড় ছেলেকে

স্টাফ রিপোর্টার : পুরান ঢাকার লালবাগ-কোতোয়ালি এলাকা নিয়ে গঠিত ঢাকা-৭ আসনের সাংসদ হাজি সেলিম শারীরিক অসুস্থতার কারণে আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কি না সংশয় আছে। তাই নিজের বিকল্প হিসেবে গড়ে তুলতে রাজনীতির পাঠ শেখাচ্ছেন বড় ছেলে সোলায়মান সেলিমকে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাইবেন সোলাইমান।

রাজধানীর সংসদীয় আসনগুলোর মধ্যে অন্যতম আলোচিত একটি ঢাকা-৭। তার মধ্যে আরো বেশি আলোচিত এই আসনের সাংসদ হাজি মো. সেলিম। দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনেও বিপুল পরিচিত মুখ হাজি সেলিম। সর্বশেষ দশম সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হন আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে হারিয়ে।

বাবার এই জনপ্রিয় অবস্থান নিজের অনুকূলে নিতে বেশ আগে থেকে প্রস্তুতি নিচ্ছেন সোলাইমান সেলিম। বাবার সঙ্গে নিয়মিত অংশ নিচ্ছেন বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সভা-সমাবেশে। হাজি সেলিমের কর্মী-সমর্থকদের কাছেও গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠছেন এই তরুণ।

এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী আরও আছেন সাবেক সংসদ সদস্য মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক আক্তার হোসেন।

সোলাইমান সেলিম সরাসরি সংসদ নির্বাচন দিয়ে নির্বাচনী মাঠে নামলেও বাবা হাজি সেলিমের জনপ্রতিনিধিত্ব শুরু ওয়ার্ড কাউন্সিলর হিসেবে। এরপর ১৯৯৬ সালে অনুষ্ঠিত সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ব্যারিস্টার আবুল হাসনাতকে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। আইনি জটিলতার কারণে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি। ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন না পেয়ে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে আওয়ামী লীগের মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিনকে পরাজিত করেন। সে সময় তিনি ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এরপর ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে মনোনীত হন।

আওয়ামী লীগের নানা আন্দোলন-সংগ্রামে পরিচিত মুখ হাজি সেলিম পুরান ঢাকায় স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, মসজিদসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করেন। এলাকার মানুষের বিপদ-আপদে পাশে দাঁড়ান সব সময়ই। শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকলেও সামাজিক ও রাজনৈতিক সভা-সমাবেশে নিয়মিতই উপস্থিত থাকেন তিনি। পাশে থাকেন বড় ছেলে সোলায়মান সেলিম। গত দুই বছর ধরে সোলায়মান সেলিম বিভিন্ন সমাজিক ও রাজনৈতিক সভা-সমাবেশে যোগ দিচ্ছেন বাবার সঙ্গে। এর মধ্য দিয়ে ক্রমে নিজের বিকল্প হিসেবে গড়ে তুলছেন বড় ছেলেকে। এলাকায় বাবার শক্তিশালী অবস্থান সোলাইমান সেলিমের রাজনৈতিক পথচলা অনেকটাই সহজ করে দেবে বলে মনে করেন হাজি সেলিমের কর্মী-সমর্থকরা।

দল ও এলাকায় হাজি সেলিমের অবদানের কথা উল্লেখ করে তার একজন সমর্থক বলেন, ‘হাজি সেলিম আওয়ামী লীগের রাজনীতির একজন পরিচিত মুখ। বিএনপি-জামায়াত সরকারবিরোধী আন্দোলনে তিনি রাজপথে সক্রিয় ছিলেন। এ কারণে তার বিরুদ্ধে অনেক মামলাও হয়েছিল। অনেক পুলিশি নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তিনি। এ ছাড়া তিনি পুরান ঢাকায় একজন দানবীর হিসেবে পরিচিত। আগামী নির্বাচনে তিনি কিংবা তার পরিবারের কেউ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাবেন এমন আশা আমরা করি।’ বাবার বিকল্প হিসেবে সোলাইমান সেলিমের কথা উল্লেখ করেন তিনি।

হাজি সেলিমের বড় ছেলে ও মদিনা গ্রুপের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক সোলায়মান সেলিম   বলেন, ‘আমার বাবা সব সময়ই মানুষের কথা চিন্তা করেন। পুরান ঢাকার মানুষের একটা আকর্ষণ আছেই। জনগণ যেটাই চান সেটাই হবে। সর্বোপরি আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনাই নির্ধারণ করবেন কে এখানে দল থেকে প্রার্থী হবেন।’

নির্বাচন নিয়ে নিজের প্রস্তুতি রয়েছে কি না জানতে চাইলে সোলায়মান সেলিম বলেন, ‘আমি একজন সাধারণ ছেলে। স্বাভাবিক জীবন-যাপন করতেই পছন্দ করি। বাবার রাজনৈতিক বা যেকোনো প্রয়োজনে পাশে থেকেছি। বাবা যেমন মানুষের বিপদ-আপদে এগিয়ে গেছেন, আমিও সেই ধারা ধরে রাখছি। বাবার সঙ্গে অংশ নিচ্ছি সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে। ওনাকে জনগণ যা বলবেন সেটাই হবে।’

ঢাকা-৭ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী অন্য যারা আছেন তারাও সবাই শক্তিশালী প্রার্থী। বিশেষ করে এ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন তাদের অন্যতম। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি এ আসন থেকে আওয়ামী লীগের টিকেটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও দলের টিকেট পান, কিন্তু স্বতন্ত্র প্রার্থী হাজি সেলিমের কাছে পরাজিত হন। তিনি বর্তমানে বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সভাপতি।

মোস্তাফা জালাল মহিউদ্দিন আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে একজন পরীক্ষিত নেতা। ১৯৮১ সালে ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন তিনি। ১৯৮৭ সালে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের সম্মেলনের মাধ্যমে দলের উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হন। এরপর ১৯৯২ সালে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে দলের জনসংখ্যা ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক নির্বাচিত হন। ২০০৯ সাল পর্যন্ত এ দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

আগামী নির্বাচনে নিজের আকাঙ্ক্ষা ও প্রস্তুতি সম্পর্কে মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন   বলেন, ‘আমি তো এ আসনের সংসদ সদস্য ছিলাম। এলাকার জনগণের জন্য আমি কাজ করেছি। আগামী নির্বাচনেও দল থেকে আমি মনোনয়ন প্রত্যাশা করি। তবে দলীয় সভাপতি যেটা ভালো মনে করেন সেটাই করবেন।’

এই আসনে নিজের মূল্যায়নের আশা করছেন অপর মনোনয়নপ্রত্যাশী ঢাকা মহানগর দক্ষিণের প্রচার সম্পাদক আক্তার হোসেন। তিনি  বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা-৭ আসনে অবহেলিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। আমি দলের নেতাকর্মী ও এলাকাবাসীর জন্য কাজ করতে চাই। আশা করি নেত্রী আমাকে মূল্যায়ন করবেন।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

ষোড়শ সংশোধনী বাতিল: রায়ের সত্যায়িত কপি চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন

স্টাফ রিপোর্টার :  সংবিধানের সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে আপিল বিভাগের ...

তসলিমার ‘পর্ন’ প্রকাশ করায় ওলামা লীগ নেতার লিগ্যাল নোটিশ

স্টাফ রিপোর্টার :  নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিনের ‘পর্ন’ শিরোনামে একটি নিবন্ধ প্রকাশ ...