Home | আন্তর্জাতিক | হত্যার দায়ে খালেদারও বিচার করা হবে : প্রধানমন্ত্রী

হত্যার দায়ে খালেদারও বিচার করা হবে : প্রধানমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার, ১৯ মার্চ, বিডিটুডে ২৪ডটকম : যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষ নিয়ে বেগম খালেদা জিয়া দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছেন মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিরোধীদলীয় নেতা লাশের রক্তের উপর দিয়ে ক্ষমতায় যেতে চান। কিন্তু সে আশা তাঁর কোনো দিন সফল হবেনা।

বিরোধীদলের নেতার সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যতই যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে চাননা কেনো তাদের বিচার এ বাংলার মাটিতে করবোই। খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে শেখ হাসিনা বলেন, খুনের রাজনীতি বন্ধ করেন, নইলে এ মাটিতে আপনারও বিচার হবে।

মঙ্গলবার বিকেল চারটায় পিরোজপুর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জনসভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

পিরোজপুরের বাসিন্দা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে কুখ্যাত রাজাকার হিসেবে উল্লেখ করে ক্ষমতাসীন দলের সভানেত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মানবতাবিরোধী অপরাধী কুলাঙ্গার সাঈদীর নেতৃত্বে পিরোজপুরে মুক্তিকামী মানুষদের খুন, মা- বোনদের ধর্ষণ, সংখ্যালঘুদের বাড়িঘরে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে।

জাতীয় সংসদের সদস্য থাকাকালীন সাঈদীর নির্যাতনের তথ্য তুলে ধরে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, গত বিএনপি-জামায়াত জোট আমলে যার নির্যাতনের শিকার হয়ে অনেক সংখ্যালঘু এবং সাংবাদিক এলাকা ছাড়া হতে বাধ্য হয়েছেন সেই যুদ্ধাপরাধী সাঈদীর ফাঁসি রায় ঘোষণা হয়েছে।

বিরোধীদলীয় নেতার উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনি দেখে যান সাঈদীর ফাঁসীর রায়ে পিরোজুপরবাসী কত খুশী। তারা অবিলম্বে ফাঁসির রায় কার্যকর দেখতে চেয়েছেন।

গত সাড়ে চার বছরের মহাজোট সরকারের উন্নয়নের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ কথায় নয় কাজে বিশ্বাসী। এ দেশের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে আওয়ামী লীগের বিকল্প নেই। জনগণকে উদ্দেশ্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা পিরোজপুরে ব্যাপক উন্নয়ন করেছি।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী জনসভা স্থলে নির্মিত ফলকে একযোগে ১৫টি সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সেতু ও ভবন উদ্বোধন করেন। এগুলো হলো, পিরোজপুরের জিয়ানগরে বলেশ্বর নদীর উপর ৩৪ কোটি ৪৮ লাখ টাকা ব্যয়ে শহীদ শেখ ফজলুল হক মনি সেতু, নাজিরপুরের শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব কলেজের একাডেমিক ভবন ও ছাত্রী নিবাস, ইন্দুরকানী থানা ভবন, স্বরূপকাঠী ফায়ার সার্ভিস স্টেশন ভবন, জেলা রেজিস্ট্রি অফিস ভবন, স্বরূপকাঠী সাব-রেজিস্ট্রি অফিস ভবন, জেলা সরকারি গণগ্রন্থাগার ও জেলার ৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন সেন্টার।

এছাড়া শেখ হাসিনা পিরোজপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন, জেলা মুক্তিযোদ্ধা ভবন, কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিশুদের হোস্টেল ভবন, সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজের একাডেমিক ভবন কাম পরীক্ষা হল ও ক্যাটল গবেষণা কেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেন।

এসময় প্রধানমন্ত্রী খুলনা -পিরোজপুর -বরিশাল মহাসড়কের জেলার কচা নদীর ওপর বেকুটিয়া ব্রিজ নির্মাণের ঘোষণা দেন এবং আবারও ক্ষমতায় এলে পিরোজপুরবাসীর সব প্রত্যাশা পূরণ করার আশ্বাস দেন।

দুপুর আড়াইটায় জনসভা শুরু হলেও সকাল ১০টার পর থেকেই ব্যানার ও মিছিল নিয়ে আসতে থাকে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।

দুপুর একটার মধ্যে জনসভা স্থল জনসমুদ্রে পরিণত হয়। নানা বাদ্যযন্ত্রের তালে মুখরিত হয়ে ওঠে পিরোজপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠ। দক্ষিণাঞ্চলের সবকটি জেলা থেকে বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী বাসট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহনে সমাবেশ স্থলে আসেন। মিছিল নিয়ে আসা নেতা-কর্মীদের হাতে বিভিন্ন স্লোগান লেখা রঙবেঙয়ের প্লাকার্ড দেখা যায়।

পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত এ জনসভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক আকরাম হোসেন।

সভায় আরও বক্তব্য দেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, প্রেসিডিয়াম সদস্য আমীর হোসেন আমু, সাবেক হুইপ আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ, বাহাউদ্দিন নাসিম, পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য একেএম এ আউয়াল, পিরোজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ শাহ আলম, পিরোজপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ডা. আনোয়ার হোসেন, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য সাধনা হালদার, সাফিয়া খাতুন, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা ইসহাক আলী পান্না, কেন্দ্রী ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক বদিউজ্জামান সোহাগ প্রমুখ।

সমাবেশ উপলক্ষে এসএসএফ, র‌্যাব, পুলিশ, আনসার ভিডিপির পাশাপাশি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা জেলাজুড়ে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে রাখে। এছাড়া র‌্যাব জনসভা স্থলে সিসি ক্যামেরা বসিয়ে পুরো মাঠে নিরাপত্তা বলয় সৃষ্টি করে। প্রধানমন্ত্রীকে এক নজর দেখার জন্য বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা সেখানে আসে।

এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পটুয়াখালীর দশমিনার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নে দক্ষিণ উপকুলীয় অঞ্চলে (বরিশাল-পটুয়াখালী) বীজবর্ধন খামার প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও মতবিনিময় সভা করেন।

এছাড়া জেলার দুমকিতে পায়রা নদীর উপর লেবুখালী ব্রিজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এছাড়া জেলা সার্কিট হাউজে নেতাকর্মীদের সাথে মতবিনিময় সভায় যোগ দেন।

পটুয়াখালী থেকে হেলিকপ্টারে করে দুপুর আড়াইটায় পিরোজপুর জেলা স্টেডিয়ামে নেমে প্রধানমন্ত্রী প্রথমে সার্কিট হাউজে যান। সেখান থেকে বিকেল তিনটায় সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে লাখো মানুষের জনসভায় অংশ নেন।

উল্লেখ্য, পিরোজপুরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এটি দ্বিতীয় সফর। গত ২০০০ সালে প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে তিনি পিরোজপুরে এসেছিলেন।

x

Check Also

অবশেষে পর্তুগালের লিসবনে মোহাম্মদ হান্নানের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন

আনোয়ার এইচ খান ফাহিম ইউরোপীয় ব্যুরো প্রধান, পর্তুগালঃ বাংলাদেশের কেরানীগঞ্জের মোহাম্মদ হান্নানের ...

পর্তুগাল মাল্টি কালচারাল একাডেমি’র হলরুমে বর্নিল আয়োজনে ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত

আনোয়ার এইচ খান ফাহিম, ইউরোপীয় ব্যুরো প্রধান,পর্তুগালঃ পর্তুগালের লিসবনে বাংলাদেশী অধ্যুষিত এলাকা রুয়া ...