ব্রেকিং নিউজ
Home | আন্তর্জাতিক | হতভাগ্য জোশুয়া রক্ষা করতে পারেননি সন্তানের প্রাণ, স্ত্রীর সম্ভ্রম

হতভাগ্য জোশুয়া রক্ষা করতে পারেননি সন্তানের প্রাণ, স্ত্রীর সম্ভ্রম

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক :  চোখের সামনে জঙ্গিরা হত্যা করেছে তার শিশুকন্যাকে, ধর্ষণ করেছে স্ত্রীকে। নিরুপায় স্বামী রক্ষা করতে পারেননি সন্তানের প্রাণ, স্ত্রীর সম্ভ্রম। পাঁচ বছর ধরে জঙ্গি আস্তানায় চলা অত্যাচারের কাহিনি শোনাচ্ছিলেন হতভাগ্য জোশুয়া বয়েল।

২০১২ সালে আফগানিস্তানে তালেবানের শাখা সংগঠন হাক্কানি নেটওয়ার্ক অপহরণ করেছিল মার্কিন-কানাডীয় দম্পতি জোশুয়া এবং কেইটল্যান কোলম্যানকে। সেখানেই এমন নরক-যন্ত্রণা ভোগ করতে হয়েছে তাদের। বন্দি অবস্থাতেই জন্ম নেয় ফুটফুটে চার সন্তান। তাদের মধ্যে একটিকে মেরে ফেলেছে জঙ্গিরা।

গত বুধবার আফগানিস্তান সীমান্তের কাছ থেকে ওই দম্পতি এবং তাদের তিন সন্তানকে উদ্ধার করেছে পাকিস্তানি সেনারা। এরপর সপরিবার কানাডায় ফিরেছেন জোশুয়া। বিমানবন্দরে নামার পরে তাদের স্বাগত জানিয়েছে কানাডা সরকার। সরকারের পক্ষ থেকে দেয়া হয়েছে সব রকম সাহায্যর আশ্বাস।

বিমানে চেপেও ভয় যেন কাটতে চাইছিল না তাদের। বিমানে জড়োসড়ো হয়ে বসেছিলেন কেইটল্যান, পরনে বাদামি হিজাব। পাশের সিটে দুই সন্তান। একদম শেষে বসেছিলেন কালো সোয়েটার পরিহিত স্বামী জোশুয়া। তার কোলে সবচেয়ে ছোট সন্তান। মুখে কোনও কথা নেই। চোখেমুখে আতঙ্কের ছাপ স্পষ্ট।

বিমানবন্দরে নামার কিছু পরেই সব কাহিনি সাংবাদিকদের শোনালেন জোশুয়া নিজেই। এক মুখ দাড়ি, চোখেমুখে ক্লান্তি নিয়ে জানালেন, ২০১২ সালে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নিয়ে ঘুরতে গিয়েছিলেন আফগানিস্তানে। সেখানে তালেবান অধ্যুষিত এক প্রত্যন্ত গ্রামে পৌঁছেছিলেন তারা। যে গ্রামে পৌঁছতে পারে না কোনও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। এমনকী সরকারি সাহায্যও সেখানে পৌঁছায় না। সেই গ্রামের মানুষকে সাহায্য করতেই গিয়েছিলেন ওই দম্পতি। সেখান থেকেই তাদের অপহরণ করে বন্দি করেছিল জঙ্গিরা।

জোশুয়া বলেন, ‘বন্দি অবস্থাতেই জন্ম হয়েছিল আমাদের সন্তানদের। এরপর ২০১৪ সালে ওই জঙ্গিরা আমাদের সামনেই মেরে ফেলে এক কন্যাসন্তানকে। ওই বছরেই আমার স্ত্রীকে ধর্ষণ করা হয়।’

মুক্তি পাওয়ার কয়েক মুহূর্ত আগেও ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়েছে জোশুয়াদের। পরিবারের দাবি, অপহরণকারীরা গাড়িতে করে তাদের নিয়ে যাওয়ার সময়েই পথ আটকেছিল পাকিস্তানি সেনারা। তাদের গুলিতে মৃত্যু হয় বেশ কিছু জঙ্গির। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা নিশ্চিত ভাবে এ বিষয়ে কিছু জানাননি।

মার্কিন সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বয়েল পরিবারকে দেশে ফেরানোর জন্য বুধবারই পাকিস্তান উড়ে গিয়েছিল একটি মার্কিন দল। সেখানে তাদের শারীরিক পরীক্ষা করিয়ে বিমানে তোলার তোড়জোড় চলছিল। সেই সময়ে জোশুয়া ওই বিমানে ফিরতে অস্বীকার করেন। কারণ ওই বিমানে ফেরার কথা ছিল আফগানিস্তানের বাগরাম বায়ুসেনা ঘাঁটি হয়ে। কিন্তু তারা এতটাই আতঙ্কে ছিল যে, সরাসরি কোনও বিমানে ফিরতে চেয়েছিল।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

পদ না ছাড়ার ঘোষণা জিম্বাবুয়ের প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবের

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : দলীয় প্রধানের পদ থেকে বহিষ্কারের পর প্রেসিডেন্টের পদ ছেড়ে ...

প্যারাডাইস পেপারসে বাংলাদেশিদের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি দুদক

স্টাফ রিপোর্টার : আইনি জটিলতা ও তথ্য না পাওয়ায় পানামা পেপারস কেলেঙ্কারিতে ...