ব্রেকিং নিউজ
Home | ফটো সংবাদ | হচ্ছে না অন্তর্বর্তীকালীন সরকার : সংঘাত সংঘর্ষ আসন্ন ! আতংকে দেশবাসী

হচ্ছে না অন্তর্বর্তীকালীন সরকার : সংঘাত সংঘর্ষ আসন্ন ! আতংকে দেশবাসী

awami-league-স্টাফ রিপোর্টার : নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি সমাঝোতায় না আসায় আর গঠিত হচ্ছে না অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। আগামী জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান মন্ত্রী সভাই বহাল থাকছে। তবে বিরোধী দল আলোচনায় আসলে পরবর্তীতে পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে গত রোবাবার রাতে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। 

Bnpযার ফলে দলীয় সরকারের অধীনেই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

অপরদিকে, প্রধান বিরোধী দল বিএনপি ইতোমধ্যে দলীয় সরকারের অধীনে দেশের কোন নির্বাচন হতে দিবে না বা প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছে। বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া সিলেটে ১৮ দলের সমাবেশে এবং সর্বশেষ ব্যবসায়ীদের সাথে মতবিনিময় সভায় ভোট কেন্দ্রভিত্তিক সংগ্রাম কমিটি গঠনের কথা বলেছেন।

অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বর্তমান সংবিধান অনুযায়ীই অর্থাৎ বর্তমান সরকারের অধীনেই আগামী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ থেকে এক চুলও নড়া হবে না। পাশাপাশি বিরোধী দলের প্রতিহতের ঘোষণায় আওয়ামী লীগ মাঠপর্যায়ে প্রতিরোধ কমিটি গঠনের ঘোষণা দিয়েছে এবং ইতোমধ্যে ঢাকা মহানগরীতে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে এ কমিটি গঠিত হয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে, সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর ফলে বর্তমান সরকারের শেষ ৯০ দিন তথা ২৫ অক্টোবর থেকে ২৪ জানুয়ারির মধ্যে অন্তবর্তী সরকারের অধীনে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সংশোধিত সংবিধান অনুযায়ী অন্তবর্তী সরকারের প্রধান থাকবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অন্তবর্তী সরকারের ৯০ দিনে সংসদ বহাল থাকলেও কোনো নীতি-নির্ধারণী সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না।

ইতোমধ্যে বিরোধী দল ২৫ অক্টোবর থেকে সরকার পতনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দল সে দিন ঢাকায় বড় ধরনের সমাবেশ করার অনুমতি চেয়ে চিঠি দিয়েছে প্রশাসনকে।

অন্যদিকে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগও এ দিনটিতে রাজধানীতে সমাবেশের ডাক দিয়েছে। এমতাবস্থায় ২৫ অক্টোবর নিয়ে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক, উৎকণ্ঠা ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। রাজনীতিবিদ, সুশীল সমাজ, ব্যবসায়ী সব শ্রেণী-পেশার মানুষের মনে উৎকণ্ঠা ও প্রশ্ন-আসলে কী ঘটতে যাচ্ছে ২৫ অক্টোবর।

এদিকে, গণভবনে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকের সিদ্ধান্ত মোতাবেক, জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত সংসদ অধিবেশন চালু রাখার প্রস্তাব করা হয়। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী পরিচালনা কমিটি গঠন এবং তফসিল ঘোষণার দুই-একদিনের মধ্যেই দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বৈঠকের একাধিক সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ঈদের পরই শুরু হবে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মনোনয়ন প্রক্রিয়া। পার্লামেন্টারি বোর্ডের বৈঠক ডাকা হবে ঈদের পর। মনোনয়ন প্রক্রিয়া সর্ম্পকে শেখ হাসিনা বলেছেন, দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের প্রার্থী মূল্যায়ন পরীক্ষার ১০০ মার্কস এবং মাঠ পর্যায়ের আরেকটি জরিপ মিলিয়ে প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করা হবে। প্রার্থী দেয়ার ক্ষেত্রে বিরোধী দলের প্রার্থীকে বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

এদিকে, ২৫ অক্টোবরকে ঘিরে দেশবাসীর মধ্যে এক অজানা আতঙ্ক-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। কী ঘটবে ২৫ অক্টোবরে। নানাজনের মধ্যে নানা শঙ্কা, নানা প্রশ্ন উঁকি মারছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, ঠিক ২৫ অক্টোবর কোনো কিছু না ঘটলেও চলমান রাজনৈতিক সংকটের সমাধান না হলে সংঘাত অনিবার্য। এমনকি দেশে অনাকাক্সিক্ষত শক্তিরও আবির্ভাব ঘটতে পারে এমন আশঙ্কা বিশিষ্টজনদের।

তারা বলছেন, চলমান সংকট আগামী নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে। এ সংকট সমাধানে দেশি-বিদেশি উদ্যোগ ভেস্তে গেছে। তবে, এখনো সময় ফুরিয়ে যায়নি। বড় দুই রাজনৈতিক জোট বিশেষ করে দুই নেত্রী চাইলে এখনই সংকট উত্তরণ সম্ভব। তারা আশা প্রকাশ করেছেন শেষ পর্যন্ত দুই নেত্রী এ ব্যাপারে উদ্যোগী হবেন। কারণ, তারা তো রাজনীতি করেন গণতন্ত্রের জন্য। দেশের মানুষের জন্য। তাই গণতন্ত্র ব্যাহত হোক, দেশের মানুষ অস্বস্তিতে ভুগবে অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকবে নিশ্চয়ই তারা তা চাইবেন না।

এ প্রসঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আকবর আলি খান বলেন, চলমান রাজনৈতিক সংকট নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। সবাই অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। আমরা চাই সমঝোতার মাধ্যমেই সব কিছুর সমাধান হোক।

বিশিষ্ট সমাজ বিজ্ঞানী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. পিয়াস করিম বলেন, দেশ এক অনিবার্য সংঘাতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া এবং আগামী নির্বাচনের পদ্ধতি নিয়ে চলমান সংকটের সমাধান না হলে অনাকাঙ্ক্ষিত শক্তি ক্ষমতায় আসার আশঙ্কা থাকতেই পারে। রাজনৈতিক দলগুলো সংকট সমাধানে এগিয়ে না আসলে কেউ না কেউ তো এগিয়ে আসতে পারে। তবে আমরা চাই না এ ধরনের ঘটনা ঘটুক।

‘ডেটলাইন ২৫ অক্টোবর’ প্রসঙ্গে পিয়াস করিম বলেন, চলমান রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতায় দেশে সংঘাত অনিবার্য। সেটা ঠিক ২৫ অক্টোবর ঘটবে কি না তা বলা যায় না। তবে এ নিয়ে সাধারণ মানুষ উৎকণ্ঠিত।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো জনগণের স্বার্থ ও প্রত্যাশার বিপরীতে অবস্থান নিয়েছে। আমি বলব সকল মতভেদ ভুলে সংকট সমাধানে প্রধান দুই রাজনৈতিক জোট বিশেষ করে দুই নেত্রী আলোচনায় বসবেন। কারণ তারা তো গণতন্ত্রের জন্যই রাজনীতি করেন। যদি তাই হয় তাহলে অবশ্যই তারা চাইবেন না গণতন্ত্র ব্যাহত হোক।

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, সমস্যা সমাধানে বড় দুটি দলের কোনো উদ্যোগ নেই। আওয়ামী লীগ মনে করছে ক্ষমতায় থেকে নির্বাচন দিলে জিতে যাবে, নইলে বিরোধী দলের জয় হবে। অন্যদিকে বিরোধী দলও নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন চাচ্ছে। এ অবস্থায় মীমাংসার কোনো লক্ষণ দেখছি না।

মীমাংসায় আসতে হলে দেশি-বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপ লাগবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, শেষ পর্যন্ত জনগণের ইচ্ছারই বিজয় হবে। তা এখন হোক আর ৬ মাস পরে হোক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

মদনে হানাদারমুক্ত দিবস পালিত

সুদর্শন আচার্য্য, মদন (নেত্রকোণা)ঃ নেত্রকোণা মদনে উপজেলা প্রশাসন ও মুক্তিযুদ্ধ সংসদ কমান্ডের ...

মদনে জাতীয় সমবায় দিবস পালিত

সুদর্শন আচার্য্য, মদন (নেত্রকোণা)ঃ বঙ্গবন্ধুর দর্শন, সমবায়ে উন্নয়ন এই প্রতিপাদ্যটি সামনে রেখে ...