ব্রেকিং নিউজ
Home | বিবিধ | কৃষি | সয়াবিন বাম্পার ফলনের প্রত্যাশা কৃষকের চোখে-মুখে

সয়াবিন বাম্পার ফলনের প্রত্যাশা কৃষকের চোখে-মুখে

laxmipur কিশোর কুমার দত্ত, ল²ীপুর প্রতিনিধি ঃ ‘সোনার ফসল’ সয়াবিন চাষে এবার সাফল্য এসেছে ঘরে ঘরে। সয়াবিনের সবুজ চারাগাছ হাতছানি দিয়ে ডাক দিয়েছিল গেলবার। সেই ডাকে সাড়া দিয়ে এবার বাম্পার ফলনের প্রত্যাশা কৃষকের চোখে-মুখে। ল²ীপুর জেলা দেশের  ‘সয়াবিনের রাজধানী’ বলে খ্যাত। দেশে উৎপাদিত সয়াবিনের ৮০ ভাগ চাষ হয় এ জেলায়। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ব্যাপক আকারে চাষ হয়েছে এ ফসল। রায়পুর উপজেলারসহ জেলার সদর, রামগতি, কমলনগরের চরাঞ্চলে যতদূর চোখ যায়-মাঠের পর মাঠ এখন সয়াবিনের চারার সবুজ হাতছানি। এ ফসল নিয়ে কৃষকদের চোখে-মুখে এখন রঙিন স্বপ্ন।  সংশিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রতিবছর শুধু রায়পুর উপজেলার পশ্চিমাঞ্চলের ৪টি ইউনিয়নে প্রায় ২৫০ কোটি টাকা সয়াবিনের ওপর লেনদেন হয়। এ জন্য এটিকে কৃষকরা ‘সোনার ফসল’ বলে থাকেন। সয়াবিন বদলে দিয়েছে উপকূলীয় হায়দরগঞ্জ বাজার ও আশপাশ এলাকার মানুষের জীবন যাত্রার মান। এ ফসল বিক্রি করে স্বাবলম্বী হয়েছেন হাজার হাজার কৃষক। ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রতিষ্ঠিত সয়াবিন তেল ও পোল্ট্রি খাদ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এখানে সয়াবিন কেনার জন্য ছুটে আসেন।কৃষকদের দাবি- এ জেলায় সয়াবিনভিত্তিক কারখানা স্থাপন ও দাদন ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণ করা হলে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পেয়ে সয়াবিন চাষে ব্যাপকভাবে আগ্রহী হয়ে উঠবেন। পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে হাজার-হাজার বেকার যুবকদের। রায়পুর শহর থেকে পশ্চিমে ২০-২৫ কিলোমিটার দূরে চরজালিয়া গিয়ে দেখা গেছে, মাঠের পর মাঠ সয়াবিনের চারা। এছাড়া চরঘাসিয়া, চর জালিয়া, চরইন্দুরিয়া ও কানিবগার চরে একই চিত্র। কৃষকরা ক্ষেতে রোদে পুড়ে ফসলের পরিচর্যা করছেন। অপেক্ষার প্রহর গুণছেন- সোনার ফসল ঘরে তোলার।উপজেলার উত্তর চর আবাবিল গ্রামর কৃষক আব্দুল মান্নান বলেন, ‘এবারের মত আর জীবনেও সয়াবিনের এরম ফসল দেহি নাই। বৈশাইখ্যা হিলটিল (শীলা) না হড়লে অনেক সয়াবিন ঘরে উডাইতাম হারিয়াম।’এ ব্যাপারে হায়দরগঞ্জ বাজারের সয়াবিন ব্যবসায়ী মো. ইকবাল হোসেন ও শাহাজান পাটোয়ারী জানান, চলতি বছর সয়াবিন আবাদ বেশি হয়েছে। খেতে রোগ বালাইও এ বছর কম। আগামী ১-২ মাস আবহাওয়া সম্পূর্ন অনুকূলে থাকলে কৃষকরা বাম্পার ফলন ঘরে তুলতে পারবে। ল²ীপুর জেলায় রেকর্ড পরিমাণ সয়াবিন উৎপাদন হলেও গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের কারণে সয়াবিনভিত্তিক কোনো শিল্প গড়ে ওঠছেনা। রায়পুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ডক্টর একেএম শামীম আলম বলেন, ‘চাষাবাদ লক্ষ্যমাত্রা শতভাগ অর্জিত হয়েছে। কৃষকরা যেন সঠিক সময়ে সয়াবিন ক্ষেতে সার কীটনাশক ব্যবহার, পোকা দমনে জৈবিকপ্রক্রিয়া প্রয়োগ করতে পারে সেজন্য মাঠ কর্মীরা তদারকিতে রয়েছেন। চাষীদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ ও সহজে বাজারজাতকরণের জন্য স্থানীয়ভাবে সয়াবিনভিত্তিক শিল্প কারখানা প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই উলে­খ করেন তিনি।তিনি জানান, পোকামাকড় থেকে রক্ষা ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার সয়াবিন উৎপাদন অতিতের সকল রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে।জেলা কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দেশে উৎপাদিত সয়াবিনের ৮০ ভাগ উৎপাদন হয় ল²ীপুরে। গেল বছর জেলায় ৪৪ হাজার ১৪০ হেক্টর জমিতে সয়াবিন চাষাবাদ করা হলেও এবছর উৎপাদন হয়েছে ৪৬ হাজার ৩৬০ হেক্টর। যা গেলবারের তুলনায় ২ হাজার ৩শ ২০ হেক্টর বেশি। সদরসহ ৫টি উজেলার মধ্যে রায়পুর, কমলনগর ও রামগতিতে বেশি জমিতে চাষাবাদ হয়েছে। গেল বছর এই তিন উপজেলায় ৭৮ হাজার ২৮০ মেট্রিক টন সয়াবিন উৎপাদন হয়েছে। তবে হতাশা, অপার সম্ভাবনা থাকা সত্বেও দীর্ঘদিনেও এ জেলায় সয়াবিন প্রক্রিয়াজাত করার কোনো কারখানা এখনও গড়ে ওঠেনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

দিনাজপুরে প্রতিমন ধান বিক্রি করে মিলছে একজন শ্রমিক !

দিনাজপুর প্রতিনিধি :  উত্তরের শষ্যভান্ডার দিনাজপুরে ধানের ভালো ফলন পেয়েও ভালো নেই ...

দিনাজপুরে ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় ৫’শ একর জমির ফসল বিনষ্ট

দিনাজপুর প্রতিনিধি : দিনাজপুরে খানসামা ও বীরগঞ্জে চারটি ইটভাটার বিষাক্ত কালো ধোঁয়ায় ...