Home | আন্তর্জাতিক | সড়ক অবরোধ গাড়ি ভাংচুর ও গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে খুলনায় দ্বিতীয় দিনের হরতাল পালিত

সড়ক অবরোধ গাড়ি ভাংচুর ও গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে খুলনায় দ্বিতীয় দিনের হরতাল পালিত

এম শিমুল খান, খুলনা প্রতিনিধি, ৪ মার্চ, বিডিটুডে ২৪ডটকম : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর বিশ্ব বরেণ্য মুফাসসিরে কুরআন মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায় বাতিল এবং তার মুক্তির দাবিতে দলের ডাকা ৪৮ ঘন্টা হরতালের দ্বিতীয় দিন সোমবার সড়ক অবরোধ গাড়ি ভাংচুর ও গ্রেফতারের মধ্যদিয়ে পালিত হয়েছে। হরতাল চলাকালে খুলনার অফিস আদালত, ব্যাংক বীমার প্রধান দরজা বন্ধ ছিল। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বিপনীবিতান, শপিংমল ও দোকানপাট বন্ধ ছিল। সীমিত আকারে রিক্সা-ভ্যান চললেও কোন ধরনের যন্ত্রচালিত যানবাহন চলাচল করেনি। লঞ্চ ও ট্রেন নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। এদিকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখাতে খুলনায় ছয় প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। এরমধ্যে মহানগরীর পাঁচ থানায় তিন পাটুন ও জেলার তিন উপজেলায় তিন পাটুন বিজিবি দায়িত্ব পালন করছে। খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের বিশেষ শাখা থেকে জানানো হয়েছে, নগরীতে ৯০ সদস্যের তিন পাটুন বিজিবি মোতায়েন আছে। জেলা কন্ট্রোল রুম থেকে জানানো হয়েছে, জেলার ডুমুরিয়া, পাইকগাছা ও কয়রায় ৬০ সদস্যের তিন পাটুন বিজিবি দায়িত্ব পালন করছে। এছাড়া হরতালে বিভিন্ন স্তরে মহানগরীতে ১৩ শ’ পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছে। পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব, গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারিও বৃদ্ধি করা হয়েছে। নগরীর রয়্যাল মোড়, ডাকবাংলো মোড়, সোনালী ব্যাংক চত্বর, ফেরিঘাট মোড়, পিকচার প্যালেস মোড়, পাওয়ার হাউজ মোড়, ময়লাপোতা মোড়, শিববাড়ি মোড়, পশ্চিম রূপসা ঘাট, শামসুর রহমান রোড, বৈকালী মোড়, বয়রা মোড়, নিরালা, গলামারী মোড়সহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অস্ত্রধারী বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো।  জামায়াতে ইসলামীর ডাকা ৪৮ ঘন্টার হরতালের দ্বিতীয় দিন গতকাল সোমবার ভোর থেকেই খুলনা মহানগরী ছাত্রশিবির নগরীর বিভিন্ন স্থানে মিছিল, টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে পিকেটিং করে। একপর্যায়ে বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে গাছের গুড়ি ফেলে সড়ক অবরোধ করে রাখে। প্রায় ঘন্টা খানেক ধরে অবরোধ করে রাখার ফলে রাস্তার দুই ধারে বহু যানবাহন আটকে পড়ে। এখানে নেতৃত্বে ছিলেন মহানগরী সাংগঠনিক সম্পাদক মিম মিরাজ হুসাইন, মহিউল ইসলাম, তানজিল, হাফিজ প্রমুখ। এখান থেকে ছাত্রলীগ ও পুলিশ বাড়ি-বাড়ি তল্লাশি চালিয়ে সুজন ও রাশেদ নামের দুই শিবির কর্মীকে দৌলতপুর এলাকা থেকে গ্রেফতার করে। পরে তাদেরকে ব্যাপক নির্যাতন করা হয়। এই নির্যাতন ও গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের খুলনা মহানগরী সভাপতি সাঈদুর রহমান ও সেক্রেটারি আজিজুল ইসলাম ফারাজী। খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনি এলাকায় খুলনা-পাইকগাছা সড়কে গাছের গুড়ি ফেলে প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তা জুড়ে অবরোধ করে রাখে স্থানীয় জনতা ও সাঈদী ভক্তরা। এর ফলে খুলনা থেকে পাইকগাছা ও কয়রার নৌ ও সড়ক পথ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। হরতালের সমর্থনে সকালে পাইকগাছায় মিছিল বের করে জামায়াত-শিবির ও সাঈদী ভক্তরা। পাইকগাছা থেকে শুরু করে কপিলমুনি পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার ও কয়রা চাঁদআলী বাজারের আশপাশ প্রায় ৩ কিলোমিটার গাছের গুড়ি, বিদ্যুতের খুটি, ইটপাটকেল ফেলে রাখা হয়েছে খুলনা-কয়রা সড়কে। এখানে কিছুন পরপর টায়ার জ্বালিয়ে বিােভ করে তারা। এসময় পুলিশ সড়কে আসতে সাহস পায়নি। এলাকার আওয়ামী লীগসহ বামপন্থী কোন নেতাকে এলাকায় দেখা যায়নি। এদিকে হরতালের আগের রাতে খুলনা জেলার ফুলতলায় ১০/১৫টি ককটেল বিষ্ফোরণ হয়েছে বলে সেখানকার বাসিন্দারা জানান। ডুমুরিয়া উপজেলার কাটেঙ্গা বাজারে হরতালের সমর্থনে বিােভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এখানে
পিকেটাররা সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে সকাল সাড়ে ৭ টা থেকে ১০ টা পর্যন্ত সড়ক অবরোধ করে রাখে। চুকনগর এলাকার দেয়াড়াতলা থেকে ১৮ মাইল পর্যন্ত গাছের গুড়ি ফেলে ও টায়ার জ্বালিয়ে খুলনা-সাতীরা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। রূপসা উপজেলার কুদির বটতলা এলাকায় খুলনা-মংলা মহাসড়কে গাছের গুড়ি ও টায়াতে আগুন জ্বালিয়ে বিােভ করে। তেরখাদা উপেলার নেবুদিয়া বাজারে বিােভ মিছিল ও খুলনা-তেরখাদা সড়কে গাছের গুড়ি ফেলে সড়ক অবরোধ করে রাখে। এখানে একটি বাসসহ চারটি গাড়ি ভাংচুর করে বিােভ করে সাঈদী ভক্তরা। খানজাহান আলী থানার শিরোমনি এলাকায় মিছিল বের করলে পুলিশের সাথে শিবির কর্মীদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। তবে এখানে কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এছাড়া নগরীর দৌলতপুর থানাধীন নতুন রাস্তা মোড়ে গতরাতে গাছের গুড়ি ফেলে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। কিন্তু ভোর হতে না হতেই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সহযোগিতায় পুলিশ সেগুলো সরিয়ে ফেলে। একই সময় খুলনা মেডিকেল কলেজ এলাকায় পুলিশের গাড়ি ল্য করে হরতাল সমর্থকরা ইট-পাটকেল নিপে করলে পুলিশের সাথে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। তবে এখানে কোন হতাহত বা গ্রেফতারের খবর পাওয়া যায়নি। সকাল ৭টায় নগরীর আহসান আহমেদ রোডস্থ খুলনা সরকারী করোনেশন বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে টায়ারে আগুন ধরিয়ে দিয়ে আতংক সৃষ্টি করা হয়। পরে কেএমপির উর্দ্ধতন পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। অপরদিকে জামায়াতের সকাল-সন্ধ্যা হরতাল সফল করতে নগরীতে খুলনা মহানগরী জামায়াত বিােভ মিছিল ও পিকেটিং করেছে। এতে নেতৃত্ব দেন মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি এডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন খুলনা সদর থানা সেক্রেটারি মাওলানা অলিউলাহ, সহকারী সেক্রেটারি অধ্য মুস্তাফিজুর রহমান টিংকু, আব্দুস সামাদ, খান সালাহ উদ্দীন, মোঃ তানভির, মনিরুল ইসলাম, নাজমুস সাকিব, রহমত উলাহ, মোঃ আলী হায়দার প্রমুখ। নগরীর রূপসা, পিটিআই মোড়, থানার মোড়, ডাকবাংলা, সোনাডাঙ্গা, শেখ পাড়া মোড়, মোল্লাবাড়ীর মোড়, শিববাড়ি, ময়লাপোতা, নতুন রাস্তার মোড়, বৈকালী মোড়, বয়রা মোড়, লিবার্টি মোড়, মহসীন মোড়, সোনাডাঙ্গা বাসষ্টান্ড, টুটপাড়া কবর খানা মোড়, গল্লামারী, চানমারী, রূপসা ব্রীজ, বিশ্ব রোড এলাকায় মিছিল ও পিকেটিং করে। এছাড়াও বিভিন্ন থানায় পিকেটিংসহ বিােভ মিছিল করেছে। এসব মিছিলে উপস্থিত ছিলেন আক্তার হোসেন, আবুল হাসান, আসলাম হোসেন, কামরুল ইসলাম, সালাহা উদ্দীন, মোমরেজুল ইসলাম, শাহাদৎ হোসেন, আলফিদা হোসেন, ইকবাল হোসেন, তাসনীম, এ কে এম তানজিম, হাফিজুর রহমান, মোশাররফ আনসারী প্রমূখ। ডুমুরিয়ায় পুলিশ-জামায়াত-শিবিরের সংঘর্ষ ঃ খুলনার ডুমুরিয়ায় উপজেলার ধামালিয়া ইউনিয়নের ছয়বাড়িয়া গ্রামীণ সড়ককে  হরতালের সমর্থনে জামায়েত-শিবির মিছিল বের করলে পুলিশের সাথে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এসময় পুলিশের ২ সদস্য শরিফুল ইসলাম ও শফিকুল ইসলামসহ ১০-১৫ জন শিবিরকর্মী আহত হয়। ঘটনা স্থল থেকে পুলিশ ৫ শিবির কর্মী জসিম উদ্দিন, আবুল কাশেম, আব্দুর রহিম, জয়নাল পাড়, আব্দুল আজিজ সানাকে আটক করে এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে রোববার সকালে  ১০১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১৫০ জন জামায়াত-শিবির নেতা কর্মীদের নামে ১টি মামলা দায়ের করেছেন। ডুমুরিয়া থানার ওসি এম, মশিউর রহমান জানান, ডুমুরিয়া উপজেলার ধামালিয়া ইউনিয়নের ছয়বাড়িয়া গ্রামীণ সড়ক নামক স্থানে মহিলাসহ প্রায় ৪-৫শ’ জামায়েত-শিবিরের  নেতা কর্মী জড়ো হয়ে মিছিল বের করার চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা পুলিশকে ল্য করে বোমা ও ইট-পাটকেল নিপে করে। এ সময় ২ পুলিশ সদস্য আহত হয়। তখন পুলিশ ৮ রাউন্ড ফাঁকা গুলিবর্ষণ করে জামায়াত-শিবির কর্মীদের ছত্র-ভঙ্গ করে দেয়। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। সুশৃংখল ও শান্তিপূর্ণ ২য় দিনের হরতাল সফল হওয়ায় নগরবাসীর প্র

x

Check Also

অবশেষে বৈঠকে বসছে ভারত ও পাকিস্তান

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : দুই বছর পর সিন্ধুর জল বণ্টন নিয়ে মঙ্গলবার (২৩ মার্চ) ভারতের সঙ্গে ...

এক শটে বাংলার বাইরে ফেলব ওদের : মমতা

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : ভাঙা পা নিয়েই শেষ মুহুর্তের নির্বাচনি প্রচারে মাঠ গরম করছেন ...