Home | শিল্প সাহিত্য | ফিচার | স্মৃতিতে সৈয়দ মহসীন আলী

স্মৃতিতে সৈয়দ মহসীন আলী

mostafa mohsinমোস্তফা মহসীন : সৈয়দ মহসীন আলীর সবচেয়ে বড় গুণ সম্ভবত আওয়ামীলীগের ভাবধারায় তিনি আপাদমস্তক একজন প্রগতিশীল রাজনীতিবিদ। কবিতা,সংগীত অাঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকার চেষ্টা করতেন। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের তালিকাভুক্ত শিল্পি ছিলেন। পরবর্তীতে বাংলাদেশ বেতারের। সে-ই ষাট দশকে বিউটি বোডিং মাতিয়েছেন। কলিম শরাফি, ফিরোজ সাঁই, ফকির আলমগীরসহ এদেশের অনেক প্রথিতযশা শিল্পিদের সাথে তাঁর ছিল জোরালো সখ্য। …দেখতে মহসীন আলীকে যতোটা আলাভোলা মনে হত,বাস্তবে তিনি ছিলেন সম্পূর্ণ বিপরীত।

অসাধারণ স্মৃতিশক্তির অধিকারী সৈয়দ মহসীন আলী ছিলেন শ্রোতা হিসেবে অত্যন্ত মনোযোগী। প্রায় ৩ হাজার বাঙলা গান তাঁর মুখস্ত ছিল,ভাবা যায়! মিন্টুরোডের বাসায় অবাধ যাতায়াতের সুযোগ তিনি আমাকে দিয়েছিলেন। সেইসূত্রে আমার বহু বন্ধু-বান্ধবও বিশাল বড় মাপের মানুষটির সান্নিধ্য লাভ করেছে। সৈয়দ মহসীন আলী, আতিথেয়তা খুব এনজয় করতেন। কখনোই না খেয়ে তাঁর বাড়ি থেকে বিদায় নেওয়াটা একজন আগন্তুকের পক্ষে রীতিমতো দুঃসহ ছিল। ভালোবাসতেন, অন্তরে সারাবেলা্ ধারণ করতেন সিলেটি সত্তা। মনোভূমে তা-ই ছিলেন হাছন রাজা, রাধা রমণ, বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিম। তাঁর বাসভবনটি ঘিরে সিলেটবাসীদের একটি আড্ডাকেন্দ্র গড়ে ওঠুক এটা তিনি সবসময় চাইতেন। আড্ডা দিতে ভালোবাসতেন প্রিয়জনদের সাথে। বহু নিঃস্ব মানুষকে অকাতরে সহায়তা করতে দেখেছি সৈয়দ মহসীনকে। ২০০৮ সালে সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানকে হারিয়ে দিয়ে সারাদেশে আলোচনায় আসেন সৈয়দ মহসীন আলী। তৃণমূলের নেতা হয়েও জীবনের প্রথম নির্বাচনে বিপুল ব্যবধানে মূলধারার রাজনীতিতে শীর্ষে নিয়ে আসে। সাবেক অর্থমন্ত্রী তাঁর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বি হলেও উভয়ের ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল মধুর। বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শ পাওয়া এই সৎ তৃণমূল নেতার মন্ত্রীত্ব লাভ বলা যায় ২০১৩ সালে শেখ হাসিনার মন্ত্রীসভার অন্যতম চমক। মন্ত্রীত্ব লাভের পর তাঁর নিজ জেলায় দুর্নীতিকে শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনেন। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর রাজনৈতিক পট পরিবর্তনে, তিনি নিজ জেলায় শক্ত হাতে আওয়ামীলীগের হাল ধরেন।

mohsin ali and mostafa mohsinসৈয়দ মহসীন আমাকে ডাকতেন “মিতা‘। জোছনামাখা রাতে তিনি আর আমাদের, চিরায়ত অভ্যাসে সিগারেটের ধুঁয়ো ফুৎকারে উড়িয়ে দিতে দিতে …মুক্তিযুদ্ধের রোমহর্ষক গল্প শোনাবেন না… কিংবা ভরাট গলায় গাইবেন না….“আমি এক যাযাবর, আমি এক যাযাবর পৃথিবী আমাকে আপন করেছে, ভুলেছি নিজের ঘর।। আমি গঙ্গার থেকে মিসিসিপি হয়ে ভলগার রূপ দেখেছি অটোয়ার থেকে অস্ট্রিয়া হয়ে প‌্যারিসের ধূলো মেখেছি আমি ইলোরার থেকে রং নিয়ে দূরে শিকাগো শহরে দিয়েছি গালিবের শের তাশখন্দের মিনারে বসে শুনেছি মার্ক টোয়েনের সমাধিতে বসে গোর্কির কথা বলেছি… “ ভীষণভাবে মিস করবো আমার “মিতা“ বীরমুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ মহসীনকে। যেখানেই থাকুন, তিনি ভালো থাকুন এই কামনা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

বসন্ত এলো এলো এলোরে.

স্টাফ রিপোর্টার :  বসন্ত এলো এলো এলোরে পঞ্চম স্বরে কোকিল কুহুরে মুহু ...

অপারেশনের জন্য প্রস্তুত ৫০০ কেজির সেই নারী

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক :  শরীরের ওজন কমাতে শিগগিরই ভারতে চিকিৎসকের অস্ত্রের নিচে যাচ্ছেন ...