Home | ব্রেকিং নিউজ | সোহরাওয়ার্দী না হলে ৫ জানুয়ারি নয়াপল্টনে সমাবেশ করতে চায় বিএনপি

সোহরাওয়ার্দী না হলে ৫ জানুয়ারি নয়াপল্টনে সমাবেশ করতে চায় বিএনপি

স্টাফ রিপোর্টার:  বিএনপি যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী রোববার বিকালে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের পাশাপাশি বিকল্প স্থান হিসেবে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের সড়কের কথা জানিয়ে মহানগর পুলিশকে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন তারা।

তিনি বলেন, “এবার দেখব- আপনারা (সরকার) কতোটুক শান্তির পক্ষে, আপনারা কতটুকু স্বস্তি, কতটুক গণতন্ত্রের পক্ষে। নোংরামি করে অপরাজনীতি দিয়ে নিজেদের চেহারা ঢাকা যাবে না।”

নির্বাচনের বর্ষপূর্তিতে গতবছর দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি ঘিরে শুরু হয়েছিল সহিংসতা ও অনিশ্চয়তা। এর এক বছরের মাথায় শনিবার আবারও দুই দল একই দিনে সমাবেশের ঘোষণা দেয়।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ৫ জানুয়ারিকে ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ আখ্যায়িত করে ওইদিন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করার ঘোষণা দেওয়ার পর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকেও একই স্থানে কর্মসূচির ঘোষণা আসে।

সরকারের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিকে ‘গণতন্ত্রের বিজয় দিবস’ হিসেবে উদযাপনের জন্য ওইদিন সোহরাওয়ার্দী ছাড়াও ঢাকার ১৭টি স্থানে একযোগে সমাবেশ করার ঘোষণা রয়েছে আওয়ামী লীগের।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যান কাকে দেওয়া হবে সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত মহানগর পুলিশ এখনও দেয়ানি।

ঢাকার পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া রোববার মিন্টো রোডে পুলিশের গণমাধ্যম কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, “আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে জননিরাপত্তা। যদি আমাদের কাছে অনুভূত হয় যে পরস্পরবিরোধী জনসমাবেশে সাংঘর্ষিক কর্মসূচির কারনে জননিরপত্তা তথা মানুষের জান-মালের ক্ষয়-ক্ষতির সম্ভাবনা আছে, সেক্ষেত্রে আমরা কাউকে কর্মসূচি করার অনুমতি দিতে পারি না।”

দুই দলের কেউ সমাবেশের জন্য বিকল্প স্থান চাইলে অনুমতি দেওয়া হবে কি না- এ প্রশ্নে তিনি বলেন, “শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি থাকলে তো ডিএমপির পক্ষ থেকে কোনো বাধা নেই। তা সে যে ভেন্যুই হোক না কেন। এমনকি তারা যদি দ্বিপক্ষীয়ভাবে আমাদের সঙ্গে কথা বলতে চান, সেক্ষেত্রেও তারা ওয়েলকাম।”

পুলিশ কমিশনার ওই বক্তব্য দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর নয়াপল্টনের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসেন রিজভী।

তিনি বলেন, “আমরা শান্তির জন্য, জনগণের স্বস্তির জন্য সংঘাত-সংঘর্ষ এড়াতে আবারও সরকারকে বলতে চাই, আপনারা আমাদেরকে অনুমতি দিন শান্তিপূর্ণ জনসভা করতে। এটি গণতন্ত্রের একটি অংশ। এই জায়গায় বাধা দেবেন না।

“আপনারা যদি মনে করেন, ওই জায়গা (সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) না দিয়ে পার্টি অফিসের সামনে দেবেন, আমাদের আপত্তি নেই। আপনারা দরকার হলে আমাদের এই পল্টন অফিসের সামনে জনসভার অনুমতি দিন। বিরোধীদলের যে আইনগত অধিকার- চিরন্তন মানুষের যে গণতান্ত্রিক অধিকার- তা হরণ করবেন না।”

নয়া পল্টনেও অনুমতি না পেলে কী করবেন- এমন প্রশ্নে রিজভী বলেন, “কী করব সেটা আমরা ৫ তারিখে বলব। এখনো সময় আছে। অনেক সময় দেখা গেছে, জনসভার আগের রাতেও বলেছে যে ‘আপনারা আপনাদের কর্মসূচি করতে পারেন’। আমরা অপেক্ষা করছি।”

বিএনপির এই যুগ্ম মহাসচিব বলেন, জনসভা করার প্রস্তুতি তাদের রয়েছে। সহযোগী সংগঠনগুলোও প্রস্তুতি নিয়ে বৈঠক করছে।

“এটা তো ঢাকাভিত্তিক জনসভা। সেরকম প্রস্তুতি আমাদের চলছে। আমাদের বিশ্বাস, আমরা জনসভা করব।”

আরেক প্রশ্নের জবাবে রিজভী বলেন, গত বছরের মতো পরিস্থিতি তৈরি হলে দলের নীতি নির্ধারণী ফোরামে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত হবে।

“আমরা চিঠি দিয়েছি, ঘোষণা করেছি জনসভা করার। কেউ কিন্তু জানে না, আওয়ামী লীগ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা করবে। আজ আমরা শুনছি, তারা সেখানে জনসভার জন্য চিঠি দিয়েছে। এর উদ্দেশ্যটা হলো- বিএনপির জনসভাকে বানচাল করে সংঘাত-সংঘর্ষের দিকে এগিয়ে যাওয়ার একটা প্রচেষ্টা।”

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি ওই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে টানা দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ। বিএনপি ভোটে না থাকায় অর্ধেকের বেশি আসনে প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হন।

গতবছর নির্বাচনের বর্ষপূর্তিতে দুই দল মুখোমুখি আবস্থানে গেলে দেশে নতুন করে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়। এরপর তিন মাসে বিএনপির সরকারবিরোধী আন্দোলনে সহিংসতা ও নাশকতায় নিহত হন দেড় শতাধিক মানুষ।

রিজভী বলেন, “এরা জনগণের কণ্ঠের আওয়াজে চমকে উঠছে। আতঙ্কিত হয়ে সর্বশক্তি দিয়ে বিরোধীদলের কর্মসূচিকে বানচাল করতে চাইছে। তাদের মানসিকতায় দুর্বলতার এই লক্ষণ দেখা দিয়েছে ৫ জানুয়ারির ভোটারবিহীন নির্বাচনের পরে। জনবিচ্ছিন্ন হয়ে আওয়ামী লীগ দমনপীড়নের মাধ্যমে জনগণকে নিজেদের প্রতিপক্ষ বানিয়েছে।”

‘আসল বিএনপির’ নামে শনিবার নয়া পল্টনের কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় থানায় অভিযোগ করা প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলে এই বিএনপি নেতা বলেন, “আমরা ঘটনার বিষয়টি পুলিশ প্রশাসনকে জানিয়েছি, থানায় (পল্টন মডেল থানা) ডায়েরি করেছি। কিন্তু আমাদের ডায়েরি গ্রহণ করা হয়নি, ফেরত দেওয়া হয়েছে।

“আমরা বলতে চাই, আসল বিএনপি কিংবা নকল বিএনপি বলে কিছু নেই। যে বিএনপি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, সেই দলই আপনাদের সামনে কর্মকাণ্ড করে; সেটিই হচ্ছে বিএনপি। আর যারা হামলা করেছে, সরকার নোংরামি করে জনদৃষ্টি ফেরাতে তা তৈরি করেছে।”

শনিবার বিএনপি কার্যালয়ের সামনে থেকে আটক ছাত্রদলের মাসুদ, বাবু, ইলিয়াস, উজ্জ্বলের মুক্তির দাবি জানান রিজভী।

বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, শিরিন সুলতানা, আবদুল লতিফ জনি, আসাদুল করীম শাহিন, আবেদ রাজা, হেলাল খান, ফরিদা ইয়াসমীন সংবাদ সম্মেলনে রিজভীর পাশে ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

আন্তর্জাতিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সম্মেলন ডিসেম্বরে

স্টাফ রিপোর্টার :  বাংলাদেশে প্রতিবন্ধিতা ও দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিষয়ক দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক ...

জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় নদী-হাওর-জলাধার রক্ষা জরুরি

স্টাফ রিপোর্টার :  বাংলাদেশের জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে নদ-নদী, হাওর ও জলাধার ...