Home | খেলাধূলা | সেনাবাহিনীর সঙ্গে মাশরাফির একদিন

সেনাবাহিনীর সঙ্গে মাশরাফির একদিন

স্টাফ রিপোর্টার :  নববর্ষে তিন দিন বন্ধ ছিল ঘরোয়া ক্রিকেটের ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগ। ছুটির এই সময়টা বেশ ভালোভাবে কাজে লাগিয়েছেন মাশরাফি। পুরো পরিবার নিয়ে প্রকৃতি ও পাহাড়ের টানে ছুটে যান রাঙ্গামাটির সাজেক এবং খাগড়াছড়িতে। সেখানে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সঙ্গে ঘুরে দেখেছেন সেনানিবাসও। কথা বলেছেন সেখানকার সেনা সদস্যদের সঙ্গে। দেশের প্রতি বাংলাদেশ সেনাবহিনীর ভালোবাসা-শ্রদ্ধা ছুঁয়ে গেছে মাশরাফির হৃদয়কে।

মঙ্গলবার নিজের ফেসবুক ভেরিফাইড পেজে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে শ্রদ্ধা জানিয়ে একটি পোস্ট দিয়েছেন মাশরাফি। যেখানে তিনি লিখেছেন, ‘যদি কখনও বাংলাদেশ আর্মির সঙ্গে একদিনও কাজ করার সু্যোগ পাই, আমি চিরকৃতজ্ঞ থাকব।’

ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজে দেওয়া মাশরাফির পোস্টটি -এর পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো :

প্রথমে আমার অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই আপনাদের সবাইকে, যারা দেশ ও দেশের মানুষের জন্য সেবা করে যাচ্ছেন। আমার এবারের খাগড়াছড়ি সেনানিবাস ভ্রমণ থেকে আমি বুঝতে পেরেছি, একজন সৈনিক তাঁর মাতৃভূমির জন্য কী পরিমাণ আত্মত্যাগ করেন। আপনারা হলেন সেই সব মানুষ, যারা দেশের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন সব প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে, কিন্তু আপনাদের বীরত্বগাথা হয়তো কখনও কোনও জাতীয় দৈনিক বা সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়নি।

ফেসবুকে দেওয়া মাশরাফির পোস্টটি

আমার সঙ্গে এমন একজন সৈনিকের দেখা হয়েছে, যিনি খুব শিগগিরই বাবা হবেন। অথচ দেশের জন্য দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিনি আজ তার পরিবার থেকে বহুদূরের এই সেনাক্যাম্পে অবস্থান করছেন। আমি স্বীকার করি, অনেকের কাছেই সেপাই পলাশের দেশের প্রতি অঙ্গীকার একটি সামান্য পরিসংখ্যান ছাড়া আর কিছুই নয়। নিজের কাজ দিয়ে জাতীয় সঙ্গীতকে সমুন্নত রাখার প্রচেষ্টা কিংবা গ্যালারিতে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ দলকে সমর্থন দেয়াকেই আমরা হয়তো দেশাত্মবোধের পরিচায়ক হিসেবে মনে করি। কিন্তু মনে রাখবেন, এর কোনও কিছুই আপনাদের আত্মত্যাগের সমতুল্য নয়। আজ বাংলাদেশ আর্মির এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের প্রত্যেক সদস্য দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করতে প্রস্তুত আছেন। আমার এই ভেবে খুব কষ্ট হয় যে, আপনারা এবং আপনাদের আপনজনরা অত্যন্ত কষ্ট সহ্য করেন যেন আমরা নিরাপদে ঘুম থেকে উঠতে পারি। যে দিন আমাদের দেশের সব নাগরিক একইভাবে দেশের জন্য নিজেকে আত্মনিয়োগ করতে প্রস্তুত হবে, সেদিন আমরা পাব সমৃদ্ধির বাংলাদেশ। মনে রাখবেন, ‘সমরে আমরা শান্তিতে আমরা, সর্বত্র আমরা দেশের তরে।’ সর্বশেষ এই বলতে চাই, ‘যদি কখনও বাংলাদেশ আর্মির সঙ্গে একদিনও কাজ করার সু্যোগ পাই, আমি চিরকৃতজ্ঞ থাকব।’ এত সময় ধরে শেষ পর্যন্ত পড়ার জন্য আপনাদের অশেষ ধন্যবাদ।

-আপনাদের মাশরাফি (একজন ব্যক্তি, যে শুধুমাত্র ক্রিকেট খেলে)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

আগামীকাল সোমবার ভিয়েনার উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন প্রধানমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার :  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অস্ট্রিয়ায় ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটমিক এনার্জি এজেন্সি (আইএইএ) ...

অভিনয় নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন অন্তর শোবিজের পরিচালক লিটন চৌধুরী

বিনোদন ডেস্ক :  অভিনয় নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন অন্তর শোবিজের পরিচালক ...