ব্রেকিং নিউজ
Home | সারা দেশ | সুনামগঞ্জে অতিদরিদ্র কর্মসূচীর কাজে অনিয়মের অভিযোগ

সুনামগঞ্জে অতিদরিদ্র কর্মসূচীর কাজে অনিয়মের অভিযোগ

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি :: সরকার অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসূচী অর্থের মাধ্যমে গ্রামীণ অঞ্চলের রাস্তাঘাট নির্মাণ ও সংস্কারে বরাদ্দ দিয়ে থাকলেও সংশ্লিষ্টদের অনিয়ম দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির কারণে কাজের কাজ হচ্ছে না। গুরুত্বপূর্ণ এসব প্রকল্পে গচ্ছা যাচ্ছে সরকারের লাখ লাখ টাকা। অতিদরিদ্রদের নামে ফায়দা লুটছেন কিছু অসাধু ব্যক্তিরা।

অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসূচীতে ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরের প্রথম পর্যায়ে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নে দেওয়াননগর গ্রামের মিরা আলীর বাড়ি থেকে পূর্বহাটির নতুন মসজিদ পর্যন্ত রাস্তায় মাটি ভরাটের কাজ নিয়ে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। নামমাত্র মাটি ফেলে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বরাদ্দের পুরো টাকা আত্মসাতের অভিযোগ স্থানীয় ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে। ইউপি সদস্য তৈয়বুর রহমান নিজের ভাই, ভাবি, ভাতিজা, ভাতিজা বউ, নাতিসহ আত্মীয় স্বজনদের অতিদরিদ্রের তালিকায় অর্ন্তভুক্ত করে কাজ না করে কর্মসূচী প্রকল্পের টাকা হজম করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। সরেজমিনে তদন্ত করে ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

জানা যায়, অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসূচীর এ অর্থ বছরে প্রথম পর্যায়ে ২০১৯ সালের ২৩ নভেম্বর থেকে চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত ২০০ টাকা শ্রমিক মজুরিতে কাজ সম্পন্ন করেছেন মর্মে টাকা উত্তোলন করেছেন প্রকল্পের সভাপতি স্থানীয় ইউপি সদস্য তৈয়বুর রহমান। কর্মসৃজনের প্রথম পর্যায়ের সময়কাল পার হয়ে গেলেও বাস্তবে কাজ হয়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের এমন অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। দেখা যায়, মীরা আলীর বাড়ী থেকে পূর্ব পাড়ার নদীর পর্যন্ত দীর্ঘ রাস্তার মাত্র ১০০ মিটার স্থানে এক-দেড় ফুট উচ্চতায় নামমাত্র মাটি ফেলা হয়েছে। বাকি স্থানে কোনো মাটি ফেলা হয়নি। তালিকাভূক্ত ২৫ জন শ্রমিকের প্রায় দেড়মাসের বেশি সময় ধরে রাস্তায় কাজ করার কথা থাকলেও বাহির থেকে শ্রমিক দিয়ে কয়েকদিন নামমাত্র মাটি ফেলে বরাদ্দের পুরোটাকা বাগিয়ে নেয়া হয়েছে।

এদিকে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, তালিকায় এলাকার অতিদরিদ্রের রাখার কথা থাকলেও সামর্থ্যবান ও নিজের আত্মীয়দের রেখেছেন ইউপি সদস্য। ২৫ জন শ্রমিকের মধ্যে মহিবুর রহমান ইউপি সদস্য তৈয়বুর রহমানের আপন বড় ভাই, জাহানারা মহিবুরের স্ত্রী, আবুল হাসনাত সম্পর্কে আপন ভাতিজা আর লাভলী হাসনাতের স্ত্রী, আশফাতুন নেছা হলেন বড় ভাইয়ের বউ, মায়া বেগম সম্পর্কে ভাবি, রইস উদ্দিন ভাতিজা, শাহানারা নাতি বউ, রহিম ও কুতুব উদ্দিন ভাতিজা, ফখরুল আমীন নাতি, নাসিমা বেগম নাতি বউ, আমীরজান ও সালেহা বেগম, মমতা বেগম, সাজনা বেগম ও সূর্যবান সম্পর্কে ভাতিজা বউ ইউপি সদস্যের। এছাড়াও অতিদরিদ্রের তালিকায় এলাকার গরীব মানুষদের অন্তর্ভুক্ত করার কথা থাকলেও রাখা হয়েছে এখলাছুর রহমান নামে এক অটোরাইস মিলের মালিককে। এই ভাবে ২৫ জন শ্রমিক কার্ডে নিজের আত্মীয় স্বজনদের রেখে কর্মসূচীর কাজে বড় ধরনের অনিয়ম করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। সরেজমিন তদন্তের মাধ্যমে ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

দেওয়াননগর গ্রামের আব্দুল আউয়াল, লাল মিয়া, নাছির উদ্দিন ও কমর আলী অভিযোগ করে বলেন, মিটিং করে বলা হল মিরা আলীর বাড়ী থেকে পূর্ব পাড়া মসজিদ পর্যন্ত রাস্তায় মাটি ভরাট করা হবে। মেম্বার বাহিরের কয়েকজন ব্যক্তি দিয়ে রাস্তার একপাশে নামমাত্র মাটি ফেলে টাকা হজম করেছেন। কর্মসূচীর তালিকায় গ্রামের অতিদরিদ্রদের রাখার কথা থাকলেও কার্ডধারী সবই মেম্বারের ভাই, ভাবি, ভাতিজা, নাতি, নাতি বউ। সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সরকারের উন্নয়নকে নষ্ট করে সাধারণ মানুষকে বিপাকে ফেলা হচ্ছে।

তবে, কাজে অনিয়মের অভিযোগের কথা অস্বীকার করেছেন প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ইউপি সদস্য তৈয়বুর রহমান। অতিদরিদ্রের তালিকায় ভাই,ভাবি, ভাতিজা,নাতি থাকলেও তাদেরকে গ্রামের বাসিন্দা বলে দাবি ইউপি সদস্যের।

কাজ ডিজাইন অনুযায়ি হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা মো. মানিক মিয়া।

কর্মসূচীর কাজে অনিয়ম হলে তদন্ত সাপেক্ষে ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান সদর উপজেলার চেয়ারম্যান খায়রুল হুদা চপল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

রাণীনগরে পূন: নির্মানের পর আবারও ভেঙ্গে গেল কালভার্টটি

মো: সাহাজুল ইসলাম,রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি : নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার শিয়ালা-চাঁপাপুর রাস্তার একটি ...

তাহিরপুরে সাংবাদিকদের সাথে ইউএনওর মতবিনিময় সভা

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় কর্মরত সাংবাদিকদের সাথে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের ...