Home | ফটো সংবাদ | সুনামগঞ্জের দুর্নীতির সংসদীয় তদন্ত চাইলেন পীর মিসবাহ এমপি

সুনামগঞ্জের দুর্নীতির সংসদীয় তদন্ত চাইলেন পীর মিসবাহ এমপি

নিজস্ব প্রতিবেদক: ওয়ান-ইলেভেনের সময় কেড়ে নেওয়া ব্যবসায়ীদের টাকা কেন ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে না? সে সময় রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীদের যারা লাঞ্ছিত করেছিলেন, সেই কুশীলবদের কেন আজও বিচার করে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে না? প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তৃতায় বৃহস্পতিবার এ প্রশ্ন উত্থাপন করেন জাতীয় পার্টির এমপি পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ।
তিনি ব্যবসায়ীদের টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান। জাতীয় ও স্থানীয় ইস্যুতে প্রাঞ্জল ভাষায় দেওয়া বক্তব্যকে প্রধানমন্ত্রীসহ সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়িয়ে সমর্থন জানান।
স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধীদলীয় এমপি পীর মিসবাহ (সুনামগঞ্জ-৪) বলেন, রাজনৈতিক দুর্বৃত্ত ও দুর্নীতিবাজ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সরকারের সাফল্য ও অর্জনগুলো ম্লান করে দিচ্ছেন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দুর্বৃত্ত ও প্রশাসনের ভিতরে থাকা দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দিয়ে এ বাজেট বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। সুশাসনের জন্য এরা বাধা। সুশাসন নিশ্চিত করতে এদের থামাতে না পারলে এ বাজেট বাস্Íবায়ন করে প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হবে না। বিগত তিন বছরে যেখানে ৬-এর সামান্য কিছু বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে, সেখানে অর্থমন্ত্রী কীভাবে ৭.৩% প্রবৃদ্ধি অর্জন করবেন বুঝে পাই না।
তিনি বলেন, দুর্বৃত্তরা ব্যাংকের টাকা লুট করে নিয়ে যায়, দেশের মানুষ লুটেরাদের নাম জানে কিন্তু অর্থমন্ত্রী তাদের নাম জানেন না। আমরা বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ গড়তে চাই, লুটেরাদের বাংলা নয়। ব্যাংকগুলোয় টকা লুটপাট চলছে কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক শুধু চেয়ে চেয়ে দেখছে। এভাবে দেশ চলতে পারে না। তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরও তদন্তের আওতায় আনার আহŸান জানান।
পীর মিসবাহ বলেন, শেয়ারবাজারে ৩২ লাখ বিনিয়োগকারীর টাকা কারা লুটে নিয়েছে তাদের নাম মানুষ জানে। ইব্রাহিম খালেদের তদন্তে আসে, অর্থমন্ত্রী বলেন, তাদের হাত লম্বা। লাখো শহীদের রক্তে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীন বাংলাদেশে রাষ্ট্রের চেয়ে ওদের হাত শক্তিশালী হতে পারে না।
তিনি তার নির্বাচনী এলাকা সুনামগঞ্জের রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও সরকারি কর্মকর্তাদের দুর্নীতি তদন্তে সংসদীয় কমিটি গঠনের দাবি করে বলেন, এক বছরের ব্যবধানে কীভাবে সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের একই দাগের জমির দাম ২ কোটি ৩৭ লাখ টাকা থেকে বেড়ে ৫ কোটি ৪৭ লাখ হলো এ সংসদকে তা তদন্ত করে দেখতে হবে। আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক থাকাকালে প্রকাশ্য সভায় এ প্রশ্ন তুলে ধরলেও ভূমি-মালিকদের নিয়ে লাভবান হতে ডিসি তা করেছিলেন কালেক্টরেট ভবন নির্মাণের জমি হুকুমদখলে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী সুনামগঞ্জে পাওয়ার গ্রিড নির্মাণের কথা বলেছিলেন। তিনি সুনামগঞ্জের উন্নয়নে তার কথা রেখেছেন। এ পাওয়ার গ্রিড নির্মাণের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ হয়েছে। কিন্তু এ ভূমি হুকুমদখলের নামে কারা কোটি কোটি টাকা লুটপাট করেছেন তা বের করতে হবে।
পীর মিসবাহ আরও বলেন, আপনারা আসুন দেখুন, কীভাবে সুনামগঞ্জ দোপাজানসহ পাথর বালুমহালের নামে সেখানে শ্রমিক নির্যাতন চলছে, কীভাবে রাজনৈতিক দুর্বৃত্তদের সঙ্গে নিয়ে প্রশাসন সরকারের রাজজ্ব আত্মসাৎ করা হচ্ছে। পীর মিসবাহ এসব দুর্নীতি ও রাজনৈতিক দুর্বৃত্তপনা দেখার জন্য সরকারের যে কোনো সিনিয়র পার্লামেন্টারিয়ানের নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি করে তদন্তের দাবি জানান। তিনি সুনামগঞ্জের দুর্নীতিবাজ ডিসি ইয়ামিন চৌধুরীকে প্রত্যাহার করায় প্রধানমন্ত্রীকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, এই খবরে সুনামগঞ্জে মিষ্টি বিতরণ হয়েছে।
পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ সরকারি কর্মকর্তাদের দুর্নীতির ভিন্ন এক চিত্র তুলে ধরে সংসদে বলেন, প্রশাসনের যেসব কর্তা-কর্মচারী দুর্নীতি করে, দুঃসময়ে তারা কেটে পড়ে। রাজনীতিবিদরা জেল খাটেন। নোয়াখালীতে আমাদের একটি উপজেলার নাম বেগমগঞ্জ। প্রবাসীদের দেয়া নামে কানাডায়ও এখন বেগমগঞ্জ নামে একটি এলাকা গড়ে উঠেছে। বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দুর্নীতির মাধ্যমে এ দেশের সম্পদ লুট করে নিয়ে কানাডায় একটি আবাসিক পলি­ গড়ে তুলেছেন, সেখানে তারা সুরম্য বাড়ি করেছেন। সেখানে তাদের স্ত্রী ও সন্তানেরা বসবাস করছেন বলে কানাডাপ্রবাসীরা সে এলাকার নাম দিয়েছেন ‘বেগমগঞ্জ’। বেগমরা চলে গেছেন। সরকারি সাহেবরাও চলে যাবেন।
পীর মিসবাহ সংবিধানের ১৯-এর ১ ও ২ ধরা উলে­খ করে বলেন, মুক্তিযুদ্ধের রক্তাক্ত দলিলে সবার জন্য সমান সুযোগ ও সম্পদের সুষম বণ্টনের কথা আছে কিন্তু স্বাধীনতার ৪৩ বছর পরও বঙ্গবন্ধুকে হত্যার কারণে শোষণমুক্ত সমাজ আমরা পাইনি। সমাজ ও রাষ্ট্রে দিনে দিনে বৈষম্য বাড়ছে। তিনি বলেন, শহরে ও গ্রামে প্রতিনিয়ত শিক্ষার বৈষম্য বাড়ছে, এ বৈষম্য দূর করতে হবে।
পীর মিসবাহ শিশু শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারের সাফল্য তুলে ধরে বলেন, সরকারের এসব সাফল্য ম্লান হয়ে যায় যখন পরীক্ষার আগের রাতে ফেসবুকের পাতায় পরের দিনের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে যায়। তিনি শিক্ষামন্ত্রীর সমালোচনা করে বলেন, ্রপ্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে তিনি সুশীল সমাজের সঙ্গে মন্ত্রণালয়ে বৈঠক করেন কিন্তু তার মন্ত্রণালয়ে কাদের কাষ্টডিতে ব্যস্ত তাকে তাদের ধরেন না। যাদের কাস্টডিতে প্রশ্নপত্র থাকে তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে।
পীর মিসবাহ মুক্তিযুদ্ধের সম্মাননা ক্রেস্টের জালিয়াতির তদন্তের সমালোচনা করে বলেন, যারা ক্রেস্ট তৈরি করল তাদের তদন্তের আওতায় না আনায় সরকারের অর্জনগুলো বিবর্ণ হয়ে যাচ্ছে। কেন ধরা হয় না? তারা বেশি দূরে থাকে না।
তিনি বলেন, ইয়াবা-ফেনসিডিলসহ মাদকের আগ্রাসনে তরুণ সমাজ বিপন্ন হয়ে পড়েছে। জনগণ জানে কারা এসব মাদক ব্যবসা করছে, কারা পৃষ্ঠপোষকতা করছে। কিন্তু স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তাদের ধরতে পারেন না। তিনি বলেন, আমাদের মনে রাখতে হবে প্রধানমন্ত্রী বা অন্য দলের নেতানেত্রীদের আশীর্বাদ না পেলে অনেক নেতাই ইতিহাসের আঁস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হবেন। মাদক সন্ত্রাসের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতেই হবে। তিনি বলেন, ইয়াবা বা মাদকসেবী একজন সদস্যের কারণে একটি পরিবার শেষ হয়ে যাচ্ছে। একে মোকাবিলা করতে হবে।
পীর মিসবাহ পদ্মাসেতু বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের নামে নামকরণের প্রস্তাবকে সমর্থন জানিয়ে বলেন, স্বাধীনতা সংগ্রামী ও মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডারদের নামেও নামকরণ হোক বিশ্ববিদ্যালয় হলগুলোর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

পাকিস্তানের সেনা চৌকি ধ্বংসের দাবি ভারতের

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক :  পাকিস্তানের একাধিক সীমান্ত চৌকি ও বাংকার গুঁড়িয়ে দেয়ার দাবি করেছে ...

সীমান্তে ২৫ পাক সেনা হত্যার দাবি ভারতের, পাকিস্তানের অস্বীকার

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক :  সীমান্তে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর অস্থায়ী সেনা ছাউনিতে  বিধ্বংসী আক্রমণ চালাল ভারতীয় ...