ব্রেকিং নিউজ
Home | শিল্প সাহিত্য | ফিচার | সুকুমার রায়ের প্রয়াণ আজ

সুকুমার রায়ের প্রয়াণ আজ

ফিচার ডেস্ক : ইতিহাস আজীবন কথা বলে। ইতিহাস মানুষকে ভাবায়, তাড়িত করে। প্রতিদিনের উল্লেখযোগ্য ঘটনা কালক্রমে রূপ নেয় ইতিহাসে। সেসব ঘটনাই ইতিহাসে স্থান পায়, যা কিছু ভালো, যা কিছু প্রথম, যা কিছু মানবসভ্যতার অভিশাপ-আশীর্বাদ।

তাই ইতিহাসের দিনপঞ্জি মানুষের কাছে সবসময় গুরুত্ব বহন করে। এই গুরুত্বের কথা মাথায় রেখে বিডিটুডের পাঠকদের জন্য আয়োজন ইতিহাসের এই দিন’…

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, সোমবার। ২৬ ভাদ্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ। এক নজরে দেখে নিন ইতিহাসের এ দিনে বিশিষ্টজনের জন্ম-মৃত্যুদিনসহ গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু বিষয়।

সুকুমার রায়, বাংলা সাহিত্যে জনপ্রিয় লেখক, ছড়াকার, শিশুসাহিত্যিক, রম্যরচনাকার,প্রাবন্ধিক ও নাট্যকার হিসেবে যার নাম প্রথমে মনে পড়ে তিনি ছিলেন জনপ্রিয় শিশুসাহিত্যিক উপেন্দ্রকিশোর রায় চৌধুরীর সন্তান সুকুমার রায়। সুকুমার রায়ের জন্ম ১৮৮৭ সালের ৩০ শে অক্টোবর, কলকাতার এক ব্রাহ্ম পরিবারে। ছড়াকার সুকুমার এর বাবা শিশুসাহিত্যিক উপেন্দ্রকিশোর রায় চৌধুরী এবং মা বিধুমুখী দেবী।

Related image

কবি সুকুমার রায় এর পারিবারিক পরিবেশ সাহিত্যানুরাগী ছিল। পিতা উপেন্দ্রকিশোর ছিলেন শিশুতোষ গল্প ও জনপ্রিয় বিজ্ঞান লেখক, চিত্রশিল্পী, সুরকার ও শৌখিন জ্যোতির্বিদ। উপেন্দ্রকিশোরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যিনি তাকে সরাসরি প্রভাবিত করেছিলেন।

কলকাতার সিটি স্কুল থেকে এন্ট্রাস পাশ করেন সুকুমার রায়। কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে ১৯০৬ সালে রসায়ন ও পদার্থ বিদ্যায় বি.এস.সি. (অনার্স) করার পর সুকুমার মুদ্রণবিদ্যায় উচ্চতর শিক্ষার জন্য বিলেতে যান। এরপর তিনি মুদ্রণবিদ্যায় উচ্চতর ডিগ্রি লাভ করে ১৯১৩ সালে কলকাতা ফিরে আসেন।

সুকুমার ইংল্যান্ডে থাকাকালীন উপেন্দ্রকিশোর একটি ছাপাখানা এবং ছোটদের মাসিক পত্রিকা সন্দেশ প্রকাশনা শুরু করেন। শিশুসাহিত্যিক সুকুমার রায় বিলেত থেকে ফেরার কিছুদিনের মধ্যে উপেন্দ্রকিশোরের মৃত্যু হলে তিনি পরিবারের সদস্যদের সহায়তায় ছাপাখানা ও সন্দেশ পত্রিকা পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেন।

সুকুমার রায় ১৯১৪ সালে সূপ্রভা রায়কে বিয়ে করেন। তার একমাত্র পুত্র সত্যজিৎ রায়। তিনি খ্যাতিমান চলচ্চিত্রকার।

কবি সুকুমার রায়ের ক্ষণস্থায়ী জীবনে তার প্রতিভার শ্রেষ্ঠ বিকাশ লক্ষ্য করা যায়। তার প্রথম ও একমাত্র ছড়ার বই আবোল তাবোল শুধু বাংলা সাহিত্যে নয়, বরং বিশ্বসাহিত্যের অঙ্গনে নিজস্ব জায়গার দাবিদার।

সুকুমার রায়ের গল্প, সুকুমার রায় এর কবিতা, সুকুমার রায় এর ছড়া, প্রবন্ধ আজও বাংলা সাহিত্যে মাইলফলক হয়ে আছে। সুকুমার রায় ননসেন্স ক্লাব ও মন্ডা ক্লাব নামে দুটি ক্লাব খুলেছিলেন। মন্ডা ক্লাবের সদস্যরা সাপ্তাহিক সমাবেশে জুতো সেলাই থেকে চন্ডীপাঠ পর্যন্ত সব বিষয়েই আলোচনা করতেন।

সুকুমার রায় মজার ছড়ার আকারে এই সাপ্তাহিক সভার কয়েকটি আমন্ত্রণপত্র করেছিলেন। সেগুলোর বিষয়বস্তু ছিল মুখ্যত উপস্থিতির অনুরোধ এবং বিশেষ সভার ঘোষনা ইত্যাদি। কবি সুকুমার রায় প্রচ্ছদশিল্পী রূপেও সুনাম অর্জন করেছিলেন।

তার প্রযুক্তিবিদের পরিচয় মেলে নতুন পদ্ধতিতে হাফটোন ব্লক তৈরি আর ইংল্যান্ডের কয়েকটি পত্রিকায় প্রকাশিত তার প্রযুক্তি বিষয়ক রচনাগুলো থেকে।

সুকুমার রায়ের বিভিন্ন সৃষ্টির মধ্যে রয়েছে কবিতা, গল্প, ছড়া আজও আমাদের আলোড়িত করে। সেই তালিকায় তার উল্লেখযোগ্য সৃষ্টির মধ্যে কবিতার বই আবোল তাবোল, গল্প হ য ব র ল, গল্প সংকলন পাগলা দাশু এবং নাটক চলচ্চিত্তচঞ্চরী ইত্যাদি। এছাড়া তার অন্যান্য রচনার মধ্যে খাই খাই, অবাক জলপান, লক্ষণের শক্তিশেল, হেশোরাম হুশিয়ারের ডায়েরী, ঝালাপালা ও অন্যান্য নাটক, বহুরূপী ইত্যাদি।

১৯২৩ খ্রিস্টাব্দে কালাজ্বরে আক্রান্ত হয়ে মাত্র সাঁইত্রিশ বছর বয়সে শিশুসাহিত্যিক সুকুমার রায় মৃত্যুবরণ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

সক্রিয় সেই নেত্রীরা এখন নীরব

স্টাফ রির্পোটার : নবম সংসদ নির্বাচনে বিএনপির সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন ...

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বাংলাদেশে প্রথম একজনের মৃত্যু

স্টাফ রির্পোটার : বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বাংলাদেশে প্রথম ...