ব্রেকিং নিউজ
Home | আন্তর্জাতিক | সিএসআর পুঁজি করে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিজ্ঞাপন

সিএসআর পুঁজি করে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিজ্ঞাপন

স্টাফ রিপোর্টার, ২০ মার্চ, বিডিটুডে ২৪ডটকম : কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপন্সিবিলিটির (সিএসআর) নামে নিজেদের বিজ্ঞাপন প্রচার করে বেড়াচ্ছে তামাক কোম্পানি ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ (বিএটিবি)।

‘ধূমপান ও তামাকজাত পণ্য ব্যবহার ও নিয়ন্ত্রণ আইন ২০০৫’এর ফাঁক গলে তারা তাদের প্রচারণা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।

সম্প্রতি, বান্দরবানের লামা ও আলীকদম উপজেলা ঘুরে দেখা যায়, তামাক চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করতে সিএসআরের নামে নানা প্রকল্প চালাচ্ছে বিএটিবি।

আলীকদম উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর থেকে পাওয়া তথ্যমতে, প্রায় ১ হাজার ২শ একর জমিতে এবারে তামাক চাষ হচ্ছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, জেলায় বিএটিবির সিএসআর প্রকল্প ‘দীপ্ত’ ও ‘বনায়ন’ ছাড়াও কৃষকদের উন্নত প্রশিক্ষণের জন্য ‘কৃষক স্কুল’ চালু রয়েছে।

এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে কোম্পানির বিজ্ঞাপন প্রচার ও কৃষকদের তামাক চাষে উদ্বুদ্ধ করছে বিএটিবি। তবে কৃষকদের উন্নত চাষের প্রশিক্ষণের নামে দেওয়া হচ্ছে কেবল তামাক চাষের প্রশিক্ষণ।

এ রকম একটি স্কুল রয়েছে আলীকদম উপজেলায়। চাষীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, যে সব চাষীর তামাক ১নং গ্রেডের, তারাই শুধু প্রশিক্ষণ পায়। প্রভাবশালী ২০ থেকে ৩০ জন কৃষককে এই প্রশিক্ষণ দেয় বিএটিবি।

২০১১-১২ অর্থবছরে কৃষক স্কুল থেকে প্রশিক্ষণ নেন আলীকদমের প্রভাবশালী কৃষক নয়াপাড়ার রুহুল আমিন, মনসুর, আনোয়ার হোসেন, ইসহাক, সাবের মিয়া পাড়ার আব্দুস সালাম, আব্দুল হামিদ ও পানবাজারের ফারুক, বাজারের ফরিদুল আলম, জাফর আলমসহ অনেকে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এক চাষী জানান, সপ্তাহে একদিন বা দুইদিন ওই স্কুলে যেতে হয়। কীভাবে তামাকের ভালো ফলন করা যায়, সে ব্যাপারেই প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। সম্মানীও দেওয়া হয়। যে সব কৃষক গত মৌসুমে ১নং গ্রেডের ভালো তামাক সরবরাহ করেছেন, শুধুমাত্র তারাই প্রশিক্ষণের সুযোগ পান। এর ফলে ১নং গ্রেডের তামাক উৎপাদনে কৃষকের আগ্রহ বাড়ে বলে জানান তিনি।

বান্দরবানের রাস্তার দুপাশ জুড়েই রয়েছে বিএটিবির সিএসআর প্রকল্প ‘বনায়ন’। মূলত ব্যস্ত সড়কগুলোর দুপাশে এক সারি করে চারা বিতরণ করেছে বিএটিবি। এই প্রকল্পের বিজ্ঞাপনের সাইনবোর্ড রয়েছে পুরো বান্দরবান জেলা জুড়েই। আর এসব সাইন বোর্ডে রয়েছে বিএটিবির লোগো।

বর্তমান আইন অনুযায়ী, তামাক কোম্পানির বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ থাকার কারণে কৌশলে এসব সাইনবোর্ডের মাধ্যমে বিএটিবি প্রচারণা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ তামাক বিরোধী সংস্থাগুলোর।

লামা উপজেলার ব্যবসায়ী চিংপই মার্মা জানান, বিএটিবি রাস্তার দুপাশে যেসব গাছ লাগাচ্ছে, সেগুলোর মধ্যে আছে বেলজিয়াম, একাশি, মেহগনি। কিন্তু, রাস্তার দুপাশে এসব গাছের একটি থেকে অনেকটির মধ্যে বিস্তর ফাঁক রয়েছে।

‘বনায়ন’ প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের গাছের চারা দেওয়া হয় বলে প্রচারণা চালায় বিএটিবি। তবে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মূলত ধৈঞ্চার চারা দেওয়া হয় তামাক চাষীদের। এসব ধৈঞ্চা চাষ করা হয় তিন মাসের জন্য। তামাক পোড়াতে লাকড়ির পাশাপাশি খড়ি হিসেবে ধৈঞ্চা ব্যবহার করা হয়। আর তামাক পোড়ানোর জন্য কিনতে হয় লাকড়ি।

বিএটিবির এক কৃষক জানান, তামাক পোড়ানোর একটা টুন্ডুলে প্রায় ৬০০ মণ লাকড়ি লাগে। ফলে, একজন কৃষকের এক মৌসুমে প্রায় ৪ হাজার ৮০০ মণ লাকড়ি প্রয়োজন হয়।

সিএসআর প্রকল্প ‘দীপ্ত’র মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ দিয়ে পাহাড় আলোকিত করা হচ্ছে বলে প্রচারণা চালাচ্ছে বিএটিবি। তবে লামা উপজেলার বৌদ্ধভিটা ও আলীকদম উপজেলার মহ্নলাপাড়া ঘুরে দেখা গেছে, শুধুমাত্র যে পাড়াতে বিএটিবির চাষী বেশি রয়েছেন, সেখানেই সৌরবিদ্যুৎ দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, এ প্রকল্পের মাধ্যমে যারা তালিকাভুক্ত নন, তাদেরও কোম্পানির আওতায় আনতে চাইছে বিএটিবি।

তামাক বিরোধী বেসরকারি সংস্থা উবিনীগের আলীকদম উপজেলার গবেষক কামালউদ্দিন বাংলানিউজকে বলেন, “বিএটিবি সামাজিক দায়বদ্ধতা কর্মসূচির নামে যে প্রকল্পগুলো চালাচ্ছে, সেগুলো লোক দেখানো। মূলত কৃষকদের তামাক উৎপাদনে উৎসাহিত করতেই এসব কৌশল বেছে নিয়েছে কোম্পানিটি।”

বনায়ন কর্মসূচির নামে সাইনবোর্ড দিয়ে নিজেদের বিজ্ঞাপন প্রচার করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি জানান, তামাক কোম্পানির বনায়ন কর্মসূচির ফলে মাতামুহুরী ও সাঙ্গু নদীর পাড়েও এর উৎপাদন হচ্ছে।

বিদ্যমান আইনের ৫নং ধারায় তামাকজাত দ্রব্যের বিজ্ঞাপন, প্রচারণা ও পৃষ্ঠপোষকতা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ধারার ১(গ)-তে মিডিয়া, বই, বিলবোর্ড, সাইনবোর্ড বা অন্য কোনোভাবে তামাকজাত দ্রব্যের প্রচার করাকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এছাড়াও উপধারা ৪-এ তামাকজাত দ্রব্যের বিজ্ঞাপন প্রচার বা এর ব্যবহার উৎসাহিত করার জন্য কোনো দান বা পুরস্কারের ব্যয়ভার বহনকেও কোম্পানির জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অথচ আইনের ফাঁক গলে সিএসআর-এর প্রচারণার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কোম্পানির প্রচারণা চালাচ্ছে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো।

এসব অভিযোগের ব্যাপারে লামা উপজেলার হরিণঝিরিতে অবস্থিত ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর দায়িত্বরত র্কমকর্তা রিপন কোনো কিছু জানাতে অস্বীকার করেন।

ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইনের (২০০৫) মতো ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) বিল-২০১৩ তেও বলা হয়েছে, তামাক পণ্যের প্রসারের উদ্দেশ্যে এসব কোম্পানির অর্থায়নে কোনো উপহার, বৃত্তি, নগদ টাকা বা ডোনেশন নেওয়া যাবে না।

সিএসআর কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে ধূমপান ও তামাক দ্রব্য (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধনী) বিল ২০১৩ এর ৩নং ধারা অনুযায়ী, কোনো সামাজিক দায়বদ্ধতা কর্মসূচির অংশ হিসেবে সামাজিক কার্যক্রমে অংশ করলেও তামাক বা তামাকজাত দ্রব্যের উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের নাম, সিল, সাইন, প্রতীক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

সিএসআরের নামে তামাক কোম্পানির কৌশলে প্রচারণা বন্ধ করার জন্য এ সব ধারা সম্বলিত বিলটি পাস ও বাস্তবায়ন করা হলে এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করা যাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

x

Check Also

‘গ্রেটার সিলেট এসোসিয়েশন ইন স্পেন’ নির্বাচনে মুজাক্কির – সেলিম প্যানেল বিজয়ী

জিয়াউল হক জুমন, স্পেন প্রতিনিধিঃ সিলেট বিভাগের চারটি জেলা নিয়ে গঠিত গ্রেটার ...

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সাথে পর্তুগাল আওয়ামী লীগের মতবিনিময় সভা

আনোয়ার এইচ খান ফাহিম ইউরোপীয় ব্যুরো প্রধান, পর্তুগালঃ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মোঃ শাহরিয়ার ...