ব্রেকিং নিউজ
Home | বিবিধ | আইন অপরাধ | সাত খুন মামলার পিপির মেয়েকে বিষ খাইয়ে হত্যার চেষ্টা

সাত খুন মামলার পিপির মেয়েকে বিষ খাইয়ে হত্যার চেষ্টা

স্টাফ রিপোর্টার :   নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুন মামলা পরিচালনা করা নারায়ণগঞ্জ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওয়াজেদ আলী খোকনের মেয়ে মাইশা ওয়াজেদ প্রাপ্তিকে (১৯) হত্যা ও অপহরণের চেষ্টা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এসময় বিশ মেশানো বিষাক্ত কিছু ওই মেয়ের মুখে ঢেলে অচেতন করে অপহরণের চেষ্টা করলে মেয়েটি কোনোমতো ছাড়া পায়। তাকে আশংকাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বুধবার (২৩ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় নারায়ণগঞ্জ শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কে নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের বিপরীতে হাজী মঞ্জিল ভিলার নিচতলায় ওই ঘটনা ঘটে।

এর আগে ২২ আগস্ট মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুন মামলায় নিম্ন আদালতে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ২৬ জনের মধ্যে ১১জনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন হাইকোর্ট। আর বিভিন্ন মেয়াদে দণ্ডপ্রাপ্ত অপর ৯ জনের সাজা আগেরটিই বহাল আছে।

গত ১৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালত ২৬ জনের মৃত্যুদণ্ড দেন। নারায়ণগঞ্জ আদালতের পিপি ছিলেন ওয়াজেদ আলী খোকন।

মামলা পরিচালনা করতে গিয়ে কখনো আসামিপক্ষের চোখ রাঙানি, ও রোষাণলে পড়লেও শেষতক কড়াভাবেই আইনী লড়াই চালান ওয়াজেদ আলী খোকন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পরিবার সূত্র জানান, হাজী মঞ্জিলের চতুর্থ তলায় তৌহিদুল ইসলামের ‘ম্যাথ’ কোচিং সেন্টারে প্রাইভেট পড়াশোনা করে মাইশা। সে নারায়ণগঞ্জ এবিসি স্কুলের ও-লেভেলের ছাত্রী। আর তৌহিদুল ইসলামও ওই স্কুলের শিক্ষক। এখানে বিকেল ৪টা হতে রাত ৮টা পর্যন্ত কোচিং পড়ানো হয়।

প্রতিদিনের মতো বিকেল ৬টায় মাইশা প্রাইভেট পড়ার জন্য আসে। সে উপরে উঠার সময় একটি সাদা রঙয়ের ক্যারিনা গাড়িতে করে কয়েকজন যুবক এসে তার গতিরোধ করে। তখন তাকে বলে, তুমি কী ওয়াজেদ আলী খোকনের মেয়ে। মাইশা তখন হ্যাঁ জবাব দেয়। পরে ওই লোকজন বলে, তোমার বাবা তো গতকাল একটা ভালো কাজ করেছে। সে ভালো আইনজীবী। সে ভালো কাজ করেছে। তাই তোমাকে মিষ্টি খাওয়াবো। তখন মাইশা মিষ্টি খেতে অনীহা প্রকাশ করে। এক পর্যায়ে লোকজন একটি পলিথিনে থাকা বিষাক্ত কিছু জোর করে তৃপ্তির মুখে ঢেলে দেয়। তখন সে কোনোমতো ওই স্থান থেকে দৌঁড়ে পালানোর চেষ্টা করে।

আশপাশের লোকজন বিষয়টি দেখে ফেলায় দুর্বৃত্তরা ওই ক্যারিনা গাড়িতে করে দ্রুত দুই নম্বর রেল গেট দিকে পালিয়ে যায়। এক পর্যায়ে মাইশা মুঠোফোনে বিষয়টি তার বাবা ওয়াজেদ আলী খোকনকে জানালে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে তাকে উদ্ধার করে।

প্রথমে তাকে শহরের ৩০০ শয্যা হাসপাতালে পাঠানো হলে তাকে আশংকাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ঘটনাস্থলে যাওয়া নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মঈনুল হক সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা প্রত্যক্ষদর্শী ও পরিবার থেকে জেনেছি তিনজন যুবক এসে মাইশাকে বিষাক্ত কিছু খাওয়ানোর চেষ্টা করেছে। বিষয়গুলো তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

সাত খুনের মামলা পরিচালনার কারণেই কী এ ধরনের ঘটনা কী না জানতে চাইলে পুলিশ সুপার বলেন, ‘পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে সাত খুনের মামলার কারণে মিষ্টি খাওয়ানোর নামে বিষ খাওয়ানেরা চেষ্টা করা হয়। তবে পুরো বিষয় আমরা তদন্ত করে দেখছি। তদন্তের আগে স্পষ্ট করেই বলা যাচ্ছে না।’

এদিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ডাক্তার একেএম তারেক জানান, প্রাপ্তিকে বিষাক্ত কিছু খাওয়ানো হয়েছিল। সেটা ইতোমধ্যে ওয়াশ করা হয়েছে। এখন অবস্থা শংকামুক্ত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

আলোকস্বল্পতার কারণে পরিত্যক্ত সিলেট -খুলনার ম্যাচটি

স্পোর্টস ডেস্ক :   গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি আর লাইভ সম্প্রচারে আলোকস্বল্পতার কারণে ...

ভিসা ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি পাচ্ছেন ইসরাইলের নাগরিকরা

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : ভিসা ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি পাচ্ছেন ইসরাইলের নাগরিকরা। সোমবার ...